সিলেট অফিস
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৩ ২০:৩০ পিএম
সিলেটের কানাইঘাটে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে নয় মাস বয়সী সন্তানের সামনেই মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ‘ভু্ক্তভোগী’ নারীর করা মামলায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার নন্দিরাই গ্রামের দুদু মিয়া, বীরদল ভাড়ারীফৌদ গ্রামের হেলাল আহমদ, বড়দেশ সরদারীপাড়া গ্রামের ফরহাদ, বীরদল আগফৌদ গ্রামের আব্দুল করিম ও বীরদল ছোটফৌদ গ্রামের জুবের আহমদ।
মঙ্গলবার (৩০ মে) সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত রবিবার রাত ১১টার দিকের ওই ঘটনায় গতকাল সোমবার দিনভর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমেদ জানান, ওই নারীকে পুলিশ হেফাজতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন, ধর্ষণে সরাসরি জড়িত হেলাল আহমদ ও ফরহাদ আহমদ। গ্রেপ্তার অন্য আসামিরা ধর্ষণে সহায়তা ও নারীকে অপহরণের সঙ্গে জড়িত।’
কানাইঘাট থানার ডিউটি অফিসার দেবাশীষ শর্মা জানান, রবিবার রাতে ওই নারীকে পুলিশ উদ্ধার করে। পরদিন সোমবার সকালে ভিকটিম ৫ জনকে আসামি করে ধর্ষণের অভিযোগে কানাইঘাট থানায় মামলা করেন তিনি।
এজাহারে বলা হয়, ওই নারীর বাড়ি কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নে। ঘটনার ২০-২৫ দিন আগে আসামি দুদু মিয়ার সঙ্গে কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই নারীর পরিচয় হয়। সেই সুবাদে দুদু মিয়া প্রায়ই ওই নারীর সঙ্গে ফোনে কথাবার্তা বলতেন। ভিকটিমের ৯ মাসের শিশুকন্যা অসুস্থ হলে দুদু মিয়া তাকে পাশের জকিগঞ্জ উপজেলার ফুটিজুরি গ্রামের এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যেতে বলেন।
আরও উল্লেখ করা হয়, রবিবার বিকেল ৩টার দিকে দুদু মিয়া মেয়ের চিকিৎসার নাম করে ওই নারীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। কিন্তু কবিরাজের কাছে না নিয়ে কৌশলে দুদু মিয়া কানাইঘাটের বীরদল বাজার এলাকায় ওই নারীকে নিয়ে ঘুরতে থাকেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে দুদু মিয়াকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কৌশলে তার সহযোগী আব্দুল করিম ও ভিকটিমকে নিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। মোটরসাইকেলে বীরদল খালোমুরা বাজারে গেলে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে আটক করেন। পরে রাত ১১টার দিকে ওই নারীকে তার বাড়িতে চলে যাওয়ার জন্য স্থানীয় একটি রিকশায় উঠিয়ে দেওয়া হয়। এর কিছু সময় পরে ছাড়া পেয়ে দুদু মিয়া ও আব্দুল করিম অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই নারীর পিছু নেয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে পুরানফৌদ কবরস্থানের সামনে ওই নারীকে নিয়ে যাওয়া রিকশা পৌঁছালে হেলাল আহমদ ও ফরহাদ আহমদ রিকশার গতিরোধ করে। রিকশা থেকে তুলে নিয়ে পাশের একটি পুকুরঘাটে যান। সেখানে সেখানে ধর্ষণের সময় চিৎকার করলে লোকজন এগিয়ে যান। তখন ওই হেলাল ও ফরহাদ পালিয়ে যান। স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় ও পরে হাসপাতালে নিয়ে যায়।