সাইফ বাবলু
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৫ ১১:৩৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজারের প্রকল্প থেকে ৩৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার মামলায় চাকরিচ্যুত সাবেক হিসাবরক্ষক খন্দকার মোহাম্মদ ইকবালের ৪.১০ শতাংশ জমি ও ১টি ফ্ল্যাট জব্দ করেছে পুলিশের আপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। জব্দ করা সম্পদের মূল্য ৬৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এর আগে মামলায় ২৯৯ শতাংশ জমি ও ৪টি ফ্ল্যাট জব্দ করা হয়েছে- যার দালিলিক মূল্য ১০ কোটি ৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২১টি মিনিবাস ও ২টি হায়েস মাইক্রোবাসও জব্দ রয়েছে, যার মূল্য ১১ কোটি ১০ লাখ টাকা।
খন্দকার ইকবাল শাহজালাল ফার্টিলাইজারের হিসাব বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ৩৮ কোটির বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন এলাকায় থাকা জমি, ফ্ল্যাট ও গাড়ি জব্দ করেন আদালত। এ ছাড়া এই জালিয়াতির ঘটনায় পৃথকভাবে ২৬টি মামলার তদন্তও করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
জানা গেছে, ২০০৫ সালে বিসিআইসির প্রকল্প শাহজালাল সার কারখানায় সহকারী হিসাবরক্ষক পদে চাকরি নেন ইকবাল। অর্থ আত্মসাতের কারণে ৫ বছর আগে ওই কারখানা থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। ১৪ বছরের চাকরিজীবনে তিনি ৯১টি গাড়ি, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, দুটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও ঢাকা-গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব করতে গিয়ে তার স্ত্রীর নামে দুটি নামসর্বস্ব কোম্পানি খুলে ভুয়া বিল ও রসিদ জমা দিয়ে প্রকল্প থেকে ৩৮ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি।
সিআইডির মুখপাত্র বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদিন খান জানান, শাহজালাল ফার্টিলাইজারের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের এপ্রিলে খোন্দকার ইকবাল ও তার স্ত্রী হালিমা আক্তারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার আইনে মামলা করে সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। আত্মসাতের অর্থে বিভিন্ন এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাট কেনার প্রমাণ পাওয়া যায়। আদালত তার এসব সম্পদ ক্রোক করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২২ সালের জুনে ইকবাল ও তার স্ত্রী হালিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তখন তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়। পরে র্যাবের অভিযোগের ভিত্তিতে এই দম্পতির বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। অনুসন্ধান শেষে ২০২৩ সালের ২৬ এপ্রিল মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) সোহানুর রহমান। এতে বলা হয়, ইকবাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বিল ও রসিদ তৈরি করে তার স্ত্রী হালিমা আক্তারের দুটি প্রতিষ্ঠান টিআই ইন্টারন্যাশনাল ও নুসরাত ট্রেডার্সের নামে।
সিআইডি জানায়, জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে ঢাকার রমনা ও এয়ারপোর্ট এলাকায় ৪টি ফ্ল্যাট। ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে মোট ২৯৯.১ শতাংশ জমি রয়েছে, যার দলিল মূল্য ৭ কোটি ১১ লাখের বেশি। এ ছাড়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ইকবাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ৯১টি গাড়ির নিবন্ধন রয়েছে। এই দম্পতির মালিকানায় থাকা মাইক্রোবাস, কার, পিকআপসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন টিআই ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা করা হয়। এ ছাড়া ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীতে ওয়ান পয়েন্ট ফার্মা অ্যান্ড ডিপার্টমেন্টাল স্টোর নামের তিনটি চেইন শপ রয়েছে। বর্তমানে সিআইডি এসব সম্পদের তথ্য যাচাই করছে।