প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:৪০ পিএম
মানি প্ল্যান্ট লিঙ্কের এই গাড়ি থেকেই হয়েছিল টাকা ছিনতাই। ফাইল ছবি
রাজধানীর উত্তরায় অস্ত্র ঠেকিয়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকের গাড়ি থেকে ১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ছিনতাই হয়। এ ঘটনায় গত ২৭ মার্চ পর্যন্ত সাত কোটি ৯৯ লাখ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
তবে, ছিনতাইয়েল এক মাস পর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার বাদী মানি প্ল্যান্ট লিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক আলমগীর হোসেনের জিম্মায় জব্দ করা টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. শান্ত ইসলাম মল্লিকের আদালতে মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) জিম্মার বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত বাদীর জিম্মায় জব্দ করা সাত কোটি ৯৯ লাখ পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মিরপুর জোনাল টিনের পুলিশ পরিদর্শক মো. সাজু মিঞা আদালতে উদ্ধার করা টাকার মালিকানা সংক্রান্ত একটা প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেখানে উল্লেখ করেন, গত ২৭ মার্চ পর্যন্ত সর্বমোট সাত কোটি ৯৯ লাখ পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা টাকা বাদী আলমগীর হোসেনের জিম্মায় দিলে মামলার তদন্তে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৭ মার্চ ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড মানি প্ল্যান্ট লিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিকে ১০০ কোটি টাকা দিয়েছিল। এর মধ্যে গত ৯ মার্চ ১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ছিনতাই হয়। যেহেতু মানি প্ল্যান্ট লিঙ্ক (প্রা.) লিমিটেড কোম্পানির জিম্মায় থাকাকালীন সময়ে উক্ত টাকা লুণ্ঠিত হয়েছিল। সম্পাদিত চুক্তির মোতাবেক মানি প্ল্যান্ট লিঙ্ক লুণ্ঠিত টাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডকে বুঝিয়ে দিতে বাধ্য।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার বাদী আলমগীর হোসেন মানি প্ল্যান্ট লিঙ্ক (প্রা.) লিমিটেডে শুধু পরিচালক (অপারেশন) হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছেন তা নয়, তিনি কোম্পানির দশ শতাংশের অংশীদার।
আলমগীর হোসেনকে মানি প্ল্যান্ট লিঙ্ক (প্রা.) লিমিটেডের এমডি উদ্ধার করা টাকা গ্রহণের জন্য অথরাইজেশন লেটারও দিয়েছেন। তাছাড়া ডাচ্ বাংলা ব্যাংক মানি প্ল্যান্ট লিঙ্ক (প্রা.) লিমিটেডকে উদ্ধার করা টাকা দেওয়ার বিষয়ে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে।
গত ৯ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে বেসরকারি ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের টাকা বহনকারী গাড়ি থেকে প্রায় সোয়া ১১ কোটি টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় মানি প্ল্যান্ট লিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক আলমগীর হোসের বাদী হয়ে তুরাগ থানায় মামলা করেন। এ মামলায় গ্রেপ্তারের পর ১২ আসামি আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তারা কারাগারে আটক রয়েছে।
আসামিরা হলেন- মো. আকাশ মাতবর, মো. সাগর মাতবর, সোনাই মিয়া, মিজানুর রহমান, সালোয়ার হাসান, বদরুল আলম, ইমন হোসেন মিলন, মো. হৃদয়, মিলন মিয়া, সোহেল রানা শিশির, আকাশ আহম্মেদ বাবলু ও হাবিবুর রহমান হাবিব।