সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৫:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের পাগলা কান্দা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। ধ্বংস হচ্ছে এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ। সন্তানদের নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরা।এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকের পাশাপাশি চাঁদাবাজি, ছিনতাই, চুরি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড দিন দিন বেড়েই চলছে। একাধিকবার পুলিশকে জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সময়ের সঙ্গে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই চক্র। ফলে এলাকার তরুণ-যুবকদের মধ্যে মাদকাসক্তির প্রবণতা মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মাদক
কেনাবেচা বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসী বারবার প্রতিবাদ জানালেও কোনো ফল মেলেনি। এতে অতিষ্ঠ
হয়ে গত সোমবার দুপুরে পাগলাকান্দা বাজারে এলাকাবাসীর উদ্যোগে সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতি
ও মাদকবিরোধী বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে তারা ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে
বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা কয়েকটি মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে অগ্নিসংযোগ
করে।
এলাকাবাসী জানান,
মাদক কেনার জন্য প্রতিদিন উচ্ছৃঙ্খল যুবকদের ভিড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন তারা। মাদকসেবীদের
উৎপাতের কারণে চুরি-ছিনতাই বেড়ে গেছে, তৈরি হয়েছে নিরাপত্তাহীনতা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী
সুলতানা বেগম বলেন, ‘এলাকার কয়েকজন যুবক দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা করছে।
এতে চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপরাধ বাড়ছে। আমরা প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকি-ধমকি দেয়। পুলিশকে
জানালেও কোনো ফল পাইনি, উল্টো নিরীহ মানুষকেই হয়রানি করে।’
স্থানীয় বাসিন্দা
মোহাম্মদ শফিকুল মিয়া বলেন, আমরা প্রতিবাদ করলেই মাদক ব্যবসায়ীরা হুমকি দেয়, মারধরের
ভয় দেখায়। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছিÑ আমাদের রক্ষা করুন। আমাদের নিরাপত্তা
দিন, নইলে আমরা এখানে বসবাস করতে পারব না।
পাগলাকান্দা বায়তুল
জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই মাদকসেবীদের আনাগোনা
বেড়ে যায়। এতে এলাকার আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। শুধু মাদক সেবন নয়, তারা নানা অপরাধেও
জড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা
আব্দুল হান্নান বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আঁতাত
করে তাদের ছেড়ে দেয়। এতে এলাকায় মাদকের বিস্তার আরও বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা
নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। সদর উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।