ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৩৮ পিএম
পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডলসহ উভয় পক্ষের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ঠিক তখনই আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে এক যুবকের প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নানা রকম বিরুপ মন্তব্য ও ধোঁয়াসার পরে অবশেষে পরিচয় মিলেছে সেই যুবকের। তার নাম তুষার মণ্ডল। তিনি ঈশ্বরদী পৌর শহরের ভেলুপাড়া এলাকার তাহের মণ্ডলের ছেলে ও পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলের অন্যতম সহচর এবং জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম চরগড়গড়ির যগির মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি মক্কেল মৃধা ওই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করে বলেন, অস্ত্রধারী ওই যুবক জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র সন্ত্রাসী। সে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর একাধিক গুলিবর্ষণ করে। এতে আমাদের নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন। অস্ত্র হাতে থাকা যুবকের নাম তুষার হোসেন। সে ঈশ্বরদী পৌর শহরের ভেলুপাড়া গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তালেব মন্ডলের বাড়িও ভেলুপাড়া গ্রামে। তুষার তার নিকটতম প্রতিবেশী এবং সবসময় তালেব মন্ডলের সঙ্গেই থাকেন।
তবে বিষয়টি অস্বীকার করে ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াত ইসলামীর সাধারণে সম্পাদক মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, অস্ত্র হাতে আমাদের কোনো কর্মী সেখানে উপস্থিত হয়নি। আমরা গিয়েছি জনগণের কাছে ভোট চাইতেÑকোনো অরাজকতা করতে নয়। তুষার নামে ওই যুবক কখনও জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে ছিল না। তাকে আমরা কেউ চিনিও না।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, জামায়াতের সংগঠন শিবির। আর শিবিরের রাজনীতি কতটা ভয়ঙ্কর তা দেশবাসী জানে। গত বহস্পতিবার জামায়াত প্রার্থী তালেব মন্ডল তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে পরিকল্পনা করেই এসেছে যে, তারা আমার লোকজনের ওপর হামলা করবে। ইতোমধ্যে অস্ত্র হাতে যুবকের পরিচয় শনাক্তকরণে প্রমানিত হয়েছে যে, জামায়াত কী ধরনের রাজনীতি করছে। অস্ত্রধারী ওই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আব্দুর নূর ও ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমারের বক্তব্য নিতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তা সম্ভব হয়নি।