আলাউদ্দিন আরিফ
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৪ ০৮:৫৩ এএম
আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৪ ১০:৫৪ এএম
আওয়ামী লীগ সরকারের টানা প্রায় ১৬ বছর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রিত্ব করেন ড. হাছান মাহমুদ ও ডা. দীপু মনি। দুজনই আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক আওয়ামী সরকারের সর্বাধিক সুবিধাভোগীদের অন্যতম ছিলেন। তারা দুজনই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন; অপরদিকে পাচারও করেছেন বিপুল অর্থ। তাদের প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ কত সেই হিসাব নেই কোনো দপ্তরে। গত সোমবার দীপু মনি গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং ৬ আগস্ট পালানোর সময় বিমানবন্দরে আটক হন হাছান মাহমুদ। এরপর থেকে তিনি লাপাত্তা। তার হদিস না মিললেও তার বিরুদ্ধে চলছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিআইএফইউ) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান। দীপু মনির বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। বিভিন্ন সূত্র থেকে তাদের সম্পদের কিছু ফিরিস্তি পাওয়া গেছে।
১৬ বছরে হাছান মাহমুদের সম্পদ বেড়েছে ৪৬৮৩ গুণ
আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৬ বছরে সর্বাধিক সুবিধাভোগীদের একজন হাছান মাহমুদ। তিনি টানা ১৬ বছরই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তিনি দায়িত্ব পান বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর। ২০১৪ সালে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। চট্টগ্রাম হাজী মহসিন কলেজের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। গত ৭ জানুয়ারি হয়ে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে প্রাপ্ত ভাতা বাদে হাছান মাহমুদের বার্ষিক আয় ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। কিন্তু অনুসন্ধান বলছে ভিন্ন কথা। দুদকে জমা হওয়া অভিযোগের তথ্য অনুযায়ী ১৬ বছরে হাছান মাহমুদের সম্পদ বেড়েছে ৪ হাজার ৬৮৩ গুণ।
তিনি নামে-বেনামে হাজার কোটি টাকার মালিক। শুধু দেশেই নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে পুরো একটি এলাকা কিনে করেছেন বাড়ি, হোটেলসহ বহু স্থাবর সম্পদ। চট্টগ্রামের দেওয়ানবাজার এলাকায় একটি ১৫ তলা ভবনসহ সেখানে তিনটি বহুতল ভবন রয়েছে তার। ঢাকার পিংক সিটিতে রয়েছে তিনটি বাড়ি। প্লট ও বাড়ি আছে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাতেও। রাজধানীর চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) পাশে শতকোটি টাকা মূল্যের বাণিজ্যিক প্লট কিনেছেন তিনি। নিজ নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসতভিটাসহ জমি দখলেরও অভিযোগ আছে সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ১৬ দশমিক ১৯ একর পাহাড় দখল করে আবাসন প্রকল্প করেন। চট্টগ্রামের খুলশী, বাকলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন মৌজায় রয়েছে তার কয়েক একর সম্পত্তি। সম্পত্তি আছে চট্টগ্রামের সিরাজুদ্দৌলা সড়কেও। বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও এফডিআর। বাড়ি কিনেছেন কানাডায়। চট্টগ্রামের মাতারবাড়ীতে কয়লাবিদ্যুৎ ও গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজের নানা ঠিকাদারি তার নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু এসবের কোনোটিই তার আয়কর বিবরণী বা হলফনামায় উল্লেখ নেই।
গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনী হলফনামায় হাছান মাহমুদ বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও দোকানভাড়া খাতে বছরে আয় ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, কৃষি খাতে ১ লাখ ৩০ হাজার, ব্যাংক ও অন্যান্য খাত থেকে সম্মানী বাবদ আয় ১ লাখ ২২ হাজার ২৬৩ টাকা উল্লেখ করেন। সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে প্রাপ্ত ভাতা বাদ দিলে হাছান মাহমুদের বাৎসরিক আয় ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। আর ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বার্ষিক আয় ছিল ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় এবার তার নামে ঋণ দেখানো হয়েছে ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে তার ব্যক্তিগত ঋণ রয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। জামানতবিহীন ঋণ আছে ৯১ লাখ টাকার। ভাইদের কাছ থেকে ঋণ রয়েছে ১২ লাখ টাকার।
