× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অবৈধ হাটের আড়ালে কোটি টাকার বাণিজ্য

এমআর কামাল, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ১১:১৪ এএম

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের বিশনন্দী এলাকায় মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাম ব্যবহার করে গড়ে ওঠা পশুর হাট। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের বিশনন্দী এলাকায় মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাম ব্যবহার করে গড়ে ওঠা পশুর হাট। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দী এলাকায় মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাম ব্যবহার করে মাসের পর মাস অবৈধভাবে চালানো হচ্ছে পশুর হাট। এতে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার হাসিলের নামে চাঁদা উঠলেও এর কোনো বৈধতা নেই। জমা হয় না সরকারের রাজস্ব খাতেও। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এবং উপজেলা প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ হাট নিয়ন্ত্রণ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এতিমখানার নাম ব্যবহার করে টোল রশিদ ইস্যু করা হলেও সেই অর্থ যাচ্ছে ব্যক্তিগত পকেটে। মাঝে মধ্যে সামান্য কিছু টাকা এতিমখানায় দেওয়া হলেও বছরজুড়ে আদায়কৃত ২ কোটি টাকারও বেশি অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগবাঁটোয়ারা করে নেয় স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতা ও উপজেলা প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তা। দীর্ঘ সময় ২০ জনের একটি সিন্ডিকেট দরপত্রবিহীন অবৈধ এ পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ করলেও প্রশাসনের নেই কোনো নজরদারি।

স্থানীয়রা জানান, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা আসার পর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সাকু বিশনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের পাশে স্বল্প পরিসরে দরপত্রবিহীন অবৈধভাবে পশুর হাট বসায়। আশপাশের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো পশুর হাট না থাকায় দ্রুত সময়ের মধ্যে হাটটির পরিসর বৃদ্ধি পায়। প্রতি সপ্তাহের বুধবার এ পশুর হাটে পাশ্ববর্তী জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, কুমিল্লা, সোনারগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার পশু ক্রয়-বিক্রয়ে আসা শুরু করে। প্রতি হাটে হাজার খানেক পশু কেনাবেচা হয়। হাসিল বাবদ প্রতি সপ্তাহেই তোলা হয় পাঁচ লাখ টাকারও বেশি। হাসিলের টাকার পরিমাণ দেখে নজর পড়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের। পরবর্তীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম যুবলীগের কয়েকজন নিয়ে গড়ে তোলে সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট তাদের এই অবৈধ কাজকে সহানুভূতি দেখাতে স্থানীয় ‘আল জামিয়তুলা ইসলামিয়া দারুল উলুম বিশনন্দী ও এতিমখানা’র উন্নয়ন কল্পে ছাপানো টোল (হাসিল) রসিদ কাটা শুরু করে। টাকা আদায় কাজে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে দিনমজুর হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, এই এতিমখানায় প্রতি ঈদে সামান্য নামমাত্র টাকা দান করে পুরো বছরে আদায়কৃত প্রায় দুই কোটি টাকা ভাগবাঁটোয়ারা করে নিত আওয়ামী লীগের ওই সিন্ডিকেট। গত বছর ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে আওয়ামী নেতাকর্মীদের পলায়নে বিশনন্দী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আমজাদ হোসেন হানজালা ও বিশনন্দী ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি আমান উল্লাহ তৈরি করে নতুন সিন্ডিকেট। আগের ধারাবাহিকতায় তারাও শুরু করে মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে গরুর হাটে হাসিলের নামে লাখ লাখ টাকা আদায় ও আত্মসাৎকার্য। এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম বিশনন্দী ও এতিমখানার একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা অনুরোধ করে মাদ্রাসার ও এতিমখানার নামে পশুর হাট থেকে টাকা তুলতে সুবিধা হয়। হাটের দায়িত্বে যারা রয়েছে তাদের কথা রাখতে গিয়ে মাদ্রাসার ও এতিমখানা নামটি রসিদে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে মাঝে মধ্যে মাদ্রাসার ফান্ডে টাকা অভাব হলে ধার নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আমজাদ হোসেন হানজালা ও বিশনন্দী যুবদল নেতা আমান উল্লাহ বলেন, সামাজিক ও ধমীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নতিকল্পে এ পশুর হাটের টাকা ব্যয় করা হয়। কোনো ভাগবাঁটোয়ারা হয় না। বছরে দুই কোটি হোক বা দশ কোটি হোক তা সামাজিক কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। গরুর হাটে যে কোনো গাড়ি ঢুকলেই চাঁদা দিতে হয়।

আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ মো. মামুনুর রশীদ বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আড়াইহাজারে কোনো অবৈধ হাট বসাতে পারবে না। এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা