নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০:২৫ এএম
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:০৪ এএম
আলাদিনের জাদুর চেরাগের মতো ক্ষমতা পেয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যাওয়া পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সকল অপকর্মের দোসর এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ক্যাশিয়ার জসীম উদ্দিন কারাগারে বন্দি থেকেও তার ক্ষমতা প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। সেখানে বসেই যাকে-তাকে হুমকি দিচ্ছে সে। বলে বেড়াচ্ছে কারাগার থেকে বের হয়ে দেখে নেবে। রংধনু গ্রুপের সিংহভাগ মালিকানাধীন কক্সবাজারের পাঁচ তারকা হোটেল এখন পুরোটাই দখল করে নিয়েছে তার নিযুক্ত সন্ত্রাসীরা। শুধু দখল নয়, জসীম অবৈধভাবে হোটেলটির কোটি কোটি টাকার শেয়ারও বিক্রি করছে। হোটেল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। তারা হোটেল রামাদাকে এই মহাবাটপাড়ের কবল থেকে রক্ষার জন্য প্রশাসন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
হোটেল সংশ্লিষ্ট একাাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, হোটেলটি এখন জসীমের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দখলে রয়েছে। ইতোমধ্যে অবৈধভাবে এই হোটেলের শেয়ার বিক্রি করে জসীম কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকা হাতিয়েও নিয়েছে। চলছে আরও শেয়ার বিক্রির পাঁয়তারা। আর এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে এই হোটেলের সিংহভাগ মূল মালিক রংধনু গ্রুপ। তারা এখন কারারুদ্ধ জসীম ও তার সশস্ত্র বাহিনীর লোকদের হুমকির মুখে আতঙ্কগ্রস্ত এবং দিশেহারা।
জসীমের পেটোয়া সন্ত্রাসীদের ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কক্সবাজারের স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তারা সবাই জানেন এই পাঁচ তারকা মানের হোটেল রামাদার সিংহভাগ মালিকানা রংধনু গ্রুপের। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে সম্পূর্ণ হোটেলটিই দখল করে নিয়েছে জসীম উদ্দিন। তার সন্ত্রাসীরা এখন রংধনু গ্রুপের কাউকে হোটেলটিতে ঢুকতে দিচ্ছে না। হোটেলের চারপাশে রয়েছে অর্শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসীর পাহারা। পাশের একটি ভবনে আস্তানা গেড়ে এই সন্ত্রাসীরা নিয়মিত মহড়া দিচ্ছে। প্রতি মাসে হোটেল থেকে আয় হয় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা। পুরো টাকাটাই এতদিন জসীম জোর করে তার অ্যাকাউন্টে নিয়ে নিয়েছে। আর এখন শুরু করেছে শেয়ার বিক্রির নতুন পাঁয়তারা।
রামাদা হোটেলের প্রকৃত অংশীদাররা জানান, তারা এখন ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না। যেতে পারছেন না তাদের নিজেদের হোটেলেই। কারাগার থেকে জসীম এবং বাইরে থাকা তার নিযুক্ত সন্ত্রাসীরা ঘোষণা দিয়েছে, রংধনু গ্রুপের যারাই হোটেলে আসার চেষ্টা করবে, তাদেরকেই কচুকাটা করা হবে।
তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সকল অপকর্মের দোসর এবং হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি হয়েও কারাগারে থেকে জসিম এই সাহস পায় কোথায়? রামাদা হোটেলকে তারা এই মহাবাটপাড় জসীমের কবল থেকে রক্ষার আবেদন জানান প্রশাসন ও সরকারের কাছে। তাদের দাবি প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলেই শুধু হোটেল দখল নয়, এই জসীমের আরও অনেক অজানা অপরাধের খবরও বেরিয়ে আসবে।