জানা গেছে, হাছান মাহমুদ মাছ ধরার ট্রলার নির্মাণের জন্য ২০১৩ সালে রূপালী ব্যাংক থেকে ঋণ নেন। ১১ বছরের বেশি সময় ধরে ১ টাকাও পরিশোধ করেননি। এরপরও নিয়মিত আছে তার ঋণ। প্রভাব খাটিয়ে অভিনব কায়দায় কিস্তি পরিশোধের সময় এলেই গ্রেস পিরিয়ড তথা পরিশোধ শুরুর সময় বাড়িয়ে নিয়েছেন। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সুদ মওকুফ করে নিয়েছেন কয়েক দফা। এখন ব্যাংকের পাওনা ১৯ কোটি ৩ লাখ টাকা।
হাছান মাহমুদ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি থাকাকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ১৬ একরের বেশি পাহাড়ি ভূমি দখল করেন। তার চাপে সেখানে ২০১৪ সালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) একটি প্রকল্প নেয়। গত সোমবার ‘সাইট অ্যান্ড সার্ভিসেস আবাসিক প্লট উন্নয়ন’ শীর্ষক আবাসন প্রকল্পটির পরিবেশগত ছাড়পত্র বাতিল করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। জাগৃক সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্প এলাকার ৭০ শতাংশ পাহাড় ও ৩০ শতাংশ জলাধার হওয়ায় বিভিন্ন সংস্থার আপত্তিতে প্রকল্পটি প্রথমেই বাতিল করা হয়। তবে হাছান মাহমুদের চাপে আগের মতামত বাদ দিয়ে নতুন করে প্রকল্প অনুমোদন করানো হয়। ২০২০ সালের মার্চে প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। প্রকল্পে ১৬ দশমিক ১৯ একর জমি ধরা হলেও ১৪ দশমিক ১৯ একরে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় ৪১ কোটি ৮৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৩৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয় ভূমি অধিগ্রহণে। প্রকল্প গ্রহণের সময় হাছান মাহমুদ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। এ বছরের ৬ জুন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শর্তসাপেক্ষে প্রকল্পটি অনুমোদন করেন। শর্তের মধ্যে ছিল পাহাড়ি ভূমি ও জলাশয়ের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা যাবে না। গত ১১ আগস্ট হাছান মাহমুদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
হাজার গুণ সম্পদ বেড়েছে দীপু মনির
আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনির রয়েছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়। নিজ নামে, ভাই ডা. জাওয়াদুর রহিম ওয়াদুদ টিপু ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ করেছেন সাবেক এই পররাষ্ট্র, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী। নিজ নির্বাচনী এলাকা চাঁদপুরে নানা দুর্নীতির অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। তার বেশুমার দুর্নীতি-অনিয়মের ক্ষেত্র ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা বোর্ড। তার বিরুদ্ধে ৯০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক। তার ভাইয়ের স্ত্রী রাশিয়ান। অভিযোগ রয়েছে তার মাধ্যমে তিনি বড় অঙ্কের অর্থ পাচার করেছেন রাশিয়ায়।
দীপু মনির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো চাঁদপুরের কুখ্যাত বালুখেকো সেলিমের মূল মদদদাতা তিনি। সেলিমকে বলা হয় দীপু মনির ‘ক্যাশিয়ার।’ একসময় রিকশা ও নৌকা চুরিসহ ছোটখাটো অপরাধের সঙ্গে জড়িত সেলিম খান ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দীপু মনির সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন এবং চাঁদপুর সদরের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হন। এরপর দীপু মনির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মেঘনার বুক থেকে বালু তুলতে শুরু করেন। টানা এক যুগের বেশি সময় ধরে বালু তোলেন তিনি। সরকারি নথি অনুযায়ী ২০১৮ থেকে ২০২২ সালÑ এই চার বছরেই দীপু মনির নির্বাচনী এলাকা চাঁদপুর সদর উপজেলার ২১টি মৌজা থেকে ৬৬৮ কোটি ৩৩ লাখ ঘনফুটের বেশি বালু তুলেছেন সেলিম খান। প্রতি সিএফটি সাদা বালুর পাইকারি দর ২ টাকা। এই হারে শুধু চার বছরে তিনি যে পরিমাণ বালু তুলেছেন, তার মূল্য প্রায় ১ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। বালু ব্যবসা থেকে হাজারো কোটি টাকা আয় করলেও সরকারি কোষাগারে এক পয়সাও দেননি গত ৫ আগস্ট গণপিটুনিতে নিহত এই সেলিম। ২০২২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলা প্রশাসন সেলিম খানকে ১৫ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ২৬৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি এক টাকাও জমা দেননি। ২০২২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ব নদী দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বালু উত্তোলনের নেপথ্যে দীপু মনির দিকে আঙুল তোলেন। এরপর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মনজুর আহমেদকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
