× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রূপগঞ্জে মোঘলের অপরাধ সাম্রাজ্য

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৪ ০৯:১৬ এএম

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৪ ২৩:৫৯ পিএম

তারিকুল ইসলাম মোঘল। প্রবা ফটো

তারিকুল ইসলাম মোঘল। প্রবা ফটো

রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভায় ভূমিদানব বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ওরফে শাহ আলমের বিশ্বস্ত ক্যাডার তারিকুল ইসলাম মোঘল। তার ঠাটবাটে যেন বিদ্যুৎ চমকায়। অথচ একসময় নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা ছিল তার। শাহ আলমের ভূমিদস্যুতার সহযোগী হয়ে সেই মোঘল এখন শত কোটি টাকার মালিক। চলাফেরা করেন বিলাসবহুল গাড়িতে। বসবাসের জন্য বানিয়েছেন প্রাসাদোপম বাড়ি। আরও বানিয়েছেন চোখধাঁধানো ডিজাইনের বাগানবাড়ি। যেখানে নিয়মিত বসে আনন্দ জলসা। মোঘলের বাহিনীতে রয়েছে অবৈধ অস্ত্রধারী দুই শতাধিক ক্যাডার। ভূমিদস্যু বসুন্ধরা গ্রুপের ছত্রছায়ায় থেকে নির্বিচারে নানান অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে এই ‘মোঘল বাহিনী’। দৃশ্যমান কোনো আয় না থাকলেও ভূমিদস্যুদের হয়ে খাসজমি দখল, অন্যের জমি জবরদখল করে বিক্রি করাই মোঘলের প্রধান কাজ। এলাকার অনেক মানুষই তাকে ডাকে ‘নরকের কীট’ বলে। প্রায়ই তাকে দেখা যায় ভূমিখেকো শাহ আলমের বাসায়। 

জানা গেছে, মোঘলের বাবা হারুন অর রশীদ ছিলেন একজন রিফিউজি (শরণার্থী)। যিনি পরে আশরাফ জুট (বর্তমানে উত্তরা) মিলে কেরানি হিসেবে চাকরি করেন। এক বেলা ভাত জুটলে, অন্য বেলা অনাহারে কাটাতে হতো মোঘলের পরিবারকে। এ রকম একটি পরিবারের ছেলে হয়েও একসময় যেন আলাদিনের চেরাগ পেয়ে আঙুল ফুল কলাগাছ হয়ে যান মোঘল। লোকে বলে, আলাদিন নয়, ভূমিদস্যু শাহ আলমের চেরাগ হাতে পেয়েই মোঘলের এমন জৌলুস।

কাঞ্চন পৌর এলাকায় মোঘল বাহিনীর রয়েছে অবৈধ অস্ত্রের বিশাল ভান্ডার। দেশি-বিদেশি পিস্তল, শটগান, দা-ছুরিসহ নানা অস্ত্রে সজ্জিত থাকে এই বাহিনী। মোঘলের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার ফাঁসির দাবিতে কাঞ্চন এলাকায় বহুবার বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন হয়েছে। মোঘলের ছোট ভাই শফির বিরুদ্ধেও রয়েছে ট্রিপল মার্ডারের অভিযোগ। 

স্থানীয়রা জানান, কেন্দুয়া এলাকায় তৈরি করা মোঘলের সুরম্য অট্টালিকা সবার নজর কাড়ে। বাইরে নামফলকে লেখা ‘তাওহিদ নূর প্রাসাদ’। হোল্ডিং নম্বর ০১৭৬০০। এই বাড়িতে বসে অবৈধ জুয়ার আসর। চলে ক্যাসিনো খেলা। যার সুবাদে শ্রীলঙ্কা, দুবাই, নেপাল, মালয়েশিয়াসহ বিদেশে বড় বড় ক্যাসিনোতে বিশেষ কদর রয়েছে মোঘলের।

কাঞ্চন পৌরসভা এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোঘলের ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে তটস্থ থাকেন ওই এলাকার মানুষ। মোঘলের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগের শেষ নেই। কাঞ্চন পৌর এলাকা ও কেন্দুয়ার মানুষ যেন এই মোঘল ‘সাম্রাজ্য’-এর প্রজা! 

স্থানীয়রা জানান, ভূমিদস্যু শাহ আলম নামমাত্র দামে কাঞ্চন পৌরসভার সাবেক মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশার ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছেন। কাঞ্চন ব্রিজের কাছে দুই একর সম্পত্তি ছিল বাদশার। প্রতারণার মাধ্যমে মাত্র ৫ কোটি টাকা দিয়ে ওই জমি লিখে নেন শাহ আলম। সেই জমিতে বসান রেডিমিক্স কারখানা। আর ওই জমি পাহারা দেন মোঘল ও তার বাহিনী। 

দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা বলেন, কাঞ্চন সেতুর কাছে আমার ২০০ শতাংশ বা দুই একর জমি ছিল। ২০১৮ সালের শেষদিকে আমি জমিটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিই। এলাকার সাবেক কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান মোল্লা (আসাদ কমিশনার) আমাকে শাহ আলমের কাছে নিয়ে যান। সেখানে বসেই শাহ আলম ২৫ কোটি টাকা মূল্য নির্ধারণ করে আমার জমি কিনতে চান। যার অগ্রিম বাবদ কয়েক কিস্তিতে আমাকে ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেন। জমি রেজিস্ট্রির সময় অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করা হবে বলে পাকা কথা দেন। আমি সরল বিশ্বাসে একমত হয়ে ২০০ শতাংশ জমি বসুন্ধরাকে রেজিস্ট্রি করে দিই। এরপর শুরু হয় আমার বিড়ম্বনা। শাহ আলমের কাছে টাকা চাইতে গেলে বসুন্ধরা গ্রুপের পালিত গুন্ডা মোঘল আমাকে প্রাণনাশের ও এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেন। শুধু আমার জমিই নয়; মোঘলের মাধ্যমে বসুন্ধরা গ্রুপ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমি অবৈধভাবে দখল করেছে।

বাড়ি তো নয় যেন রাজপ্রাসাদ 

কেন্দুয়া এলাকায় মোঘলের সুরম্য অট্টালিকা পথচারীদের নজর কেড়ে নেয়। আলোচিত এই বাড়িটি যেন মোঘলের বিপুল বিত্তবৈভবের চোখধাঁধানো সাইনবোর্ড। দুর্ভেদ্য নিরাপত্তাবলয়ে ঘেরা এই বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় অনেকেই থমকে দাঁড়ান। অন্তত ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল জায়গার ওপর। বাড়ির ৩টি ফ্লোরের আয়তন ১৪ হাজার বর্গফুটের বেশি। সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত এ বাড়ির নিরাপত্তায় রয়েছে সার্বক্ষণিক অস্ত্রধারী প্রহরী। বাড়ির অন্দরমহল ঘুরে দেখেছেন এমন কয়েকজন জানান, অত্যাধুনিক স্থাপত্যশৈলীর ছোঁয়া রয়েছে বাড়িটির সর্বত্র। আছে পাঁচতারকা হোটেলের মতো সুযোগসুবিধা। ভেতরে বিশাল সুইমিং পুল, খেলার মাঠ, বাগান, ল্যাম্পপোস্ট এবং ওয়াকওয়ে রয়েছে। রাজপ্রাসাদ বললেও ভুল বলা হবে না। প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই বিশাল লন, ল্যান্ডস্কেপসহ বাগান পার হলে দেখা যাবে আরেকটি লন। এরপর কারুকার্যময় বিশাল সিংহদরজা। বাম পাশে জাঁকজমকপূর্ণ আসবাবে ঠাসা ড্রইংরুম। চোখে পড়বে রাজকীয় ঝাড়বাতি। বিদেশি মার্বেল পাথরে বাঁধানো সিঁড়ি উঠে গেছে দোতলায়। সিঁড়ির নিচে দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা। সেখানে সাঁতরে বেড়াচ্ছে রঙিন মাছ। বাড়ির প্রতিটি কক্ষে বিশালাকার টিভি পর্দাসহ অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম। টিভির সংখ্যা এক ডজন। বুলেটপ্রুফ গ্লাস দিয়ে তৈরি বাড়িটি কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। দোতলার পাশ দিয়ে আরেকটি সিঁড়ি উঠে গেছে তৃতীয় তলায়। পাশেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির স্বয়ংক্রিয় সেন্সরযুক্ত লিফট। তৃতীয় তলায় কৃত্রিম ঘাস লাগিয়ে করা হয়েছে টানা বারান্দা। এর পাশে মিউজিক রুম। বৃষ্টিবিলাসের জন্য ছাদে রয়েছে বিদেশি কাচ দিয়ে ঘেরা বসার ব্যবস্থা। সেখানে বসলে মনে হবে যেন সরাসরি মাথার ওপরই বৃষ্টি পড়ছে। বাড়িতে আছে জ্যাকুজি, সনা বাথ এবং জিমনেসিয়াম। নির্মাণশৈলীর কারণে বাইরে থেকে বাড়িটি ডুপ্লেক্স মনে হলেও আসলে এটি ট্রিপ্লেক্স। বাড়ির সামনে অপরিচিত কারও দাঁড়িয়ে থাকাও নিষিদ্ধ।

মোঘলের রমরমা ক্যাসিনো কারবার 

শ্রীলঙ্কা, দুবাই, নেপাল ও মালয়েশিয়ার বড় বড় ক্যাসিনোতে মোঘলের বিশেষ সমাদর রয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। তার নামে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসে বিজনেস ক্লাসের টিকিট এবং পাঁচতারকা হোটেলে বিশেষ স্যুইট বরাদ্দ থাকে। বিদেশের ক্যাসিনোতে মোঘলের অন্যতম সঙ্গী মিরপুর এলাকার কুখ্যাত জুয়াড়ি মনির ওরফে আমেরিকান মনির ও সোহেল খান। মাঝেমধ্যে বিদেশে যেতে না পারলে দেশে বসেই বিশেষ ব্যবস্থায় ভার্চুয়ালি ক্যাসিনো খেলে শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়ার ক্যাসিনো কোর্টে। সোহেল খান ও আমেরিকান মনির বিদেশের ক্যাসিনো টেবিল থেকে ভিডিও কল দেয়। নিজের বাগানবাড়িতে বসে ক্যাসিনোতে অংশ নেন মোঘল। এ ছাড়া নিয়মিত নেপাল ও মালয়েশিয়ার ক্যাসিনোতে খেলতে যান। প্রতিবার বিদেশে যাওয়ার আগে কমপক্ষে ১৫-২০ কোটি টাকা হুন্ডি করে নিয়ে যান। কামরুল নামের বিশ্বস্ত এক হুন্ডি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে টাকা বিদেশে নেন মোঘল। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী নেতা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেকেই তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মাসোহারা নেন।

মোঘল ও আমেরিকান মনিরের নামে শ্রীলঙ্কার বেলিস ক্যাসিনো থেকে ইস্যু করা এয়ারলাইনসের টিকিটের কপি সম্প্রতি সাংবাদিকদের হাতে আসে। তাতে দেখা যায়, ব্যালিস ক্যাসিনোর এজেন্ট নালিন মাঞ্জুলা ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ মোঘল ও মনিরের নামে বিজনেস ক্লাসের ৪টি টিকিট পাঠান। টিকিটে তাদের দুজনের ক্যাসিনো মেম্বারশিপ নম্বর বিএম ৫৭৩৬৬ (তারিকুল ইসলাম মোঘল) এবং বিএম ৫২৬৫৫ (মনির উদ্দিন) উল্লেখ করা হয়।

ইমিগ্রেশন পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী ২০১৭ সাল থেকে মোঘল নিয়মিত শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, দুবাই ও থাইল্যান্ডে যাতায়াত করছেন। তিন বছরে শুধু মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও দুবাইয়ে তার যাতায়াত হয়েছে শতাধিকবার। 

মোঘলের বিদেশ যাতায়াতের তথ্য পর্যালোচনা করে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বিদেশে যাতায়াত করাটা তার কাছে অনেকটা ডালভাতের মতো। কারণ ২০১৯ সালের ২ জানুয়ারি তিনি কলম্বো গিয়ে ফিরেছেন ৬ দিন পর। আবার ১৯ জানুয়ারি গিয়ে ফিরেছেন ১০ দিন পর। মার্চ ও এপ্রিলেও পরপর কয়েক দফা তিনি কলম্বো যান। ৬ মার্চ কলম্বো গিয়ে ফেরেন ১১ মার্চ। আবার ১৫ মার্চ গিয়ে ফেরেন ১৯ মার্চ। ১১ এপ্রিল গিয়ে ফিরে আসেন ১৭ এপ্রিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোঘলের সবচেয়ে বেশি যাতায়াত কলম্বোর বেলিস ক্যাসিনোতে। মাঝেমধ্যে তাকে দেখা যায় মালয়েশিয়ার গেটিং হাইল্যান্ড ক্যাসিনোতে। তবে সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে ক্যাসিনোতে তিনি ব্ল‍্যাক লিস্টেড। মোঘল দুবাইয়ে বিমানবন্দরে ই-গেট দিয়ে প্রবেশ করেন বিনা বাধায়। কারণ তিনি দুবাইয়ের স্থায়ী রেসিডেন্ট কার্ডহোল্ডার। বিপুল অঙ্কের টাকায় বিনিয়োগকারী ক্যাটাগরিতে দুবাইয়ের রেসিডেন্ট কার্ড নিয়েছেন তিনি। তার দুবাই রেসিডেন্ট আইডি নম্বর ৫৭২৩৬৪৬০।

মোঘলের গাড়িবিলাস 

মোঘলের পরিবার কোটি টাকা মূল্যের বেশ কয়েকটি গাড়ি ব্যবহার করে। নিজে ব্যবহার করেন দুটি বিলাসবহুল গাড়ি। এর মধ্যে একটি মিটসুবিসি পাজেরো (নম্বর ঢাকা মেট্রো ১৮-৫২০৮) এবং অপরটি ৪ কোটি টাকা মূল্যের ভি৮ সাহারা ল্যান্ডক্রুজার (নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৫-৭৫৫০)। প্রথম গাড়িটি তার নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করা হলেও অপরটি ভিন্ন নামে। শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা সাহারা ল্যান্ডক্রুজার গাড়িটি প্রয়াত এক নারী এমপির নামে রেজিস্ট্রেশন করা।

মোঘলের ক্যাডার বাহিনী 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাঞ্চন এলাকায় মোঘলের বিশাল বাহিনী রয়েছে। কয়েকজন অস্ত্রধারী বডিগার্ড তাকে সার্বক্ষণিক পাহারা দেন। মাঝেমধ্যে তাদের পাঠানো হয় জমি দখলের কাজে। মোঘলের ক্যাডারদের মধ্যে মহিন মোল্লা, আতিকুর, নাজমুল, শাহদাৎ, শাহ আলম, হালিম, গিয়াস উদ্দিন, সুজন, সজিব, আহাদ মাস্টার, আনোয়ার পারভেজ টিপু, নবীউল হাসান শান্ত অন্যতম। এ ছাড়া জাল দলিল তৈরিতে সিদ্ধহস্ত লোকজনের বিশেষ টিম আছে মোঘলের। জমির ভুয়া ওয়ারিশ সাজিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বানানো হয়। এরপর রেজিস্ট্রি অফিসের সহযোগিতায় জাল দলিল সৃজনের পর অস্ত্রের মুখে উচ্ছেদ করা হয় মালিকদের। এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে অগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে যখন তখন গুলি ছোড়ে মোঘলের লোকজন। 

মোঘল বাহিনী অস্ত্রের জোরে কেন্দুয়া, হল্লারটেক, জাল্লাপাড়া, তারোইল, কড়াটিয়া, আঙ্গারজোড়া, বিরোব ও কাঞ্চন এলাকায় শত শত বিঘা জমি দখল করে নিয়েছে। বিশেষ করে কেন্দুয়া ও হল্লারটেক এলাকায় অসংখ্য মানুষকে অস্ত্রের মুখে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করেছে এই বাহিনী। অনেকের চাষযোগ্য বিস্তীর্ণ ফসলি জমি রাতারাতি বালু ভরাটের ফলে বেদখল হয়ে গেছে।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেন্দুয়া এলাকার চাঁন টেক্সটাইলের বিপরীতে অন্তত ৪০ বিঘা জায়গা জবরদখল করে ওই জমিতে মোঘলের নামে সাইনবোর্ড লাগানো আছে। এ ছাড়া কেন্দুয়ার মোস্তাপুর এলাকায় দখল করা জমিতে তিনি নির্মাণ করেছেন বাগানবাড়ি। ওই বাড়িতে রয়েছে এক ডজন হরিণ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাংলো, দেশি-বিদেশি ফলের বাগান, পুকুর ও অফিস। বাংলো পাহারায় সার্বক্ষণিক ৪ থেকে ৫ জন কর্মচারী থাকেন। বাগানবাড়ির কেয়ারটেকার (নাম বলতে চাননি) বলেন, ‘২-১ দিন পরপরই স্যার এখানে আসেন। হরিণগুলো তার খুব প্রিয়। মাঝেমধ্যে বন্ধুবান্ধব নিয়ে এখানে পার্টি করেন, পানিপুনি খান, নাচগান করেন।’

শাহ আলমের দরবারে মোঘলের বিশেষ কদর 

সম্প্রতি ভূমিদস্যু বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহ আলমের বাড়ির সদর দরজায় দাঁড়িয়ে তার সঙ্গে সলাপরামর্শরত অবস্থায় মোঘলের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ছবিতে দেখা যায়, শাহ আলমের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন নাওড়ায় ছিচকে চোর হিসেবে পরিচিত আমির হামজা ওরফে ভুট্টো, আলাদী প্রধান ও কাঞ্চনের মোঘল। এরা সবাই ভূমিখেকো দালাল, ভয়ংকর সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি হিসেবে কুখ্যাত। শাহ আলমের বাড়িতে এদের রয়েছে অবাধ যাতায়াত। ওই দরবারে রয়েছে তাদের বিশেষ কদরও।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা