নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:২৭ এএম
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে অবৈধ অর্থে তৈরি করা আলিশান বাড়ির সামনে জসীম উদ্দিন আহমেদ
চট্টগ্রামের চন্দনাইশের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী জসীম উদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত নিয়ে গোলকধাঁধায় পড়েছে পুলিশ। সামান্য একজন হোটেল কর্মচারী থেকে কীভাবে একজনের পক্ষে এমন সম্পদশালী হয়ে ওঠা সম্ভব, তা বুঝে উঠতে পারছে না তারা। একটি হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই জসীমের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া যাচ্ছে নানারকম চমকপ্রদ তথ্য। আর তাতেই বিস্মিত পুলিশ। স্বর্ণ চোরাচালান, নারী পাচার, হুন্ডি ব্যবসা, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ, জঙ্গি অর্থায়ন, পদায়ন ও বদলি বাণিজ্য আর ইয়াবা ব্যবসা থেকে শুরু করে হেন কোনো অপরাধ নেই, যার সঙ্গে জসীমের সম্পৃক্ততার অভিযোগ মিলছে না। আর এর সবই করেছেন তিনি, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী এবং অপরাধ সাম্রাজ্যের আরেক সম্রাট সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের মাধ্যমে।
জসীমের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্নের শেষ নেই। একসময় খাবারের দোকানে কাজ করা এক ব্যক্তি কীভাবে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হলেন, তা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তার বিত্তবৈভবের উত্থান ও সম্পদের উৎস ঘিরে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ।
আলোচিত ব্যবসায়ী জসীম দুই সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও শহীদুল হকের ব্যবসায়িক পার্টনার। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, বিতর্কিত ডিবি পুলিশ কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ এবং বিপ্লব কুমার সরকার ও বনজ কুমারসহ সাবেক সরকারের ক্ষমতাধরদের সঙ্গে ছিল তার ব্যাপক ঘনিষ্ঠতা। আর এদেরকে সঙ্গে নিয়ে এবং তাদের ওপর ভর করেই আজ তার এই অবস্থান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ও এই জসীম ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও হাছান মাহমুদের মাধ্যমে ছাত্রলীগের পেছনে মোটা অঙ্কের টাকা ব্যয় করেন । ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের হাতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দেওয়ারও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।
জসীমের সম্পদের পাহাড়
অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজারের কলাতলী সাগরপাড়ে অবস্থিত তারকামানের হোটেল রামাদাতেও মালিকানা রয়েছে বিতর্কিত ব্যবসায়ী জসীমের। আলোচনায় রয়েছে, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ক্যাশিয়ার হিসেবে তার অবৈধ টাকা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন বিতর্কিত এই ব্যবসায়ী। কলাতলী বিকাশ বিল্ডিং নামে পরিচিত একটি বহুতল আবাসিক হোটেলের ৭৯টি ফ্ল্যাট কিনে নিয়েছেন জসীম। একই হোটেলে থাকা আরেক সাবেক আইজিপি, বর্তমানে কারান্তরীণ শহীদুল হকের কাছ থেকেও তিনি ১৩টি ফ্ল্যাট কিনেছেন। এসব ফ্ল্যাটের বাজারমূল্য শতকোটি টাকার মতো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জসীমের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে নেমে তারা যেন চোখে সরষের ফুল দেখছেন। এদের সম্পদের পাহাড় তৈরির অর্থ জোগান দিতে গিয়েই ব্যাংকগুলো বর্তমানে অর্থসংকটে ভুগছে। পদ্মা ব্যাংক থেকে ১১৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন জসীম। এ কারণে আদালত তার বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছিলেন। কয়েক বছর আগেও যে জসীম ছিলেন দুবাইয়ে এক হোটেল কর্মচারী, সেই তিনি চট্টগ্রামের লালদীঘির পশ্চিম পাড়ে প্রায় শতকোটি টাকা দিয়ে মহল শপিং কমপ্লেক্স কিনেছেন। চট্টগ্রামের চান্দগাঁও আবাসিক ই-ব্লকের ১৪ নম্বর প্লটে তার ৮০ শতক জমি রয়েছে। যার বাজারমূল্য ৭০ কোটি টাকা। ফিরিঙ্গি বাজারে রয়েছে ৩টি বহুতল আবাসিক ভবন। যার বাজারমূল্য ৮০ কোটি টাকা। চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় আছে তিন কানি জমি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫০ কোটি টাকা। বাকলিয়ায় রয়েছে ৫ কানি জমি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৭০ কোটি টাকা।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ও হালিশহরের বিভিন্ন এলাকায়ও জসীম নামে-বেনামে শতকোটি টাকার জায়গা কিনেছেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। চন্দনাইশে নিজ এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। গ্রামে নামে-বেনামে কিনেছেন আরও অন্তত শতকোটি টাকার সম্পদ। দুবাই ও সৌদি আরবে একাধিক হোটেলের মালিকানাসহ বিভিন্ন ব্যবসায় অন্তত ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে তার। সব মিলিয়ে দেশ-বিদেশে জসীম উদ্দিন হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
দুবাইয়ে জসীমের দিনকাল
দুবাই প্রবাসী কয়েকজন জানিয়েছেন, তারা জসীমের এতসব বিত্ত-সম্পদের কথা জানতে পেরে রীতিমতো বিস্মিত। কারণ তাদের চোখের সামনেই জসীম সেখানে হোটেলে বয়-বেয়ারার কাজ করেছেন। এরপর তিনি স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তিনি দুবাইতে ছোটখাটো একটা খাবার হোটেল দেন। এরপর জড়িয়ে পড়েন শোবিজ ব্যবসায়। দুবাইয়ে নাচ গানের অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে বাণিজ্য শুরু করেন তিনি। এভাবে নিষিদ্ধ জগতের পর্ন ব্যবসার সঙ্গেও সম্পৃক্ততা গড়ে ওঠে তার। বাংলাদেশ থেকে নাইট ক্লাবে কাজ দেওয়ার কথা বলে অনেক মেয়েকেই তিনি দুবাই নিয়ে যেতেন। সেখানে অশ্লীল ভিডিও নির্মাণের পাশাপাশি তিনি এই নারীদের তুলে দিতেন দুবাইয়ের শেখদের হাতে। এই চক্রকে কাজে লাগিয়ে তিনি সেখানে স্বর্ণ চোরাচালানেরও একটা বড় সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।
হুন্ডির মাধ্যমে চোরাচালানের টাকার লেনদেন ছাড়াও পেশাগতভাবেই হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন জসীম উদ্দিন। বাংলাদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে দুবাইয়ে টাকা পাচার করতেন তিনি। দুবাইপ্রবাসী সোহেল নামে এক ব্যক্তি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘জসীম প্রথমে দুবাইয়ে এসে খুব কষ্ট করে সময় পার করেছেন। পরে ফিরুজ মোড়া এলাকা ও গোল্ডেন কাফ এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাটে অনৈতিক নারী ও মাদক ব্যবসা, সোনা চোরাচালান ও স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অবৈধ হুন্ডির ব্যবসা করে শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।’
মধ্যবাড্ডা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা এই প্রতিবেদককে জানান, ‘গত ২০ জুলাই মধ্যবাড্ডা ইউলুপের নিচে পোস্টঅফিস গলিতে কোটা আন্দোলনের মিছিলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে দুর্জয় আহম্মেদ নামে এক আন্দোলনকারীর দুই চোখ অন্ধ হয়ে যায়। ওইদিন সেখানে হামলাকারীরা যেসব অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে, সেগুলো জসীমেরই দেওয়া।
পুলিশ কী বলছে ?
তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়ে সক্রিয় রাখেন জসীম উদ্দিন। এমনকি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাতে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগসহ আওয়ামী লীগ নামধারী কতিপয় পেশাদার সন্ত্রাসীর হাতে অবৈধ অস্ত্রও তুলে দেন। ঢাকার উত্তরা ও বাড্ডা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও ছাত্রদের ওপর কয়েকটি হামলায় সামনে থেকে নেতৃত্বও দেন তিনি।
বাড্ডায় আন্দোলনকারী দুর্জয় আহম্মেদ নামের এক যুবক তাকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় বাড্ডা থানায় একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যাদের মধ্যে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী এই জসীম উদ্দিনের নামও রয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২০ জুলাই মামলার বাদী মো. দুর্জয় আহম্মেদ (২৮) কোটা আন্দোলনের মিছিলে অংশগ্রহণ করে বাড্ডা থানাধীন মধ্যবাড্ডা ইউলুপের নিচে পোস্টঅফিস গলির মাথায় রাস্তার ওপর অবস্থান করছিলেন। তখন এজাহারে বর্ণিত আসামি অর্থাৎ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় তাদের অনুসারীদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। এতে বাদীর দুই চোখ অন্ধ হয়ে যায়।এ ছাড়া মাথার পিছনেও গুরুতর আঘাত লাগে। ওই সময় আসামিরা বাদীকে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। পথচারী লোকজনের সহায়তায় দুর্জয়কে এ এম জেড হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠান। পরে অধিকতর উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে দুর্জয়কে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে অনেকটা আত্মগোপনে চলে যান জসীম উদ্দিন। পালিয়ে অবস্থান করেন বিভিন্ন জায়গায়। হোটেল লা মেরিডিয়ানে অবস্থানকালে কয়েকবার দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টাও করেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। গ্রেপ্তার তাকে হতেই হয়েছে।
আদালতেও জসীমের আধিপত্য
মধ্যবাড্ডায় সংঘটিত আলোচিত দুর্জয় আহম্মেদ হত্যা অপচেষ্টা মামলায় ৪ ডিসেম্বর গুলশানের খিলক্ষেত থানার পাশে হোটেল লা মেরিডিয়ান এলাকা থেকে জসীমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার জসীমকে আদালতে তোলা হয়। এ সময় জসীমকে আদালত এলাকায় বেশ হাসিখুশি দেখা যায়। এ সময় তার সঙ্গে আওয়ামী লীগপন্থি বেশ কয়েকজন আইনজীবীকেও কথা বলতে দেখা গেছে। জসীমের পক্ষে আইনজীবী জামিন আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক রাসেল পারভেজ তাকে আটক রাখার আবেদন করেন। আদালত এ সময় উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কারাগারে যাওয়ার সময়ও জসীম তার আইনজীবীদের উদ্দেশে বলতে থাকেন, ‘আমার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাও। টাকা যত লাগে খরচ কর। এই সরকারকে কেনার মতো টাকা আমার আছে। আমি শিগগিরই বের হয়ে আসব। দেখবে, আওয়ামী লীগও দ্রুতই ক্ষমতায় চলে আসবে।’
কারাগারেও জসীম জামাই আদরে
এই সরকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে জড়িত থেকে এবং হত্যা প্রচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েও কারাগারে থাকা জসীম জেলখানায় জামাই আদরে আয়েশি সময় কাটাচ্ছে বলে জানা গেছে। কিছুক্ষণ পরপরই মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে কারা কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে টেলিফোনে স্বজন আর দলীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। কেরানীগঞ্জ কারাগারে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে টাকার বিনিময়ে ডিভিশন মর্যাদার সুবিধা দেওয়া হচ্ছে তাকে।
তবে কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ ঠিক নয়। কারাবিধি অনুযায়ী যে বন্দি বা কয়েদি যে ধরনের সুবিধা পাবেন গ্রেপ্তার জসীমও সেই সুবিধা পাচ্ছেন।’
রামাদা হোটেল দখলে নিয়েছেন জসীম
কক্সবাজারের পাঁচ তারকা মানের হোটেল রামাদা’র সিংহভাগ মালিকানা রংধনু গ্রুপের। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে সম্পূর্ণ হোটেলটিই দখল করে নিয়েছেন জসীম উদ্দিন। তার সন্ত্রাসীরা এখন রংধনু গ্রুপের কাউকেই হোটেলটিতে ঢুকতে দিচ্ছে না। হোটেলের চারপাশে রয়েছে অর্শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসীর পাহারা। পাশের একটি ভবনে আস্তানা গেড়ে এই সন্ত্রাসীরা নিয়মিত মহড়া দিচ্ছে। প্রতি মাসে হোটেল থেকে আয় হয় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা। পুরো টাকাটাই এখন জসীম জোর করে তার অ্যাকাউন্টে নিয়ে নিচ্ছে।
জসীম এবং তার লোকজন ঘোষণা দিয়েছে, রংধনু গ্রুপের যারাই হোটেলে আসবার চেষ্টা করবে, তাদেরকেই কচুকাটা করা হবে।