চাটমোহর (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:১৯ পিএম
চাটমোহরের জগতলা জগতলা ছিদ্দিকীয়া দ্বি-মুখী দাখিলী মাদ্রাসা।
পাবনার চাটমোহর উপজেলার জগতলা ছিদ্দিকীয়া দ্বি-মুখী দাখিলী মাদ্রাসায় নিয়োগ কার্যক্রমে প্রায় অর্ধকোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসার সভাপতি বুলবুল আহমেদ ও সুপার আবুল হোসেন এর সঙ্গে জড়িত বলে লিখিত অভিযোগ করেছেন রাকিবুল ইসলাম নামে এক নিয়োগ প্রার্থী।
নিয়োগের সুপারিশ বাতিল করে পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন রাকিবুল ইসলাম।
লিখিত অভিযোগে থেকে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বরে চারটি পদে পুনঃনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং গত ৮ নভেম্বর পরীক্ষার জন্য প্রবেশপত্র পান রাকিবুল ইসলাম। তবে সেদিন পরীক্ষা স্থগিত করে ১২ ডিসেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।
লিখিত অভিযোগে রাকিবুল ইসলাম দাবি করেন, পরীক্ষার পর তিনি জানতে পারেন সভাপতি বুলবুল আহমেদ তার আপন ফুপাতো ভাই তারেক মাহমুদ ও আপন চাচাতো বোন রাবেয়া খাতুনকে আগের রাতেই তাদের প্রশ্ন সরবরাহ করেছেন। আগে থেকেই সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লোক দেখানো নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও জানা যায়, মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপার নিজেদের মধ্যে যোগসাজস করে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বিনিময়ে চারটি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী রাকিবুল ইসলামের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী সভাপতির নিকট আত্মীয় প্রার্থী থাকলে তিনি নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি থাকতে পারবেন না। অথচ মাদ্রাসার সভাপতি বুলবুল আহমেদ তার আপন ফুপাতো ভাই ও চাচাতো বোনকে নিয়োগ দিতে নিজেই নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি হন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আবুল হোসেন বলেন, অভিযোগ যে কেউ দিতেই পারে। কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা সেটা তো যাচাই বাছাই করতে হবে । টাকা লেনদেন হয়নি, আমি এসবের সঙ্গে জড়িত নই।
মাদ্রাসার সভাপতি বুলবুল আহমেদ বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছেন ঢাকা থেকে আসা ডিডি'র প্রতিনিধি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সহ তাদের নির্ধারিত আরও দু'জন। এখানে আমাদের কোনো হাত ছিল না।
তিনি আরও বলেন, তারা নিয়োগ পরীক্ষা শেষে যে ফলাফল দিয়েছে সেখানে আমি শুধু স্বাক্ষর করেছি। আর ফুপাতো ভাই ও চাচাতো বোন তারা আমার আপন রক্তের কেউ না। তাই নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি হতে বাধা ছিল না। যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার ভিত্তি নেই।
চাটমোহর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শফিউল ইসলাম বলেন, নিয়োগের আগে যাছাই বাছাই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষই করেছে। তাদের মধ্যে কারও কেউ আত্মীয় স্বজন আছে কি না সেটা আমার জানা নাই। আমরা তাৎক্ষণিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করে ওইদিন পরীক্ষা নিয়েছি। পরীক্ষা শেষে ফলাফল দেয়া হয়েছে। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যাচাই বাছাই সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।