চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৩ ২০:২৩ পিএম
কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম শহরে পাচারকালে সাড়ে নয় কেজি স্বর্ণসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রবা ফটো
কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম শহরে পাচারকালে সাড়ে নয় কেজি স্বর্ণসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচল করা মারসা পরিবহনের একটি বাসের যাত্রী ছিলেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- অলোক ধর, নারায়ন ধর, জুলি ধর ও গীতা ধর। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নে। এর আগেও তারা কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে স্বর্ণ নিয়ে এসেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী বাসটি শুক্রবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কর্ণফুলী থানাধীন নতুন ব্রীজের মইজ্জ্যারটেক এলাকায় পৌঁছালে বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে আটক চারজনের মধ্যে দুই নারীর কাছ থেকে স্বর্ণ গলিয়ে বানানো ৭৫টি বার এবং ৫৪টি রোল উদ্ধার করা হয়।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ বলেন, ‘বাসযোগে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে নিয়ে আসা হচ্ছে, এমন গোপন সংবাদ থাকায় আমাদের একটি চৌকশ দল মইজ্জ্যারটেক এলাকায় মারসা পরিবহনের বাসটি থামিয়ে তল্লাশি চালায়। এ সময় চারজনের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের শরীর তল্লাশি করে দুই নারীর কোমরে বেল্ট আকারে বাঁধা অবস্থায় স্বর্ণ গলিয়ে বানানো ৭৫টি বার এবং ৫৪টি রোল পাওয়া যায়। উদ্ধার স্বর্ণের ওজন নয় কেজি ৬২২ গ্রাম।’
ওসি বলেন, ‘আটক চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, কক্সবাজার থেকে এক ব্যক্তি তাদেরকে স্বর্ণগুলো দিয়েছে। এগুলো তারা নগরীর হাজারী লেইনে পৌঁছানোর কথা ছিল। সেখানে কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাইনি। কাদের হয়ে এই স্বর্ণগুলো তারা পাচার করছে আমরা সেটি খতিয়ে দেখছি। এর আগে আরও একবার তারা কক্সবাজার থেকে স্বর্ণ নিয়ে এসেছিল বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি স্বর্ণগুলো মিয়ানমার থেকে আনা হয়েছে। কারণ এর আগেও টেকনাফ থেকে সড়ক পথে চট্টগ্রামে স্বর্ণ পাচারের সময় একাধিকবার আইনশৃংখলা বাহিনী পাচারকারীদের আটক করেছে।’
ওসি বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনও মামলা দায়ের হয়নি। স্বর্ণগুলো পরীক্ষার পর কোন ক্যারেটের, বারগুলোতে ঠিক কী পরিমাণ স্বর্ণ রয়েছে, এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হবে। তবে মামলা দায়েরের আগেই আমরা তাদেরকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়ে দেব। এরপর স্বর্ণগুলো পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সেই আলোকে মামলা দায়ের করা হবে।’
ওসি আরও বলেন, আটক চারজনের সঙ্গে দুটি শিশু রয়েছে। দুই শিশুর মধ্যে একজনের বয়স আনুমানিক ৫ বছর হবে। আটক চারজনের আত্মীয়-স্বজন এলে ওই শিশুকে তাদের জিম্মায় দিয়ে দেওয়া হবে। অন্য শিশুটির বয়স দেড় বছর হবে, শিশুটি তার মায়ের সঙ্গেই থাকবে।’