মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৩ ০০:৩৭ এএম
বাগেরহাটের মোংলা শহরে সন্ধ্যার পর প্রায় প্রতিদিনই ঘুরে বেড়ায় একটি হাতি। প্রবা ফটো
বাগেরহাটের মোংলা শহরে সন্ধ্যার পর প্রায় প্রতিদিনই ঘুরে বেড়ায় একটি হাতি। যে রাস্তা দিয়ে হাতিটি হেঁটে যায়, ভয়ে সেখান দিয়ে যেতে পারে না কেউ। না পথচারী, না কোনো যানবাহন। আর তার পিঠে বসে থাকেন মাহুত (হস্তী চালক)।
মাহুতের নির্দেশেই এক দোকান থেকে আরেক দোকানে যায় হাতিটি। তারপর শুঁড় এগিয়ে দেয় দোকানির কাছে। শুঁড়ের মাথায় টাকা গুঁজে না দেওয়া পর্যন্ত শুঁড় সরায় না হাতিটি। এভাবে হাতি দেখিয়ে মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর মোংলা পৌর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে চলে চাঁদাবাজি।
দোকানিদের অভিযোগ, ১০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হচ্ছে হাতি দেখিয়ে। শুধু দোকান নয়, সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের পথরোধ করেও টাকা তুলছে হাতিটি।
স্থানীয় সাংবাদিক মনিরুল হায়দার ইকবাল অভিযোগ করে বলেন, ‘রাত সাড়ে ৯টায় তারাবি নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলাম। এসময় হাতিটি শুঁড় তুলে আমার পথ আটকায়। কেবল আমাকেই নয়, অন্যসব গাড়ি আটকেও একই কায়দায় আদায় করছে টাকা। আর টাকা না দিলে পথ ছাড়ে না হাতিটি।’
পৌর শহরের ব্যবসায়ী জুলফিকার আলী বলেন, সন্ধ্যার পর তার দোকানে হঠাৎ একটি হাতি এসে শুঁড় এগিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ৫০ টাকা হাতিটির শুঁড়ে গুঁজে দেন। টাকা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকা না দিলে হাতিটি দোকান থেকে যায় না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দীপংকর দাশ বলেন, ‘হাতি বা বন্যপ্রাণী ব্যবহার করে সড়কে চাঁদাবাজি করা উচিত নয়। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
হাতির পিঠে বসা মাহুতের কাছে তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি পরিচয় দেননি। তবে হাতি নিয়ে তিনি ঢাকা থেকে এসেছে বলে জানান।