× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হরতাল-অবরোধ

বাসে আগুন দিচ্ছে কারা

আলাউদ্দিন আরিফ

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৩ ০৮:৪১ এএম

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৩ ১১:০৭ এএম

বাসে আগুন দিচ্ছে কারা

২৮ অক্টোবর থেকে ১০ দিন ধরে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় রাজধানীসহ সারা দেশে ১২৫টি গাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেল। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তাদের মতে সব খবর ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলে পৌঁছায় না। সহিংসতার আগুনে ভস্মীভূত হওয়া যানবাহনের অধিকাংশই বাস। 

রাজপথে বিপুল পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার এবং বিভিন্ন পয়েন্টে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানের পরও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা কমছে না। বরং চোরাগোপ্তা হামলা বেড়েই চলেছে। আগুনের ঘটনা যত বাড়ছে জনমনে আতঙ্কও তত বাড়ছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষ বাইরে বের হচ্ছে কম। কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু করেছে। যেগুলো অফলাইনে চলছে সেগুলোতেও শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার কম। সরকারি দলের পক্ষ থেকে বরাবরই আগুনসন্ত্রাসের জন্য আন্দোলনকারী বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করা হচ্ছে। গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। পুলিশ প্রমাণ তুলে ধরে বলেছে, ‘গাড়িতে আগুন দেওয়ার সঙ্গে বিএনপি ও অঙ্গ দলের নেতাকর্মীরা জড়িত। ঊর্ধ্বতন নেতাদের নির্দেশে দলীয় কর্মীরা জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে এসব আগুন দিচ্ছে। বিনিময়ে পুরস্কার হিসেবে নগদ টাকাও পাচ্ছে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা।’ 

এদিকে গাড়িতে অগ্নিসংযোগকারীদের ধরিয়ে দিতে মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান ২০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। সোমবার পেট্রোল পাম্প মালিকদের সঙ্গে এক সভা শেষে তিনি বলেন, ‘গাড়িতে অগ্নিসংযোগকারীদের কেউ ধরিয়ে দিতে পারলে তাকে ২০ হাজার টাকা নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে।’ একই সঙ্গে থানার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যেসব থানা এলাকায় পেট্রোল পাম্প রয়েছে ওই থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিনে একবার পাম্প পরিদর্শন করবেন। পেট্রোল পাম্পগুলোর সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক বাড়াতে হবে। যোগাযোগটা সব সময় রাখতে হবে।’

গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করছে বিএনপি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাসে আগুন বা বোমা হামলা চালিয়ে বিএনপির ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন স্থানে প্রত্যক্ষদর্শীরা আগুন লাগার বর্ণনা দিয়ে সরকারের এসব গোমর ফাঁস করে দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলে দিচ্ছে সরকারের লোকেরাই এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।’ 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল সোমবার বলেন, ‘সরকার শুরু থেকেই আগুন নিয়ে খেলছে। তারা বাসে আগুন দিয়ে দায় চাপায় আমাদের ওপর। মানুষের এখন বুঝতে বাকি নেই কারা বাসে আগুন দিচ্ছে।’ 

বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের দায়ী করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘তারা চোরাগোপ্তা হামলা করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য। কিন্তু তাদের এই অবরোধের সংস্কৃতি ভোঁতা হয়ে গেছে। এসব আন্দোলনে মানুষের ন্যূনতম সমর্থন নেই জেনেও তারা ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করতে অতীতের মতো যানবাহনে আগুন দিচ্ছে। পুড়িয়ে মানুষ মারছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে তারা কখনও সফল হবে না।’ 

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) মির্জা আজম বলেন, ‘বিএনপি কর্মসূচি দেয় অথচ দলের একজনকেও মাঠেঘাটে খুঁজে পাওয়া যায় না। হুট করে একটা চোরাগোপ্তা হামলা করে চলে যায়। বোমা মারে, আগুন দেয়, গাড়ি ভাঙচুর করে। মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টির জন্যই অতীতের আগুনসন্ত্রাসের মতো এবারও তারা এসব করছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত কয়েক দিন ধরে তার প্রায় সব বক্তব্যেই বিএনপি-জামায়াতের আগুনসন্ত্রাস প্রতিহত করার জন্য দেশবাসী এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের সিনিয়র প্রায় সব নেতাও তাদের বক্তব্যে একইরকম আহ্বান রাখছেন। 

তবে এর মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচার চলছে। ছড়ানো হচ্ছে গুজবও। ফেসবুক ও ইউটিউবে বেশ কিছু পেজ থেকে সরকারি দলের কর্মী বা পুলিশ সদস্যরা বাসে আগুন দিচ্ছে বলে নানান অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ২৮ অক্টোবর রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে একটি বাসে আগুন দেওয়ার পর গাড়িচালক প্রকাশ্যে বলতে থাকেন, ‘ডিবির পোশাক পরা দুই ব্যক্তি বাসে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়েছে।’ এই অভিযোগ সম্পর্কে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘প্রেস’ লেখা ভেস্ট পরে যুব দলের নেতা মহিউদ্দিন নয়ন ওই দিন রাজধানীতে বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয়। ‘প্রেস’ লেখা ভেস্ট দেখে ওই গাড়িচালক তাকে ডিবির লোক মনে করেন। পরে মহিউদ্দিন নয়নকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে প্রেস লেখা ভেস্ট পরে গাড়িতে আগুন দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলেও জানান ডিবি প্রধান। 

বিএনপির ডাকা অবরোধ ও হরতালের সময় যাত্রীবেশে বাসে উঠে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ছাত্রদলের সূত্রাপুর থানার যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেন রকি ও তার সহযোগী সাবিক ওরফে আরোহানকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট (সিটিটিসি)। সংস্থাটির প্রধান মো. আসাদুজ্জামান গতকাল সোমবার জানান, রবিবার মধ্যরাতে বাবুবাজার ব্রিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে বোতলভর্তি পেট্রোল উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১ নভেম্বর অবরোধ চলাকালে মুগদায় মিডলাইন পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়ার সময় আল-আমিন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন জানায়, ছাত্রদলের মিজানুর রহমানের নির্দেশে সে বাসে আগুন দিয়েছে। মিজান আমির হোসেন রকির অধীনে রাজনীতি করে। 

আসাদুজ্জামান বলেন, হরতাল ও প্রথম অরোধের সময় একটি বাসে আগুন দিলে রকি ৩ হাজার টাকা পুরস্কার দিত। দ্বিতীয় অবরোধে সেটি ডাবল করার ঘোষণা দিয়েছে। আগুন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা বিকাশে পুরস্কার পাঠিয়ে দিত। আগুনের নির্দেশদাতা হিসেবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতার নাম জেনেছে সিসিটিসি। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম এখনই প্রকাশ করা হবে না। 

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৮ অক্টোবর থেকে তারা ১২৫টি যানবাহনে আগুন দেওয়ার খবর পেয়েছে। এর মধ্যে গত ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ ও ২৯ অক্টোবরে হরতালের দিন ৪৫টি যাবনাহনে আগুন দেওয়া হয়। ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত আগুন দেওয়া হয়েছে ৩৭টিতে। ফায়ার সার্ভিস মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী ২৮ অক্টোবর ২৯টি, ২৯ অক্টোবর ১৯টি, ৩০ অক্টোবর ১টি, ৩১ অক্টোবর ১১টি, ১ নভেম্বর ১৪টি ও ২ নভেম্বর ৮টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। গত শনিবার ৪ নভেম্বর কোনো কর্মসূচি না থাকলেও ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রবিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত আগুন দেওয়া হয় ১২টি যানবাহনে। আর দ্বিতীয় দফায় ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ চলাকালে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২১টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা