প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:২১ পিএম
আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:২৭ পিএম
শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি। আর্টিস্ট: জয়ন্ত জন
মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীকে নির্দেশদাতা, ফয়সাল করিম মাসুদকে গুলিবর্ষণকারী উল্লেখ করে মোট ১৭ জনকে আসামি করে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন
ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মঙ্গলবার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের
(ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা
পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের
৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক
তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর ‘পরিকল্পনাতেই’ হাদিকে হত্যা করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “পতিত (আওয়ামী
লীগ) সরকারের বিরুদ্ধে হাদি সোচ্চার ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে হত্যা
করা হয়েছে।”
শরিফ ওসমান বিন হাদি
নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করেছিলেন বলেন এই ডিবি কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, হাদি হত্যা
মামলার আসামি এবং গুলিবর্ষণকারী হিসেবে চিহ্নিত ফয়সাল করিম ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও
তার সহযোগী আলমগীর আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী।
ডিবি জানিয়েছে, বাপ্পী
ও ফয়সাল ছাড়াও আলমগীর, ফিলিপ, মুফতি মাহমুদ ও ফয়সলের বোন জেসমিন পলাতক আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো
হয়, হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র মঙ্গলবার আদালতে দেওয়া হয়েছে। যে ১৭ জনের বিরুদ্ধে
অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে ১২ জন গ্রেপ্তার আছেন।
পরবর্তী সময়ে নতুন তথ্যপ্রমাণ
পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের সুযোগ রয়েছে বলে জানান শফিকুল ইসলাম।
গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখ
সারির মুখ হাদি জুলাই থেকে অনুপ্রাণিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্লাটফর্ম ইনকিলাব কালচারাল
সেন্টার গড়ে তোলেন। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়েও আলাদা করে পরিচিতি পান
তিনি।
এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থিতার জন্য প্রচারকাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে গেলে চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে মাথায় গুলি করে চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। পরে হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে ১৮ ডিসেম্বর মারা যান তিনি।
হত্যার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে
ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, হাদি রাজনৈতিক অঙ্গনে অতি পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন
এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন। তিনি বিভিন্ন
সময়ে সভা-সমাবেশ, ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী
লীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ সংগঠনের বিগত দিনের কার্যকলাপ সম্পর্কে সমালোচনামূলক জোরালো
বক্তব্য দিতেন। তার এ ধরনের বক্তব্যে আওয়ামী লীগ বা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা
ক্ষুব্ধ হন।
শফিকুল ইসলাম বলেন,
সমালোচনামূলক বক্তব্যের কারণে হাদিকে হত্যার নির্দেশ দেন ওয়ার্ড কমিশনার তাইজুল ইসলাম
ওরফে বাপ্পী এবং গুলি করে ফয়সাল।
এ হত্যা মামলার তদন্তকালে
উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ব্যালিস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদন ‘পজিটিভ’ এসেছে বলেও জানিয়েছেন
এই ডিবি কর্মকর্তা।
ভিডিও বার্তায় আসামি
ফয়সাল সম্প্রতি দাবি করেছেন, তিনি বিদেশে আছেন এবং হাদি হত্যা মামলায় তাকে ও তার পরিবারকে
ফাঁসানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত
কমিশনার বলেন, ফয়সালের ভিডিও বার্তা পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন
করা হয়েছে। ফয়সাল তিনটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন, সেগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার
করা হয়নি, এটা মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ফরেনসিক
পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনো আসেনি, তবে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ভিডিও বার্তা
আসল। তবে ফয়সাল দুবাইতে থাকার যে দাবি করছেন, সেই অবস্থান সঠিক নয়। তদন্তের তথ্যপ্রমাণ
অনুযায়ী, পলাতক ফয়সাল ভারতে অবস্থান করছেন।
ওসমান হাদি হত্যা মামলার
প্রধান আসামি ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগে মেঘালয়
ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল বলে যে বক্তব্য ডিএমপি এর আগে দিয়েছিল,
তা সত্য বলেও জানান ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম।