মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৩ ১৭:৪৩ পিএম
গ্রেপ্তার আসামি রবিউলসহ পুলিশ।
কিশোরগঞ্জে হোসেনপুরে এসএসসি পরীক্ষার্থী তানভীর খান রিয়াদকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় ‘মূল ঘাতক’ মো. রবিউল আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকার কালশী মোড়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান টিটুর নেতৃত্বে এসআই সুশান্ত চন্দ্র সরকার ও এসআই শরিফুল ইসলাম এই গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নেন।
গ্রেপ্তার রবিউল আলম হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজিপুর গ্রামের বাসিন্দা। সে রিয়াদ হত্যাকাণ্ডের মূল ঘাতক এবং মামলার ৭ নম্বর আসামি।
নিহত তানভীর খান রিয়াদ বীর হাজিপুর গ্রামের মো. স্বপন খানের ছেলে। সে পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রিয়াদের চাচাতো বোন লাবনী আক্তারের একই গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে আব্দুর রহমান দুখুর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম ওরফে মনুসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন লাবনীকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করতো। এ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল।
এ অবস্থায় গত ২৮ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চাচা মো. স্বপন খান লাবনীর শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করতে গেলে তারা স্বপন খানের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট শুরু করে। এ সময় স্বপন খানের ছেলে তানভীর খান রিয়াদ পিতার উপর হামলার প্রতিবাদ জানালে হামলাকারীরা তার উপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে লাবনীর দেবর রবিউল আলম ক্ষিপ্ত হয়ে রিয়াদকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে।
এতে ঘটনাস্থলে রিয়াদ লুটিয়ে পড়লে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় স্বজনেরা উদ্ধার করে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত তানভীর খান রিয়াদের বাবা স্বপন খান বাদী হয়ে রবিউল আলমসহ ১২ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৮/১০ জনকে আসামি করে গত মামলা করেন।
মামলার পর আসামিদের ধরতে পুলিশ হোসেনপুরসহ গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি আসাদুজ্জামান টিটু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, রিয়াদ হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি রবিউল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্যও পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।