জয়পুরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:৪৫ পিএম
জয়পুরহাটে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া তিনটি চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঢাকা ও সাভারের বিভিন্ন স্থানে ৬ দিনের অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া চারজন ডাকাত দলের সদস্য। তাদের কাছ থেকে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার, ধারালো অস্ত্র, একটি আংটি ও এক জোড়া কানের দুল জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এসপি কার্যালয়ের সভাকক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- খু্লনার রুপসা থানার ইলাইপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মজনু ফরাজির ছেলে রুবেল ফরাজি ওরফে রিফাত (৩৫), বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ভাটরা গ্রামের সামউদ্দিনের ছেলে কামরুল ইসলাম (৩৮), খুলনা সদরের গ্যালক্সির মোড় মহল্লার দ্বীন ইসলামের ছেলে সোহেল আবিদ ইসলাম (৩৯), ঝালকাঠি নলছিটি উপজেলার মল্লিকবাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুর রব মল্লিকের ছেলে জাহিদ হাসান (৩৫)। গত ২ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ডিএমপি ও সাভার থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এসপি মুহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জয়পুরহাট জেলায় পৃথক তিনটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী সোহেল রানার বাড়ি, গত ২০ জুন রাতে একই উপজেলার জামালগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন টুকুর বাসায় ও কালাই পৌর শহরের তালুকদারপাড়া মহল্লার নাফসী তালুকদারের বাসায় ডাকাতি হয়। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের বেঁধে রেখে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট থানায় ডাকাতি মামলা করেন।
এসপি আরও বলেন, ঘটনার পর জেলা পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তি শাখার সহায়তায় মামলার তদন্তে নামে গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি। গত ২ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বের পর্যন্ত গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আমিনুর ইসলামের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম ঢাকা ও সাভারে অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ডাকাত সর্দার কামাল গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এসপি মুহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ডাকাত দলের সদস্যরা ডাকাতির আগে তাদের মুঠোফোন বন্ধ রাখতেন। একটি অ্যাপসের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতেন। আগামী কামরুল ইসলাম স্থানীয় সোর্স হিসেবে কাজ করেন। আসামিদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেট কার, দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লুণ্ঠিত এক আনা ৯ রতি ৮ পয়েন্ট ওজনের একটি আংটি ও এক জোড়া কানের দুল জব্দ করা হয়েছে। লুণ্ঠিত আরও মালামাল উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের প্রত্যেকের দেশের বিভিন্ন থানায় এক থেকে দুই ডজন করে মামলা থাকার দাবি করেছেন এসপি।