× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আজিজ-জিয়াউল-সোহায়েলের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে দুদক

আলাউদ্দিন আরিফ

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৪ ১০:০৯ এএম

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৪ ১০:৪১ এএম

আজিজ আহমেদ, জিয়াউল আহসান ও  মোহাম্মদ সোহায়েল। ছবি কোলাজ : প্রবা

আজিজ আহমেদ, জিয়াউল আহসান ও মোহাম্মদ সোহায়েল। ছবি কোলাজ : প্রবা

এবার দুর্নীতি দমন কমিশনের জালে ধরা পড়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) জিয়াউল আহসান ও নৌবাহিনীর অব্যাহতিপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল। ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এরই মধ্যে আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। জিয়াউল ও সোহায়েলের বিষয়ে প্রাক অনুসন্ধান চলছে। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কমিটি করবে কমিশন। দুদকের একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতি করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি কমিশনের তফসিলভুক্ত অপরাধ হওয়ায় আমরা অনুসন্ধান করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজিজ আহমেদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। জিয়াউল এবং সোহায়েলের বিষয়ে কমিটি গঠন করা হবে। 

আজিজ আহমেদ

আজিজ আহমেদ ওরফে ফারুকের বিরুদ্ধে রিসোর্ট, বাংলোবাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, শত শত বিঘা জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় পড়েছেন তিনি। দুদকে জমা হওয়া অভিযোগে আজিজ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পত্তি থাকার তথ্য রয়েছে। রাজধানী সংলগ্ন আমিনবাজারে বড় বরদেশী মৌজায় সিলিকন সিটি হাউজিংয়ে ১৮৬ কাঠা জমির ওপর একটি বাগানবাড়ি রয়েছে তার। সেখানে অনেক নিষিদ্ধ বন্য প্রাণী পালন করেন তিনি। ওই হাউজিংয়ের পরিচালক আজিজ আহমেদের বড় ছেলে ইরফান আহমেদ সাদিব। হাইকোর্ট সিলিকন সিটির সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন। সেখানে আজিজের ভাই তোফায়েল আহমেদ জোসেফের নামে আছে ২০০ কাঠা জমি। 

আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের মনোসন্তোষপুর মৌজায় পূর্ণিমারচালা এলাকায় আজিজ আহমেদের রয়েছে প্রায় ২১ বিঘা জমি। ২০১৮ সালের দিকে স্থানীয় ঈমান আলী, আব্বাস উদ্দিন, খোরশেদ আলম ও ফারুকের মাধ্যমে এই জমি কেনেন তিনি। পাশের রাস্তা সংলগ্ন প্রায় ৫ বিঘা জমি বাউন্ডারি করে রাখা আছে। 

এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর মৌজায় জাকের ডেইরি ফার্মের পাশে আজিজের ৪ কাঠার দুটি প্লট, মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেড ৪ নং রোডে কুবা মসজিদের গলিতে ৯৯ নং বাসায় আজিজ ও তার ভাইদের নামে বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট রয়েছে। ওই ভবনে তাদের নামে কয়েকটি ‘দান’ বা ‘উপহার’ পাওয়া ফ্ল্যাট রয়েছে।

ভাকুর্তা ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকায় শ্যামলাপুর মৌজায় আজিজ আহমেদের নামে বেশ কিছু প্লট আছে। শ্যামলাসি কলাতিয়া পাড়ার পেছনে জমজম হাউজিংয়ের রাস্তার ডান পাশে ৮০ শতাংশ ও ৫০ শতাংশ আয়তনের দুটি প্লট রয়েছে। শ্যামলাসি দুদু মার্কেট এলাকায় অ্যাকটিভ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পাশে ১৭ শতাংশের আরেকটি প্লট আছে তার। শ্যামলাপুরে ৭৮ শতাংশ আয়তনের সেজান জুসের মালিকানায় থাকা একটি প্লট দখল করার অভিযোগ রয়েছে তার ছেলের বিরুদ্ধে। 

মিরপুর ১২ নম্বরের সিরামিক ফ্যাক্টরির ৪ নম্বর গেটের পাশে বঙ্গবন্ধু কলেজ রোডে ৫ কাঠার প্লটে আজিজ আহমেদের একটি ১০ তলা বাড়ি রয়েছে। বাউনিয়া মৌজায় বাড়ি নং ১৩/১৪ ব্লক ডি, এভিনিউ-২, মিরপুর-১২, পল্লবী ঠিকানায় আছে ২১টি ফ্ল্যাট। মিরপুর সিরামিক ৪ নং গেটের বিপরীত পাশে ৩ কাঠার প্লটে রয়েছে টিনশেড বাড়ি ও কয়েকটি দোকান। মিরপুর ডিওএইচএসে আজিজ আহমেদের একটি বাড়ি রয়েছে, যার ঠিকানাÑ রোড নং ১৩, প্লট নং ১৩২০, এভিনিউ-২, মিরপুর। ঢাকা সেনানিবাসে জেনারেল আজিজের একটি বাংলোবাড়ি রয়েছে। হাউস নং-৩ (পথিকৃৎ), ঢাকা সেনানিবাস। কুর্মিটোলা গল্‌ফ ক্লাবের পাশে নিকুঞ্জ-১-এর ৬ নম্বর রোডের মাথায় আজিজ আহমেদের আরও একটি বাড়ি রয়েছে। বাড়ির নাম আজিজ রেসিডেন্স।

এ ছাড়া চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের তরকী গ্রামে কয়েক একর জমি রয়েছে তার। দুদক সূত্র জানায়, এগুলো তার স্থাবর সম্পদের আংশিক হিসাব। এর বাইরে বিপুল পরিমাণ অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। 

প্রসঙ্গত, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ১৯৮৩ সালে মিলিটারি একাডেমি চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গোলন্দাজ রেজিমেন্টে কমিশনপ্রাপ্ত হন। তিনি সেনাপ্রধান ছাড়াও চাকরি জীবনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক, ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), আর্টডক (আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড)-এর অধিনায়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘বিজিবির সব অস্ত্রই লিথ্যাল (প্রাণঘাতী)।’ এ বক্তব্য দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

জিয়াউল আহসান 

এলিট ফোর্স র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা ও জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক ছিলেন জিয়াউল আহসান। এনটিএমসিতে যোগদানের আগে, তিনি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক ছিলেন। এর আগে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৬ আগস্ট তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে গুম, খুন, ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, কন্ট্রাক্ট কিলিংসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ১৬ আগস্ট তাকে ৮ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। 

বিভিন্ন সূত্র জানায়, জিয়াউল আহসানের ‘নক্ষত্র’ নামের বাসা থেকে নগদ ডলার, ইউরো ও দিরহামের সমতুল্য ৯৩২ কোটি টাকা উদ্ধার করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো সংস্থা কোনো বক্তব্য দেয়নি। দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জিয়াউল আহসান নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। সেগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জিয়াউল আহসান তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের প্রতাপপুরে মাল্টি পারপাস এগ্রো ফার্ম নামে বিশাল এলাকাজুড়ে তৈরি করেছেন মাছের ঘের, গরুর খামার, নার্সারি ও বিলাসবহুল বাংলো। প্রায় ৩০০ বিঘা জমি কিনেছেন শেখেরহাট ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে। প্রতাপপুর গ্রামে তার তাসফিয়া মাল্টি পারপাস এগ্রো ফার্মে জমি রয়েছে ১৫ বিঘা। একই ইউনিয়নের বংকুরা ও কতুবকাঠি মৌজায় রয়েছে কমপক্ষে ২৮৫ বিঘা জমি। এসব জমির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা। এসব সম্পদ বাদে এই ইউনিয়নেই জিয়াউলের পৈতৃক বাড়িতে করা হয়েছে মাদ্রাসা ও সরকারি খরচে সাইক্লোন শেল্টার। এখানেও একটি বাংলোবাড়ি রয়েছে।

জিয়াউল আহসানের এগ্রো ফার্মের আশপাশের বাসিন্দারা জানান, এই খামার করার সময় স্থানীয় জমির মালিকরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শেখেরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে জমি কিনতে গিয়ে মালিকদের জোরজবরদস্তি ও নির্যাতন করারও অভিযোগ রয়েছে। র‌্যাবের প্রভাব খাটাত সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা। এ ছাড়াও ঢাকা সেনানিবাস ও উত্তরায় বাড়ি এবং গুলশানে ফ্ল্যাটসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদ রয়েছে তার।

ইতোমধ্যে জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী-সন্তান এবং তাদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

১৯৯১ সালের ২১ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পদাতিক কর্মকর্তা হিসেবে কমিশন লাভ করেন জিয়াউল আহসান। তিনি সেনাবাহিনীর একজন প্রশিক্ষিত কমান্ডো ও স্কাই ডাইভার। র‌্যাবে থাকাকালে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের শতাধিক নেতাকর্মী তার হাতে গুম-খুনের শিকার হন। এই তালিকায় ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলামসহ একাধিক নেতা ছিলেন। 

মোহাম্মদ সোহায়েল

দুদকে জমা হওয়া এক অভিযোগ থেকে জানা গেছে, মোহাম্মদ সোহায়েল (পিনং ৬১৬) ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনেক গুম ও হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সঙ্গে মিলে এবং তার নির্দেশনায় এসব অপকর্ম করেন। এনটিএমসির সাবেক ডিজি জিয়াউল আহসান ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের সঙ্গে মিলে করেন বহুমাত্রিক দুর্নীতি ও অনিয়ম। সোহায়েল চট্টগ্রাম ও পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান থাকার সময় দুর্নীতির পাহাড় গড়েছেন। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও সরকারের অপকর্মে সরাসরি জড়িত থেকে রিয়ার অ্যাডমিরাল পদোন্নতি বাগিয়ে নেন তিনি। শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশের সময় কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেন সোহায়েল। বহু নিরীহ ছাত্রকে গুম করেন তিনি। 

অভিযোগের তথ্য মতে, নৌবাহিনীর সাবেক এক প্রধানের সঙ্গে সখ্য থাকার সুবাদে সাবমেরিন প্রকল্প থেকে বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন সোহায়েল। জাহাজ ঘাঁটি কমান্ড না করে এবং এনডিসি ও এএফডব্লিউসি কোর্সে অংশ না নিয়েও রিয়ার অ্যাডমিরাল পদবি বাগিয়ে নিয়ে তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অন্যায় কাজে সরাসরি অংশ নেন। পায়রা বন্দরে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ভিতরে আনা-নেওয়া ও অবৈধভাবে পণ্য খালাসকরণের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন। 

সোহায়েল সিঙ্গাপুরে ৫০০ কোটি টাকা পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থপাচারের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্যে ব্যবসায় বিনিয়োগ ও বাড়ি তৈরি করেছেন। দেশে তার সম্পদের পরিমাণ শত কোটি টাকার বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সোহায়েলের ময়মনসিংহ শহরে ৪ তলা বাড়ি আছে। ময়মনসিংহে প্রায় ৩৫ একর জমিতে নির্মাণ করেছেন বাগানবাড়ি। গাজীপুরে আছে বিলাসবহুল রিসোর্ট। ময়মনসিংহে তার মায়ের নামে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল করেছেন। ময়মনসিংহ শহরের পাশে একটি পেট্রোল পাম্প কিনেছেন তিনি। 

রাজধানীর সাগুফতা হাউজিংয়ে নিজে ও আত্মীয়দের নামে ৭ দশমিক ৫ কাঠা প্লট কিনেছেন। উত্তরা ১৩ নং সেক্টরে ৭ তলাবিশিষ্ট বাড়ি তৈরি করেছেন। পায়রা বন্দর সংলগ্ন এলাকায় জমি অধিগ্রহণের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৫০ একর জমি কিনেছেন। 

২০১৯ সালে এস আলম গ্রুপ ও চীন সরকারের যৌথ মালিকানায় বাঁশখালী বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজে হস্তক্ষেপ করে মাটি ভরাট, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পেরিমিটার ওয়াল ও রাস্তা নির্মাণ কাজে নৌবাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। বাঁশখালী প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের টাকা থেকে হাতিয়ে নেন ১০০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের কঠোর হস্তে দমন করেন তিনি। ওই সময় স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেন। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ১২ জন নিহত হন। 

সোহায়েল মিলিটারি মিউজিয়াম প্রকল্পের ৬০০ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজের বড় একটি অংশ নিজ প্রতিষ্ঠান টিম পেরিস্কোপ দিয়ে করান। এর মাধ্যমে তিনি বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। তিনি সুন্দরবন এলাকায় ৮৩ খাল খনন প্রকল্পে এডব্লিউআরের সঙ্গে চুক্তি করে সাত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। মিরসরাই ড্রাই কনস্ট্রকশন প্রকল্প থেকে বিপুল অর্থ নেন জনৈক মোবারকের মাধ্যমে। শেয়ারবাজার থেকে সোহায়েল ও তার কিছু সহযোগী ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। র‌্যাবে থাকার সময় শেয়ারবাজারের অনেক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন। 

বাহিনীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘সোহায়েলের মতো ধূর্ত, দুর্নীতিবাজ উচ্চাভিলাষী অসাধু কর্মকর্তার কারণেই একটি বাহিনীর ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা