প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৩ ২০:৫৪ পিএম
আপডেট : ০৭ জুন ২০২৩ ২১:১৫ পিএম
গরমে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) নিজের বক্তব্য জানাতে হাজির হননি বাংলা টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সামাদুল হক। অসুস্থতা থেকে সেরে উঠে বক্তব্য জানাতে দুই মাস সময় চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি।
এ ছাড়া ওই টিভির আরও তিন কর্মকর্তা তাদের পরিবারের সদস্যদের অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়ে বুধবার (৭ জুন) দুদকে যাননি। তাদের কেউ দুই মাস, কেউ তিন মাসের সময় আবেদন করেছেন।
বাংলা টিভির ওই তিন কর্মকর্তা হলেন, পরিচালক রিফাতুজ্জামান, শান্তনু ও মনিরুল ইসলাম। তাদের মধ্যে একজনের স্ত্রী, একজনের মা এবং একজনের বাবা অসুস্থ বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার তাদের দুদকে হাজির হয়ে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দিতে নোটিস পাঠিয়েছিল দুদক।
দুদক বলছে, একসঙ্গে বাংলা টিভির চারজনের অভিনব কায়দায় অদ্ভুত কারণ দেখিয়ে সময়ের আবেদন তাদের বিস্মিত করেছে।
সংস্থার একজন পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ’মানুষের অজুহাত থাকতে পারে। সেজন্য চারজনেরই কারও না কারও অসুস্থতাকে অজুহাত দেখিয়ে হাজির না হওয়াটা রহস্যময়।’
তিনি বলেন, ’তবে আমাদের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা অত্যন্ত দায়িত্বশীল। তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কিন্তু তারপরও তিনি বুধবার বাংলা টিভির এমডিসহ পাঁচজনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য আগেই নোটিস করেছিলেন। সে অনুযায়ী দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে অফিসও করেছেন তিনি।’
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা তাদের সময়ের আবেদনগুলো দেখেছি। হাস্যকর কথাবার্তাও আছে তাতে। যেমন বাংলা টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সামাদুল হক বলেছেন, তিনি গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাই দুই মাস সময় দরকার।’
তিনি জানান, পরিচালক মীর নূর উস শামস শান্তনুর মা গ্রামের বাড়িতে অসুস্থ। তার সেবা করতে তিনি বাড়ি যাবেন। তাই দুদকে হাজির না হয়ে দুই মাসের সময় চেয়েছেন।
পরিচালক মনিরুল ইসলাম তিন মাসের সময় চেয়ে বলেছেন, তার স্ত্রী অসুস্থ। সে কারণে দুদকে হাজির হতে পারেননি। আরেক পরিচালক কেএম রিফাতুজ্জামান বলেছেন, তার বাবা কেএম আক্তারুজ্জামান সিঙ্গাপুরে চোখ দেখাতে গিয়েছেন। তাই তিনি হাজির হতে পারছেন না। তিন মাসের সময় দরকার।
দুদকের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা যে একজোট এবং সিন্ডিকেট করে সময়ের আবেদন করেছেন, তা তাদের আবেদনেই স্পষ্ট হয়েছে। মূলত, বাংলা টিভিকে তারা নিজেদের অবৈধ সম্পদ রক্ষার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে সবকিছু বেরিয়ে আসবে, তাই তারা টালবাহানা করছেন।’
দুদক থেকে জানা গেছে, অর্থ পাচার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বাংলা টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সামাদুল হকসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্য চার পরিচালককে গত সপ্তাহে তলব করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রবিবার (৪ জুন) দুদকের পক্ষে এ-সংক্রান্ত নোটিস জারি করা হয়।
দুদকের উপপরিচালক সেলিনা আখতার মনির সই করা নোটিসে উল্লেখ করা হয়, বাংলা টিভির শেয়ার হস্তান্তরের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও তদন্তের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সামাদুল হক, চেয়ারম্যান কেএম আখতারুজ্জামান, পরিচালক মীর নুর উস শামস শান্তনু ও কেএম রিফাতুজ্জামানের বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা প্রয়োজন। এজন্য তাদের বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়।
তবে তারা কেউ এ দিন হাজির হননি। বরং হাজিরা থেকে বাঁচতে তারা সবাই সময় আবেদন করেন। তাদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগও রয়েছে বলে জানায় দুদক।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, তাদের মোটা অঙ্কের কর ফাঁকি ও মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে সংস্থাটি।