চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৫ ১৩:৩৮ পিএম
নিহত গৃহবধূ। প্রবা ফটো
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের ভাঙ্গারমুখ কোনারপাড়া এলাকায় গৃহবধূ সানজিদাকে (২১) ভাসুর, ননদ ও ভাবি মিলে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক সন্তানের জননী সানজিদা আজিম উদ্দিনের স্ত্রী। রবিবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বামী আজিম উদ্দিন বলেন, শনিবার সকালে তাদের দুই বছরের ছেলে সিফাত মিয়া উঠানে মলত্যাগ করে। এ নিয়ে সানজিদার সঙ্গে বড়ভাই হেলাল উদ্দিন ও তার স্ত্রী মিনা আক্তারের বাকবিতণ্ডা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাই হেলাল উদ্দিন, শাহাব উদ্দিন, আলাউদ্দিন, সালাহউদ্দিন ও ভাবি এবং বোন জিয়াসমিন মিলে লাঠিসোটা দিয়ে আমাদের দুজনকে মারধর করে।
আজিম উদ্দিন বলেন, সকালে কাজে যাওয়ার পর স্ত্রী ফোন করে জানায়, তারা মিলে তাকে মারধরের চেষ্টা করছে এবং ধারালো কিরিচ দিয়ে বসতঘরে আঘাত করছে। এরপর ফোন কেটে যায়। পরে জানতে পারি, স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। গিয়ে দেখি, সে আর বেঁচে নেই। আমি আমার স্ত্রীর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।
নিহতের মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, মেয়ে ফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মারছে। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান তিনি।
পিতা মাহমুদুল করিম বলেন, তিন বছর আগে মেয়ের বিয়ে হয়। তার দুই বছরের ছেলে সন্তান আছে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলেছে। আমি মামলা করব।
ময়নাতদন্ত শেষে সানজিদার মরদেহ পেকুয়ার মেহেরনামা আবাসন এলাকায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন গা ঢাকা দিয়েছে।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে মরদেহ। এজাহার পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।