নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৫৮ পিএম
নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রশ্নপত্র বিক্রি। ছবি : সংগৃহীত
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ভবনে বসে ব্যক্তি মালিকানাধীন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের জন্য প্রশ্নপত্র বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যারা সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে সরবরাহকৃত প্রশ্নপত্র ক্রয় করবে না তাদের নতুন বছরের বই দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) প্রশ্নপত্র বিক্রির ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। ঘটনাটির ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই নেতিবাচক সমালোচনা করে মন্তব্য লেখেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দোতলা ভবনটি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের পূর্বদিকে দিকে অবস্থিত। ফেসবুকে ভিডিও প্রচারের পর ওই ভবনের নিচতলায় গিয়ে দেখা যায় প্রচুর লোকজনের ভিড়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের মালিকরা এসেছেন প্রশ্নপত্র ক্রয় করার জন্য।
তাঁদের কয়েকজন নিজেদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের প্রশ্নপত্র নিজেরাই প্রণয়ন করে পরীক্ষা নিতেন। কিন্তু এবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা (নাম বলতে অস্বীকৃতি জানান) অফিস থেকে প্রশ্নপত্র কেনার নির্দেশ দেন। যেসব কিন্ডারগার্টেন প্রশ্নপত্র ক্রয় করবে না তাদের নতুন বছরের বই দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ঝামেলা এড়াতে কিন্ডারগার্টেনের মালিকরা প্রতিসেট প্রশ্নপত্র ১৫ টাকা করে ক্রয় করতে বাধ্য হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নান্দাইল উপজেলা সদরসগ গ্রামাঞ্চলে ১৩৪টি ছোটবড় কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। এর কোনোটিতে শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের নিচতলার একটি কক্ষে বসে প্রশ্নপত্র বিক্রি করছিলেন নাজমুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তিনি কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশানের সাধারণ সম্পাদক।
আজ সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সরকারি অফিসে বসে কিন্ডারগার্টেনের প্রশ্নপত্র বিক্রি করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাজমুল হোসেন বলেন, প্রশ্নগুলো শিক্ষা অফিস থেকে দেওয়া হয়েছে বিক্রি করার জন্য। কারা দিয়েছেন জানতে চাইলে নাজমুল বলেন, কার্যালয়ে তখন শিক্ষা কর্মকর্তারা ছিলেন। কিন্ডারগার্টেন মালিকরা চেয়েছেন বলে শিক্ষা অফিস থেকে প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। এসব প্রশ্নপত্র দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয় কিনা জানতে চাইলে নাজমুল না সূচক উত্তর দেন। কিন্ডারগার্টেনগুলোতে সরকারি বই প্রাপ্তির সাথে প্রশ্নপত্র ক্রয়ের বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানান তিনি।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষাকর্মকর্তা (ইউপিইও) মোছা. ফজিলাতুন্নেসা এ প্রতিবেদককে বলেন,সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ব্যবহার করে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রশ্নপত্র বিক্রির অভিযোগটি ঠিক নয়। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) তাঁর কার্যালয় থেকে নান্দাইল উপজেলার ১৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে। তবে বিতরণের সময় তিনি কার্যালয়ে ছিলেন না। স্কুল সংশ্লিষ্ঠ কাজে সকাল থেকে সারাদিন বাইরে ছিলেন বলে জানান।