প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৩ ১৫:৩৩ পিএম
সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ভণ্ডপীর ইকবাল হোসাইন।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে লিচু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন শাহ সুন্নি আল কাদেরী ওরফে মাওলানা প্রফেসর মো. ইকবাল হোসাইন নামের এক পীরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। রাজধানীর মিরপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার (১৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, গত ২ জুন কুমিল্লার দেবিদ্বারে ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। তখন থেকেই র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। র্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১১ এর যৌথ অভিযানে রবিবার রাতে রাজধানীর মিরপুরে অভিযান চালিয়ে ভণ্ড পীর ইকবাল হোসাইনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেন র্যাবের কর্মকর্তা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র্যাব জানায়, ওই শিশুকে বাড়ির পাশের খেলার মাঠ থেকে লিচু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আস্তানায় নিয়ে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি সেখান থেকে পালিয়ে বাড়ি গেলে তার মা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এমনকি ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই শিশুর পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে পীর ও তার ভক্তদের বিরুদ্ধে।
খন্দকার আল মঈন বলেন, ইকবাল কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার এক পীরের মুরিদ হন। এরপর নিজেই একটি আস্তানা গড়ে তোলেন। সেখানে তিনি সপ্তাহে একদিন আসর বসাতেন। আস্তানায় মাদকসহ নানা অবৈধ কাজকর্ম চলত।
র্যাব জানায়, বেশ কয়েকবার অসামাজিক কাজকর্মে লিপ্ত থাকার দায়ে ইকবালকে স্থানীয়রা ধরে ফেলেন। পরে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়ে একই কাজ করেন।
ইকবাল ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জনের জন্য বেশভূষায় পরিবর্তন করে ধর্মীয় লেবাস ধারণ করেন। পরে লোকজন তাকে পীল হিসেবে মান্যগণ্য শুরু করে। তারই ফায়দা নিতে থাকেন বলেও র্যাব জানায়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান র্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন।