তানভীর হাসান
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৫ ০৮:৪৬ এএম
গুলশানে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক (বহিষ্কার) মো. আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান ওরফে রিয়াদের এক ব্যাংকের অ্যাকাউন্টেই কয়েক কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সাউথইস্ট ব্যাংকের গ্রিন রোড শাখায় ওই অ্যাকাউন্টটি খোলা হয় গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে। এ ছাড়া আরও অন্তত তিনটি ব্যাংকে তার অ্যাকাউন্ট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে কী পরিমাণ লেনদেন হয়েছে, তার হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি।
এদিকে রিমান্ডের চতুর্থ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। সম্প্রতি রিয়াদ ২০০৯ সালে রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত এমপি আবুল কালাম আজাদের কাছ থেকে নেন ৫ কোটি টাকার চেক। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়, বাকি ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার চেক এখনও উদ্ধার হয়নি। ওই চেক রয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক নেতার কাছে, সেটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া রাজধানীর ভাটারা এলাকার আওয়ামী লীগের এক নারী নেত্রীর কাছ থেকে নেন ২৭ লাখ টাকা। সেই টাকা সাউথইস্ট ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চার নেতার কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাচ্ছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা। জিজ্ঞাসাবাদে ওই ছাত্ররা ৫ আগস্টের পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের টার্গেট করে চাঁদাবাজি করছিল বলে স্বীকার করেছেন। এ সময়ের মধ্যে তারা ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে ৩৮ জন ব্যবসায়ী ও ৩০ থেকে ৩৫ জন রাজনীতিবিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। গ্রেপ্তারের পর রিয়াদের চাঁদাবাজির বিষয়ে অনেকে পুলিশকে ফোন দিয়ে তথ্য দিলেও তারা মামলা দিতে নারাজ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির গুলশান থানার ওসি হাফিজুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গ্রেপ্তারদের গোয়েন্দা ও থানা পুলিশ যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা একাধিক ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে স্বীকার করছেন। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
গত ২৬ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাঁচ নেতাকর্মী। এ ঘটনায় ছয়জনের নামে গুলশান থানায় মামলা হয়। পরদিন পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদের জন ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে চারজনকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় একজনকে পাঠানো হয় টঙ্গীর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে। এর পর থেকে ওই চারজন গুলশান থানা পুলিশের রিমান্ডে রয়েছেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও থানা পুলিশের একাধিক টিম তাদের আলাদা আলাদা জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
রিমান্ডে থাকা আসামিরা হচ্ছেনÑ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আহ্বায়ক মো. আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান ওরফে রিয়াদ, ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, সদস্য সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব। অপ্রাপ্তবয়স্ক আমিনুল ইসলাম রয়েছেন কিশোর সংশোধনাগারে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার আবদুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান ওরফে রিয়াদের বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চারটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় মামলা করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তিনি জানান, ওই চেকগুলো রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। চেক চারটি জনতা ব্যাংকের। দুটি চেকে এক কোটি করে দুই কোটি, একটি চেকে ১৫ লাখ ও আরেকটিতে ১০ লাখ টাকার পরিমাণ লেখা রয়েছে।
গুলশানে চাঁদাবাজির সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি নাÑ জানতে চাইলে তালেবুর রহমান বলেন, কারও দলীয় পরিচয় মুখ্য বিষয় নয়। তদন্ত চলছে। আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্তে জানা যাবে।