ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৯ এএম
ফেনীতে কুপিয়ে স্ত্রী ও সহকর্মীর হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় শুক্রবার রাতে আটক করা হয় স্বামী সুজনকে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ফেনীতে স্বামীর রামদার আঘাতে স্ত্রী ও তার সহকর্মীর হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ফেনী শহরের আদালত পাড়ার আজমীরি বেগম সড়ক এলাকায় শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযুক্ত স্বামী সুজনকে (২৭) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
সুজন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া এলাকার মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি একজন সিএনজি অটোরিকশাচালক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সুজন ও স্ত্রী ফিরোজার মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। ফিরোজা পরকীয়ায় জড়িত এমন অভিযোগ তুলে শুক্রবার সন্ধ্যায় সুজন বাসায় গিয়ে ধারালো রামদা নিয়ে হামলা চালান স্ত্রীর ওপর।
ফিরোজার চিৎকার শুনে প্রতিবেশি ও সহকর্মী আফসানা বাধা দিতে গেলে তাকেও এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে তাদের হাতের কব্জি ও আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পালানোর সময় স্থানীয়রা সুজনকে আটক করে ফেনী মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহতরা হলেন-ফিরোজা আক্তার (২৩) ও আফসানা আক্তার (৩০)। তারা দুজনই শহরের হাজারী রোডস্থ ওয়াতান ল্যাবে চাকুরি করতেন। সেই সুবাদে ফিরোজা ও আফসানা একই বাসায় ভাড়া থাকতেন।
আফসানার বোন আয়েশা আক্তার বলেন, “আমরা ঘরেই ছিলাম। সুজন হঠাৎ লম্বা একটি রামদা নিয়ে ঘরে ঢুকে তার স্ত্রীকে কোপাতে শুরু করে। আমার বোন বাধা দিতে গেলে তাকেও কোপায়। তখন আমি ভয়ে দৌড়ে ছাদে চলে যাই।”
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আহত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আফসানার বাম হাতের কব্জি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এদিকে ফিরোজার বাম হাতের চারটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিচ্ছিন্ন দেহাংশসহ তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনার পর আটক সুজনকে নিয়ে ফেনী মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরার নেতৃত্বে অভিযুক্তের দেখানো মতে ঝোপের আড়াল থেকে হামলায় ব্যবহৃত রামদা উদ্ধার করা হয়।
ফেনী মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে দাম্পত্য কলহের কারণে ফিরোজা স্বামীকে ছেড়ে শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকুরি নেন। সেখানকার সহকর্মী আফসানার সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত এমন সন্দেহ থেকেই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করছে সুজন। এ ঘটনায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”