দীপু মনির বিরুদ্ধে বড় একটি অভিযোগ হলো, ২০২১-২২ সালে চাঁদপুরে সরকারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি। সেখানকার সাড়ে ৬২ একর জমি মৌজাদরের চেয়ে ২০ গুণ বেশি দাম দেখিয়ে দলিল করে নেয় তার ঘনিষ্ঠজন। তিনি তখন শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। ওই সময় সরকারের কাছ থেকে ৩৫৯ কোটি টাকা বাড়তি নেওয়ার এ কারসাজিতে জড়িত ছিলেন দীপু মনি ও তার সহযোগীরা।
চাঁদপুরে সরকারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একক নামে সর্বোচ্চ জমি দেন দীপু মনির ভাই জাওয়াদুর রহিম ওয়াদুদ। তার নামে দলিল হয় ৫৬৮ শতাংশ (৫.৬৮ একর) জমির। সাবেক মন্ত্রীর মামাতো ভাই ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলামের নামে দলিল হয় ১৬১ শতাংশ জমির। তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত চাঁদপুর সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীর নামে কেনা হয় ৯৩ শতাংশ এবং মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (রাজনৈতিক) টুটুল মজুমদারের নামে ৩৭ শতাংশের দলিল হয়।
দীপু মনির ভাই জাওয়াদুর রহিম টিপু নীলকমল ইউনিয়নের বাহেরচরে বিপুল পরিমাণ খাসজমি নিজের কব্জায় নিয়ে তৈরি করেন মাছের ঘের, গবাদিপশুর খামার ও সবজি বাগান। কেবল সরকারি জমির ওপরই নিয়ন্ত্রণ নেননি, ওই এলাকার নাম বদলে নিজের নামে রেখেছেন ‘টিপুনগর’।
গত ৭ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী দীপু মনির সম্পদ ২০০৮ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে ৪১ গুণ বেড়েছে। নিজ নামে অস্থাবর (টাকা, সঞ্চয়পত্র, সোনা ইত্যাদি) সম্পদ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৫৯ গুণ। তবে দুদকে জমা হওয়া অভিযোগ অনুযায়ী ১৬ বছরে দীপু মনির সম্পদ বেড়েছে ১ হাজার গুণেরও বেশি।
হলফনামা অনুযায়ী, ২০০৮ সালে নিজের পেশা থেকে দীপু মনির আয় ছিল বছরে তিন লাখ টাকা। গত নির্বাচনের আগে তিনি তিনটি খাতে মোট আয় দেখিয়েছেন বছরে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্র ও সমজাতীয় খাতে বিনিয়োগ থেকে তার আয় তিন লাখ টাকার কিছু বেশি। মন্ত্রী হিসেবে পারিতোষিক ও ভাতা পান ২১ লাখ টাকার বেশি। অন্যান্য খাতে তিনি ৯৯ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন (আমানত ও সুদ, স্বামী ও ভাইয়ের কাছ থেকে উপহার হিসেবে প্রাপ্ত)।
২০০৮ সালে দীপু মনির মোট অস্থাবর সম্পদ ছিল ৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ। এর মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিল নগদ। গাড়ির দাম তিনি দেখিয়েছিলেন ১ লাখ টাকা। ২৫ ভরি সোনা বাবদ তিনি ১ লাখ টাকা এবং আসবাব বাবদ ৩০ হাজার টাকা দেখিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে দীপু মনি মোট অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন প্রায় ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা মূল্যের। এর মধ্যে নগদ রয়েছে প্রায় ৬৭ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও সমজাতীয় বিনিয়োগ রয়েছে ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। গাড়ির দাম ৬০ লাখ টাকা এবং সোনা ও অন্যান্য ধাতুর দাম ৯ লাখ টাকা দেখিয়েছেন তিনি। কিছু বৈদেশিক মুদ্রাও আছে তার। স্থাবর সম্পদের মধ্যে দীপু মনির ৩টি ফ্ল্যাট ও ১০ কাঠা জমি রয়েছে, যেগুলোর মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকার বেশি। ২০০৮ সালে তার কোনো স্থাবর সম্পদ ছিল না।
দীপু মনি ও জয় রিমান্ডে
সোমবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার দীপু মনির ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই দিন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মুদি দোকানি আবু সায়েদকে গুলি করে হত্যার মামলায় তাদের রিমান্ডে নিতে পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। এর আগে কড়া নিরাপত্তায় দীপু মনি ও আরিফ খান জয়কে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন করে পুলিশ। তবে আসামিপক্ষ থেকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন বাতিল করে জামিনের আবেদন করা হয়।
দীপু মনি ও জয়কে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিন্টু রোড কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে।