শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্যা পলাশ। ফাইল ছবি
দীর্ঘ ২৩ বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরার এক মাসের মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্যা পলাশ। গোয়েন্দাদের ধারণা, রামপুরা-হাতিরঝিল এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং পুরনো বিরোধ ছাড়াও একাধিক কারণে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে মুক্তির পর এলাকায় পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা এবং প্রভাব বিস্তারের উদ্যোগ প্রতিপক্ষ গ্রুপগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। তবে হামলার ঘটনায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের আরেক পরিচিত নাম ‘কাইল্যা মাসুদ’। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ।
গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, রামপুরা এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসা, ডিশ সংযোগ, নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ, স্থানীয় ঠিকাদারিসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন পলাশ। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলেও তার অনুসারীদের একটি অংশ এলাকায় সক্রিয় ছিল। ফলে তিনি আবারও নিজের প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিলেন কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
গোয়েন্দারা বলছেন, গত ৭ মে জামিনে কারাগার থেকে বের হওয়ার পর পলাশ স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে রামপুরার নিজ বাসায় বসবাস শুরু করেন। পরিবারের দাবি, দীর্ঘ কারাভোগের পর তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। তবে গোয়েন্দা তথ্য বলছে, মুক্তির পর কাইল্যা এলাকায় নিজের পুরনো যোগাযোগ পুনর্গঠন এবং কিছু ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানায়, পলাশ যে এলাকায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছিলেন, সেটি দীর্ঘদিন ধরে আন্ডারওয়ার্ল্ডের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ওরফে মন্টি এবং কারাবন্দি সুব্রত বাইনের অনুসারীদের প্রভাবাধীন বলে পরিচিত।
হামলার ঘটনায় পলাশের পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্যা মাসুদ’-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পলাশের ভাইয়ের দাবি, হামলার সময় মাসুদ নিজেই পলাশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
তদন্তকারীরা বলছেন, ২০০২ সালে যুবদল নেতা মিজান হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনায় পলাশের নাম আলোচিত হয়। এসব ঘটনার কারণে তার বিপক্ষে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক পক্ষের ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহা তৈরি হয়েছিল।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন পর কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসীর এলাকায় প্রত্যাবর্তন প্রায়ই নতুন সংঘাতের জন্ম দেয়।
হাতিরঝিল থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, পলাশ চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মেডিকেলের আইসিইউ কেবিনের ১৭ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন পলাশ। ৭২ ঘণ্টা সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি বা অবনতির বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না। চিকিৎসকরা তাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের মতে, হামলাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুরনো দ্বন্দ্ব, আধিপত্যের রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্বেই ঘটেছে বলে ধারণা।