× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঢাকায় বীভৎস খুনের নেপথ্যে হানিট্র্যাপ!

নুর মোহাম্মদ মিঠু

প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১০:০৯ এএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় হাইকোর্ট-সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছে ড্রাম থেকে ২৬ টুকরা লাশ উদ্ধারের ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে হান্যট্র্যাপ। পুলিশের ধারণাÑ হানিট্র্যাপ ও টাকার জন্যই বীভৎসভাবে খুন করা হয়েছে রংপুরের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে। 

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশের একটি সূত্র প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে আশরাফুলের বন্ধু জরেজুল ইসলাম। তাকে খুঁজে পাওয়া গেলেই হত্যারহস্য উন্মোচিত হবে। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই জরেজ পলাতক। তবে যেকোনো সময়ই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এরপর রাত ১০টার দিকে জরেজকে গ্রেপ্তারের খবর জানায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রায় একই সময় জরেজের প্রেমিকা ও হানিট্র্যাপের মূল টোপ শামীমাকে বিভিন্ন আলামতসহ গ্রেপ্তারের খবর দেয় র‌্যাব-৩। পুলিশ ও র‌্যাব আজ পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরবে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার সকালে এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করেছেন আশরাফুলের বোন আনজিরা বেগম। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে আশরাফুলের বন্ধু জরেজুল ইসলামকে। জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের জড়িত থাকার কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।  

মামলার পর জরেজের বাবা আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে রংপুরের বদরগঞ্জ থানা পুলিশ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছে নীল রঙের দুটি ড্রামে আশরাফুলের খণ্ড খণ্ড মরদেহ পাওয়া যায়। ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে লাশের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঘটনার পরই বীভৎস খুনের রহস্যজট উদঘাটনে কাজ শুরু করে পুলিশ। এক্ষেত্রে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ তদন্তে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে পুলিশের তদন্তে হানিট্র্যাপ ও টাকার বিষয়টি উঠে এসেছে জানিয়ে রমনা বিভাগের সহকারী কমিশনার মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ ও গোয়েন্দারা একযোগে দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছেÑ এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে নারী ও অর্থ।’ বীভৎস এই হত্যাকাণ্ডে জরেজের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথাও তিনি জানান। 

এদিকে নিহত আশরাফুলের ছোট বোন আনজিরা বেগম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ভাইয়ের দেহখণ্ড বুঝে নেওয়ার সময় প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ‘গত মঙ্গলবার বাবাকে হাসপাতালে রেখে আশরাফুল মালয়েশিয়াফেরত বন্ধু জরেজকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় রওনা হয়। ওই দিনই আমার সঙ্গে আশরাফুলের শেষ কথা। তখন আশরাফুল নারায়ণগঞ্জে আছে জানিয়ে বলেছিল, বাবাকে হাসপাতালে রিলিজ দেবে, টাকা-পয়সা দিছি। বাবাক নিয়া আইসো।’

তিনি বলেন, ‘এরপর থেকে আশরাফুলকে কল দিলে তার বন্ধু জরেজ ধরে। আর বলে, ‘আশরাফুল ব্যস্ত আছে, কালেকশনে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘জরেজ এও বলে, আশরাফুল কোথায় সে জানে না। আশরাফুলের ফোন সে ময়লার গাড়িতে খুঁজে পেয়েছে।’

এদিকে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে আশরাফুলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের অন্যতম উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার। আশরাফুলকে ২৬ টুকরো করে নির্মম হত্যার কথা স্মরণ করে ডুকরে কাঁদছেন স্বজনরা। পরিবারের দাবি, আর্থিক লেনদেনের কারণে আশরাফুলকে খুন করেছে জরেজ। দ্রুত গ্রেপ্তারসহ জরেজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আতিকুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘জরেজের বাবা আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে যা তথ্য পাব, মামলা তদন্তের স্বার্থে তা শাহবাগ থানায় পাঠাব।’

আশরাফুলের শ্যালক রেজোয়ান হোসেন বলেন, ‘আমার দুলাভাই ঢাকা যাওয়ার আগে হিমাগার থেকে ৬০ হাজার বস্তা আলু বিক্রি করেছিলেন। আলু বিক্রির প্রায় ৩০ লাখ টাকা তার কাছে ছিল। জরেজ জাপান যাওয়ার জন্য আমার দুলাভাইয়ের কাছে ১০ লাখ টাকা চেয়েছিল। যেহেতু দুলাভাইয়ের মোবাইল ফোন তার কাছে পাওয়া গেছে, তাই সে টাকার জন্য এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা