× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জামিন হয়নি মহাবাটপাড় জসীমের, বাদীকে হত্যার হুমকি

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৪ ০০:৪০ এএম

জসীম উদ্দিন এবং তার স্ত্রী তানজিনা সুলতানা। ফাইল ফটো

জসীম উদ্দিন এবং তার স্ত্রী তানজিনা সুলতানা। ফাইল ফটো

সাবেক আইজিপি বেনজীরের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত, ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষক মহাবাটপাড় জসীম উদ্দিনের জামিনের আবেদন আবারও নাকচ করেছেন আদালত। ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় রাজধানীর বাড্ডা থানায় দায়ের হওয়া মামলায় গত ৪ ডিসেম্বর খিলক্ষেত এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পাঁচ দফায় ঢাকার নিম্ন আদালতে জসীম উদ্দিনের পক্ষে জামিন চাওয়া হলেও আদালত শুনানি শেষে তা নাকচ করে দিয়েছেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক ঘরানার মহাবাটপাড় জসীম উদ্দিন এবং তার স্ত্রী তানজিনা সুলতানার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির দুটি মামলা করেছে দেশের সুপ্রতিষ্ঠিত রংধনু গ্রুপ। ঢাকা সিএমএম আদালতে দায়ের হওয়া মামলা দুটি আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলায় শ্যেন অ্যারেস্ট দেখিয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) জসীম উদ্দিনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এ সময় জসীম উদ্দিন আদালত চত্ত্বরে মামলার বাদীকে দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি প্রকাশ্যেই মামলা তুলে না নিলে বাদিকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

বিশ্ববাটপার হিসাবে পরিচিত জসীম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলায় বাদী অভিযোগ করেছেন, জেসিকা গ্রুপ নামের একটি শিল্প গ্রুপের মালিক হিসেবে জসীম উদ্দিন রংধনু গ্রুপের মালিকের সঙ্গে পরিচিত হন। জেসিকা গ্রুপের চেয়ারম্যান তানজিনা সুলতানা এবং এমডি জসীম উদ্দিন কক্সবাজারে হোটেল আইবিশ লিমিটেড নামের একটি হোটেলের কাজ শুরু করেন। টাকার সমস্যার কথা বলে আসামিগণ শতভাগ শেয়ার বিক্রি করার ঘোষণা দেন। এর বিপরীতে ব্যাংকের মাধ্যমে কয়েক দফায় রংধনু গ্রুপের কাছ থেকে ২৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন তারা। হোটেলটি চালু হওয়ার পর লাভের অংশ হিসেবে আরও ১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে এই প্রতারক দম্পতি। রংধনু গ্রুপের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার আগে এই প্রতারক স্বামী-স্ত্রী জানিয়েছিলেন, হোটেল আইবিশ লিমিটেডের নামে কোনো ব্যাংক লোন নেই। টাকা পরিশোধের পর দেখা যায়, ওই হোটেল এবং সমুদয় সম্পত্তি সোনালী ব্যাংক পিএলসির খাতুনগঞ্জ শাখায় দায়বদ্ধ রেখে তারা আগেই টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জসীম উদ্দিন একজন আন্তর্জাতিক মানের বাটপাড়। সৌদি আরব ও দুবাইতে অবস্থানকালে হোটেল এবং দোকান ব্যবসার নামে বহু মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। সামান্য একজন টিবয় হিসেবে জীবন শুরু করা এই জসীম উদ্দিন প্রতারণার মাধ্যমে এখন কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক। অর্থ পাচার করে দুবাই, সৌদি আরবে গড়ে তুলেছেন দোকান ও হোটেল ব্যবসা। বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার আমলে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদসহ অনেকের সঙ্গেই ছিল তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। তাদের নাম ভাঙিয়ে বহু মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থবিত্তের মালিক হলেও জসীম উদ্দিন সব সময় ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। গত ৪ ডিসেম্বর পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর নিরীহ মানুষের কাছ থেকে বেরিয়ে আসছে মহাপ্রতারক, টাউট জসীম উদ্দিনের নানা গল্পকাহিনী।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী লাভলু জানিয়েছেন, জসীম উদ্দিন হোটেলের শেয়ার বিক্রি করার কথা বলে, সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে অন্তত দেড়শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, আদালত যেন এই মহাবাটপাড় ও প্রতারকের উপযুক্ত বিচার করেন। জালজালিয়াতির গডফাদার জসীম উদ্দিনকে রক্ষা করতে সমাজের কিছু তথাকথিত নামিদামি মানুষ মাঠে নেমেছেন। তারা চাইছেন, যেকোনো মূল্যে জসীম উদ্দিনকে জামিনে বের করে আনতে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নামসর্বস্ব রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা প্রতারক জসীম উদ্দিনকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছেন। ওই নেতাদের কোনো জনপ্রিয়তা নেই। নিজের এলাকায় ভোটে দাঁড়ালে জনগণ ভোট দিবেন কি-না সে নিশ্চয়তা যেখানে নেই সেখানে বাটপার জসীম উদ্দীনকে বাঁচাতে তাকে নিজেদের দলে নিয়ে একটা রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়ার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা চান, বিশ্বপ্রতারক জসীম উদ্দিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা