প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৪ ২০:০৪ পিএম
আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৪ ২০:২৫ পিএম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে নিহত সিফাত উল্লাহর পরিবারের অনুদানের টাকা আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রের ১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
শক্রবার (১৮ অক্টোবর) সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স এন্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট শাখার একটি টিম অভিযুক্ত মো. আকাশ ব্যাপারীকে মাদারীপুরের শিবচরের সূর্য্যনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আজাদ রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিআইডি জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত সিফাত উল্লাহ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মুনিয়ারীকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এমদাদুল উলুম জামিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার ছাত্র ছিলেন। সিফাত উল্লাহর মৃত্যুর পর বিভিন্ন সংগঠন তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়। পরিবারটি সাইবার মনিটরিং ইউনিটে অভিযোগে জানান, গত ৬ অক্টোবর তাদের কাছ থেকে অভিনব কৌশলে ১ লাখ ৫৬ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র।
সিফাতের পরিবারের অভিযোগ, প্রতারক চক্রের সদস্যরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সেজে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের পরিবারকে অনুদান দেওয়ার কথা বলে কল দেন। টাকা দেওয়ার কথা বলে পরিবারটির কাছ থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং কৌশলে এটিএম কার্ডের তথ্য নিয়ে নেয়। তারপর টাকা দেওয়ার সিরিয়াল নম্বরের কথা বলে ওটিপি নিয়ে নেয়। ওটিপি নেওয়ার পর চক্রটি কার্ডের টাকা হাতিয়ে নেয়। অভিযোগ পাওয়ার পর সাইবার মনিটরিং টিম প্রতারক চক্র ও অপরাধের ধরন শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
মো. আজাদ রহমান বলেন, ‘সাইবার ইউনিট প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পারে- চক্রটি প্রতারণার টাকা দিয়ে বিভিন্ন অনলাইন কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম থেকে ভুয়া নাম-ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে পণ্য কেনে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামি স্বীকার করেছেন যে, তারা ১৪/১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, এটিএম কার্ডের পাসওয়ার্ড বা ওটিপি খুবই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য; যা দিয়ে প্রতারক চক্র ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে দ্রুত টাকা সরিয়ে ফেলতে পারে। এ জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা এটিএম কার্ডের তথ্য কারো সঙ্গে শেয়ার না করার পরামর্শ দিয়েছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার।