প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৫:২১ পিএম
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৫:৪০ পিএম
প্রতীকী ছবি
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, নিহত দুজনই মাদক কারবারে জড়িত। এদের মধ্যে মুন্নার বিরুদ্ধে মাদক, নাশকতার অন্তত ৮টি এবং নাসিরের বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আবারও এলাকায় নিজেদের অধিপত্য ধরে রাখতে পুরোনো ধাঁচে চলার চেষ্টা করছিল তারা। তারা এক গ্রুপের সদস্য হলেও সম্প্রতি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।
শুক্রবার মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বধ্যভূমিসংলগ্ন বেড়িবাঁধে দুই পক্ষের ধাওয়াধায়ির মধ্যে দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেনÑ নাসির বিশ্বাস ও মুন্না। এদের মধ্যে নাসির ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং মুন্না শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি ইফতেখার হাসান জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতেই প্রতিপক্ষ গ্রুপ এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। মুন্নার বিরুদ্ধে মাদক, নাশকতার অন্তত ৮টি এবং নাসিরের বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নাসির পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। সম্প্রতি সর্দার হিসেবে তিনি বিভিন্ন ভবন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক সরবরাহ শুরু করেন। বিগত সরকারের নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে নাসির মোহাম্মদপুর-হাজারীবাগ এলাকায় আওয়ামী লীগের লোক হিসেবে পরিচিত। পুলিশ বলছে, এই পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবজি, মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল নাসির। নাসিরের পেশা রাজমিস্ত্রি হলেও মুন্নার কোনো পেশা নেই।
এই সহিংসতার ঘটনায় শাওন নামে একজন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ওসি সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার সময় একই মহল্লার নাসিরের সঙ্গে তার দেখা হয়। তিনি যেদিকে যাচ্ছিলেন, নাসিরও সেদিকে যাবেন বলে তার মোটরসাইকেলে উঠে বসেন। পথে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের পাশে সাদেক খান কৃষি মার্কেটের সামনে দিয়ে কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর তারা দুই দল অস্ত্রধারী তরুণের ধাওয়া, পাল্টা-ধাওয়ার মধ্যে পড়ে যান। তার দাবি, এ ঘটনায় কোনো গ্রুপের সঙ্গেই তাদের সম্পৃক্ততা নেই।
ওসি ইফতেখার জানান, এখনও এ ঘটনায় মামলা হয়নি। কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত এবং আটক করতে ওই এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ।
নিহত নাসিরের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার বালিগ্রামের শাহ আলম বিশ্বাসের ছেলে। রায়েরবাজার বারৈখালী এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ।
নাসিরের বড় ভাই ইসলাম বিশ্বাস জানান, তার ভাই নির্মাণাধীন কাজে লেবার-সুপারভাইজারের কাজ করত। বিকালে সে বাসা থেকে বের হয়েছিল। পরে খবর পাই, তাকে ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী কুপিয়েছে। পরে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় পাই, ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মাসুদ আলম বলেন, নাসিরের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে মারা যান।