রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২৩:৪৯ পিএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০০:০১ এএম
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম সিদ্দিকুর রহমানকে একধাপ পদাবনতি দিয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) করা হয়েছে। প্রবা ফটো
মাদক মামলার আসামির মোটরসাইকেল বিক্রির অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম সিদ্দিকুর রহমানকে একধাপ পদাবনতি দিয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) করা হয়েছে।
গত ২৯ জানুয়ারি বিভাগীয় মামলার বিচারক আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হাসানুল হায়দার এ রায় দেন। ৩০ জানুয়ারি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনারের কাছে রায়ের কপি পাঠানো হয়।
গত মঙ্গলবার রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এটা প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। এখনও চুড়ান্ত রায় ঘোষণা হয়নি।
এদিকে, ওসি সিদ্দিকুর রহমান জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
২০১৮ সালে নওগাঁ জেলার রানীনগর থানার ওসি থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়। তবে আরএমপির একটি সূত্র বলছে, বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সিদ্দিকুর আত্মপক্ষ সমর্পণের সুযোগ পাবেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৩ মার্চ রানীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলাম নগরব্রীজ এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে কুজাইল গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে কেফায়েত উল্লাহ রাহুল হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হন। এসময় তার আরটিআর এ্যাপাচি ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলটিও থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরদিন মামলা করে কেফায়েতকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠালেও পুলিশ তার মোটরসাইকেলটি জব্দ তালিকার বাইরে রাখে। ৬ মার্চ ওসি সিদ্দিকুর ও মামলার বাদী এসআই তরিকুল মোটরসাইকেলটি এক লাখ ২০ হাজার টাকায় বেলাল হোসেন নামে এক বিবাহ রেজিস্ট্রারের কাছে গোপনে বিক্রি করেন।
মাদক মামলার আসামির মোটরসাইকেল বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হলে কেফায়েতের বাবাকে ওসি সিদ্দিকুর থানায় ডেকে এনে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করতে বলেন। কিন্তু কেফায়েতের বাবা ওসি ও এসআইয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নওগাঁ পুলিশ সুপারকে ঘটনা তদন্ত করতে বলা হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ওসি সিদ্দিকুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয় এবং তাকে নওগাঁ জেলা পুলিশ থেকে আরএমপিতে বদলি করা হয়।
এরপর বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করেন আরএমপির মতিহার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার একরামুল হক। দ্বিতীয়বার তদন্তেও অভিযোগের সত্যতা মেলে।
বিভাগীয় মামলার বিচারক ২৯ জানুয়ারি রায় দেন। রায়ে ওসি সিদ্দিকুরকে পরিদর্শক পদ থেকে এক ধাপ পদাবনতি (র্যাঙ্ক রিভারসন) দিয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) করার আদেশ দেন। এ আদেশ সাময়িক উল্লেখ করে বলা হয়, তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।
বিভাগীয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, কয়েক মাস আগে এমন ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তবে এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।