× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর রূপগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোঘলের গা-ঢাকা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৫ ১০:০২ এএম

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৫ ১০:০৩ এএম

আওয়ামী সরকারের আমলে ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠানে বক্তব্যরত মোঘল (লাল বৃত্ত চিহ্নিত)। ফাইল ফটো

আওয়ামী সরকারের আমলে ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠানে বক্তব্যরত মোঘল (লাল বৃত্ত চিহ্নিত)। ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও আওয়ামী লীগ নেতা তারিকুল ইসলাম মোঘলের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। স্বনামধন্য একটি আবাসন কোম্পানির দায়ের করা প্রতারণাপূর্বক অর্থ আত্মসাতের মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ জেলার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের রূপগঞ্জের আমলি আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই পরোয়ানা জারি করেন। ৪৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা আত্মসাতের ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকে গা-ঢাকা দিয়েছেন ‘ক্যাসিনো মোঘল’ হিসেবে সমধিক পরিচিত এই শীর্ষ সন্ত্রাসী। এমন পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই এই পাঁড় জুয়াড়ি যাতে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো ভূমিকা দাবি করেছেন স্থানীয়রা। 

জানতে চাইলে রূপগঞ্জ থানার ওসি তরিকুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘মোঘলের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির খবর পাওয়া গেছে। থানায় এখনও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার অনুলিপি এসে পৌঁছেনি। অনুলিপি আসামাত্র তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে। এমনকি মোঘল যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সেজন্য ইমিগ্রেশনেও ওয়ারেন্টের কপি পাঠানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত তারিকুল ইসলাম মোঘলের নামে এলাকায় সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ডসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু ভয়ে কেউ অভিযোগ দিতে সাহস পায় না।’ পুলিশের পক্ষ থেকেও মোঘল সম্পর্কে বিস্তারিত খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান রূপগঞ্জ থানার এই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। 

মোঘলের বিরুদ্ধে গতকাল পরোয়ানা জারি হওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছে, আবারও তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তারে র‌্যাব, সিআইডি ও পুলিশের বিশেষ শাখা এসবির নজরদারি বাড়ানোর দাবি করেছেন এলাকাবাসী। 

স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোর-জুলুম করে এখনও চাঁদা আদায় করছে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোঘল ও তার ক্যাডার বাহিনী। উল্লেখ্য, অন্যের বাড়ি ও জমি দখল করে বিক্রির পর সেই টাকায় তিনি বিদেশে প্রমোদ ভ্রমণ করেন। এ ছাড়া চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিও মোঘলের অর্থ উপার্জনের অন্যতম উৎস। প্রতারণার মাধ্যমে নিরীহ মানুষের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎও তার অন্যতম পেশা। স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও দাবি, দুদক ও সিআইডি যথাযথ তদন্ত করলেই মোঘলের সকল অপকর্মের হদিস পাওয়া যাবে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর পূর্বাচল এলাকাটি সন্ধ্যার পরপরই জনমানবহীন হয়ে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের পরিবেশ-পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে মোঘলের নেতৃত্বাধীন একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। সম্প্রতি পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম অনেক বেড়ে গেছে। ওই এলাকায় বেড়াতে যাওয়া দর্শনার্থীদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্রও হাতিয়ে নিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। এ ছাড়া রূপগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও তারা জোরপূর্বক মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছে। চাহিদামতো চাঁদা না দিলে ব্যবসায়ীদের ওপর নেমে আসছে নির্যাতনের খড়গ। আর এসব অপকর্মের নেপথ্যে বারবার উঠে আসছে একটি নাম তারিকুল ইসলাম মোঘল। 

উল্লেখ্য, গত বছর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে অর্থ ও অস্ত্রের জোগানদাতা মোঘল কীভাবে দেশে ফিরে এত অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষ ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, একসময়ের ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী ও জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত মোঘলের রয়েছে নানা দেশের গোল্ডেন বা এলিট ভিসা। এর মধ্যে দুবাই, নেপাল, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা অন্যতম। এসব দেশে তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। জানা যায়, দুবাইতে ১০ বছরের গোল্ডেন ভিসা ও থাইল্যান্ডের ২০ বছরের এলিট ভিসা রয়েছে মোঘলের। ফলে অবস্থা বেগতিক দেখলেই চোখের নিমেষে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তার। এজন্য এলাকাবাসীর দাবি, পুলিশের নজর এড়িয়ে এই সন্ত্রাসী যেন কিছুতেই পালিয়ে যেতে না পারেন। আর এর জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি বিশেষ সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা