যৌন নিপীড়নের অভিযোগ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ছাত্রের করা মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এরশাদ হালিমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এ আদেশ দেন।
এদিন আসামি এরশাদকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মেহেদী হাসান মিলন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী শ্যামল কুমার রায় জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অধ্যাপক এরশাদ হালিমের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের বিষয়ে বৃহস্পতিবার দিনভর ফেসবুকে লিখতে থাকেন তার বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এরপর রাতে টিএসসিতে সাংবাদিক সমিতিতে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা অবিলম্বে এই শিক্ষককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এর মধ্যে এক শিক্ষার্থী ওই শিক্ষকের নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে তার বিস্তারিত বিবরণ ফেসবুকে তুলে ধরেন।
এরপর রাত ১১টার দিকে ঢাকার শেওড়াপাড়ার বাসা থেকে এরশাদ হালিমকে গ্রেপ্তার করেন মিরপুর মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) রসায়ন বিভাগের এক ছাত্র বাদী হয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ওই থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি একটি পরীক্ষাসংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এরশাদ হালিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরশাদ হালিম সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তাকে শেওড়াপাড়ার বাসায় যেতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর তিনি যৌন হয়রানির শিকার হন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়, পরের দিন ওই ছাত্রকে ফোনে এরশাদ হালিম জানান, তার পরীক্ষাসংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে প্রক্টরের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তাকে বিকালের পালায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেবেন।
সেদিন ওই শিক্ষক তাকে আবার শেওড়াপাড়ার বাসায় ডাকেন দাবি করে অভিযোগে বলা হয়, তার ‘সমকামী আচরণের’ কারণে তিনি বাসায় যাননি। বিবাদী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় এরশাদ হালিম ফোন করে তাকে গালাগালি করেন বলে মামলায় বলা হয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর ঢাকায় আসার কথা তুলে ধরে মামলায় বলা হয়েছে, এরশাদ হালিম আবার ফোন করে বাসায় ডাকলে ওই ছাত্র প্রথমে রাজি হননি। তার ভাষ্য, পরীক্ষার জটিলতার বিষয়টি জানতে পারলে তার বাবার অসুস্থতা বেড়ে যেতে পারে ভেবে তিনি ১৪ অক্টোবর রাতে আবার শেওড়াপাড়ার বাসায় যেতে বাধ্য হন। বাসায় যাওয়ার পর তাকে মারধর করার পাশপাশি যৌন নির্যাতন করা হয় বলে মামলায় ওই ছাত্র দাবি করেন।