প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৩২ পিএম
অভিযুক্ত গুলজার আলম। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার কুয়াইশ বুড়িশ্চর এলাকায় নতুন করে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে ভূমিদস্যু গুলজার আলম। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির জমিতে জোরপূর্বক সাইনবোর্ড টাঙিয়ে চাঁদাবাজি ও জবরদখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগকারীরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আওয়ামী নেতা ইউনুস গণির নাম ভাঙিয়ে গুলজার এলাকায় জমি দখল ও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর কিছুদিন এলাকার মানুষ কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেলেও আবারও সরকারের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গুলজার গং নতুন উদ্যমে ফিরে আসায় অস্বস্তিতে কুয়াইশ বুড়িশ্চরের সাধারণ মানুষ। গুলজার এখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের জমিতে সাইনবোর্ড টাঙাচ্ছেন, লোক দিয়ে সীমানা প্রাচীর ভাঙাচ্ছেন এবং জমি জবরদখল করছেন।
ভুক্তভোগী মাসুদ ও ঝন্টু দাশ বলেন, আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি ভুয়া দলিল ও খতিয়ান তৈরি করে জবরদখল করে গুলজার। পরে আমরা আইনের আশ্রয় নিলে তার জালিয়াতি ধরা পড়ে এবং পুলিশ তাকে আটক করে। কিছুদিন কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে এসে সে আবারও একই কর্মকাণ্ড শুরু করেছে।
আরেক ভুক্তভোগী কুলসুমা বেগম বলেন, ১৪ বছর আগে কেনা আমার জমিতে হঠাৎ গুলজার সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়। স্থানীয় ব্যক্তিদের বিষয়টি জানানোর পরবর্তীতে সালিশ বৈঠকে তিনি কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। শনিবার (১ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে আমার জমি বাউন্ডারি ওয়ালে ভেতরে প্রবেশ করে গাছ কেটে বাউন্ডারি ওয়ালের ক্ষতি সাধন করে। জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করে।

বিষয়টি নিয়ে গুলজারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোনটি তার ছেলে রিপনের হাতে দেন। গুলজারের ছেলে রিপন সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে বলেন, আমরা জমি দখল করেছি, কী করবেন করেন! আমাদের ক্ষমতা আছে, দখল করেছি ও করব।
২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর বুড়িশ্চরে জমি দখলে গিয়ে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগে গুলজার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এ ঘটনায় রুনু কুমার দাশসহ পাঁচজন আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, কুয়াইশ, বুড়িশ্চর, হিন্দুপাড়া ও ধুপকুল এলাকায় একাধিক ব্যক্তির সম্পত্তি দখলের অভিযোগে গুলজারের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে হাটহাজারী থানার মদুনাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। প্রমাণ পাওয়া গেলে গুলজার আলমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।