প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৩ ১৪:০৫ পিএম
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৩ ১৪:৫৬ পিএম
পকেটমার চক্রের গ্রেপ্তারকৃত সদস্যরা। প্রবা ফটো
রাজধানীতে নারী পকেটমার চক্রের ১৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৯ জন পকেটমার আর সাতজন তাদের 'মহাজন'। চক্রটি হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ ও শপিং মলে বাচ্চা কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। সুযোগ পেলেই নারীদের ব্যাগ থেকে তুলে নেয় মোবাইল ফোন।
মঙ্গলবার (১৩ জুন) রাজধানীর লালবাগ থানার পিলখানা রোডের (আজিমপুর রোড) ভিকারুননিসা স্কুলের মেইন গেটের বিপরীত পাশ এবং গুলিস্থান এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বর্ষা আক্তার ওরফে মীম, সুমি আক্তার প্রিয়া, শাবনুর, আলেয়া ওরফে আলো, সাথী আক্তার, ছকিনা বেগম, সুজনা আক্তার ওরফে সুজিনা আক্তার ওরফে রুশকিনা, তানিয়া খানম, তাসলিমা খাতুন, মাহাবুব হোসেন, মোক্তার হোসেন, রফিকুল ইসলাম, ইমরান হোসেন, ছৈয়দ হালদার, আশরাফ ঢালী ও জাকির হোসেন।
বুধবার (১৪ জুন) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান। তিনি বলেন, কখনও বোরকা পরা পর্দাশীল নারী, আবার কখনও বাচ্চা কোলে স্নেহময়ী মা। পর্দানশীল মায়ের পরিচয়ে মুহূর্তেই ঢুকে যায় জনারণ্যে। চোখের পলকে নারী ও পুরুষের পকেট বা ব্যাগ কেটে চুরি করে ফেলে নগদ টাকা, মোবাইল এবং ব্যাগে রাখা স্বর্ণালংকার। বিক্রি করে দেয় কিছু 'মহাজনের' কাছে যারা লাখ টাকার একটি ঝকঝকে আইফোনের জন্য দেয় ছয় থেকে সাত হাজার টাকা।
তিনি বলেন, একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাজধানীর একটি শপিং মল থেকে এক মহিলার ব্যাগ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে দ্রুত কেটে পড়ছে আলেয়া। ১০ বছর বয়স থেকে সে মোবাইল চুরির কাজে যুক্ত হয়।
মশিউর রহমান বলেন, তারা একটি অভ্যাসগত ও সংঘবদ্ধ চোর দলের সদস্য। দীর্ঘদিন যাবত তারা ঢাকা মহানগরের নিউ মার্কেট, আজিমপুরসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, স্কুল-কলেজ, মার্কেট ও হাসপাতালে বিশেষ কৌশলে নারীদের ভ্যানিটি ব্যাগের চেইন খুলে এবং পুরুষদের শার্ট প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইল ও নগদ টাকা চুরি করে থাকে। আসামি মাহাবুব হোসেন, মোক্তার হোসেন, রফিকুল ইসলাম এবং ইমরান হোসেনসহ আরও কয়েকজন চুরির কাজে কখনও কখনও সরাসরি অংশ নেয়। চোরাই মোবাইল বিক্রি করে চোরদের মধ্যে টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়। তাদের আরও চার থেকে পাঁচজন সহযোগী আশেপাশের এলাকায় মোবাইল চুরি করে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
তিনি বলেন, রাজধানীতে নারী পকেটমারের সংখ্যা কত সেটা আমরা এখনও জানতে পারিনি। তবে তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ জনের নাম জেনেছি। রাজধানীতে অনেক মানুষ রয়েছে যারা মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে জিডিও করেন না। আমরা যে ৪০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছি তার মধ্যে একটির জিডি রয়েছে।
মোবাইল হারিয়ে গেলে আইনি পদক্ষেপ নিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা।