নুর রহমান তুষার, ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:২৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইর রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কাওসার মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হযেছে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১১.৩০ মিনিটে ধর্মপাশা পূর্ব বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,
গত রবিবার সকালে স্কুলে প্রাইভেট পড়িয়ে অন্য ছাত্রীদের ছুটি দিয়ে ওই ছাত্রীকে বসতে
বলে শিক্ষক কাওসার মিয়া। সবাই চলে গেলে তাকে একা পেয়ে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটায় শিক্ষক
কাওসার মিয়া। এসময় মেয়েটি চিৎকার দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে বাড়িতে গিয়ে তার মাকে
ঘটনা জানায়। বুধবার বিকাল থেকে ফেইসবুকে স্থানীয়রা শিক্ষকের বিচারের দাবিতে পোস্ট দিতে
থাকেন। সন্ধ্যা সময় তারা ঐ শিক্ষককে গ্রেপ্তারের দাবিতে মিছিল নিয়ে বের হয়। স্থানীয়দের
কাছে তার অপকর্মের বিষয়টি স্বীকারও করেছেন কাওছার মিয়া।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন মাহাতাব বলেন, এই ঘটনা শুনে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে সবকিছু আমার কাছে স্বীকার করেছে। সে বলেছে আমি ধর্ষন করিনি। শরীরের বিভিন্ন গোপন জায়গায় হাত দিয়েছি।
রাজাপুর স্কুলের সাবেক শিক্ষীকা
মাসুমা আক্তার শাহীন বলেন, কাওসার মিয়া আমার সাথেও খারাপ আচরণ করতেন। স্কুলের সব বই
সে চুরি করে বিক্রি করেছে। স্কুলে সময় মতো আসতেন না। তার বিরুদ্ধে আমি আমার টিও
স্যারকেও জানিয়ে ছিলাম। আইনের মাধ্যমে তার উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।
ধর্মপাশা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
ওসি মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, প্রধান শিক্ষক মো. কাওসার মিয়ার বিরুদ্ধে বুধবার সন্ধ্যায়
মেয়ের মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু দমন আইনের ১০ ধারায় একটি মামলা করেছে। তাকে গত বুধবার
রাত সাড়ে এগারটার দিকে পূর্ব বাজার থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা
ইউএনও জনি রায় বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, প্রচলিত
আইনে আদালত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।