গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৫ ২২:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিনিয়োগ করলে রাতারাতি দ্বিগুণ মুনাফা মিলবে এমন প্রলোভন দেখিয়ে ১১০০ ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০ কোটি টাকা নেন আহমেদীয় ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনির আহমেদ। বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের টাকায় গড়েন বিপুল সম্পদ। আর এসব সম্পদ পুরোটাই নিজের নামে ক্রয় করেন মনির আহমেদ। অভিনব এ প্রতারণার ফলে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট, কাফরুল, বনানী, মহাখালীসহ আশপাশের এলাকার ১১০০ পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে। ইতোমধ্যে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মনির আহমেদের মালিকানাধীন একটি বহুতল ভবন জব্দ করেছে যার আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি টাকা।
সিআইডি জানিয়েছে, অভিযুক্ত মনির আহমেদ ২০০৫ সালে আহমেদীয়া বহুমুখী সমবায় সমিতি নামে ঢাকা জেলা সমবায় সমিতি থেকে নিবন্ধন নেন (নিবন্ধন নং ৬৪৮)। ২০০৬ সালে নাম পরিবর্তন করে আহমেদীয়া ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে পুনর্নিবন্ধন নেন (নিবন্ধন নং ৫৮)। প্রতিষ্ঠাকালীন সমিতির মূল উদ্দেশ্য ছিল সদস্যদের কাছ থেকে সঞ্চয় ও শেয়ার আমানত সংগ্রহ করে তা থেকে সদস্যদের ঋণ প্রদান এবং তাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন করা। প্রতিষ্ঠার সময় সদস্য সংখ্যা ছিল ২০ জনÑ যা ২০১৮ সালের অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী দাঁড়ায় ২১ জনে। সদস্যদের মাসিক চাঁদা ছিল ২ হাজার টাকা করে। নিয়ম অনুযায়ী সমিতিটি শুধু সদস্যদের মধ্যেই ঋণ ও সঞ্চয় কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা থাকলেও, অভিযুক্ত মনির আহমেদ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে আমানত সংগ্রহ শুরু করেন। একপর্যায়ে বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১১০০ জনের কাছ থেকে অধিক মুনাফা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ৫৮ কোটি ৩৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন। কিন্তু গ্রাহককে লভ্যাংশ না দিয়ে পুরো অর্থ আত্মসাৎ করেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে তিনি নিজের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মনির আহমেদসহ অন্য সহযোগী আসামিদের বিরুদ্ধে ডিএমপি কাফরুল থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ৪(২) (৪) মামলা হয়। তদন্ত চলাকালে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মিরপুরের ইব্রাহিম মৌজায় ৮.৪৭ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত ‘ইউরো স্টার টাওয়ার’ নামক বাণিজ্যিক ভবনের সন্ধান পায়। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ, মহানগর দায়রা জজ আদালত গত ১৬ জুলাই ভবনটি ক্রোকের আদেশ দেন।
গতকাল মঙ্গলবার সিআইডি ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রোক করেছে। গ্রাহকের আমানতের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে হওয়া মানিলন্ডারিং মামলাটি বর্তমানে নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে মামলাটির সম্পূর্ণ উদঘাটন নিশ্চিতকল্পে সিআইডি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
সিআইডি জানিয়েছে, অভিযুক্ত মনির আত্মগোপনে রয়েছে। মনির ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আরও সম্পদের বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে। সেগুলোও জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। বিনিয়োগকারীরা যাতে টাকা ফেরত পায় সে বিষয়ে আদালতের মাধ্যমে চেষ্টা করবে সিআইডি।