× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আদম বেপারি থেকে ভয়ানক ব্যাংক প্রতারক সেলিম

আলাউদ্দিন আরিফ

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৪ ১০:২০ এএম

সেলিম চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

সেলিম চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

একসময় ছিলেন আদম বেপারি। তার ইউরোপা ট্রাভেলস নামের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ছিল মানব পাচারের নানা অভিযোগ। পরে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে হয়ে ওঠেন ব্যাংক জালিয়াতি চক্রের ভয়ানক সদস্য। ব্যবসায়িক বন্ধুর জমি কৌশলে কয়েক ব্যাংকে ‘জামানত’ রেখে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েকশ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক থেকে নিয়েছেন শত শত কোটি টাকা। আবার ঢাকা ব্যাংকে বন্ধক রাখা ফ্ল্যাট বিক্রি করেছেন বন্ধুর স্ত্রীর কাছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতি করায় তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা দেওয়া হয়েছে। সিএমএম আদালতে এনআই অ্যাক্ট (দ্য নেগোশিয়েটেবল ইন্সট্রুমেন্ট) মামলা রয়েছে বেশ কয়েকটি। এসব মামলায় প্রায় এক ডজন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে অধরাই রয়ে গেছেন তিনি।

বহুল আলোচিত জালিয়াত চক্রের এই মূল হোতার নাম সেলিম চৌধুরী। বাসা গুলশান-২ এর ৫৫ নম্বর সড়কের এক্সেলসিওর কনকর্ড ভবনে। আর অফিস বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউর টাওয়ার হেমলেট ভবনে। তার পারিবারিক প্রতিষ্ঠান তিশাম অ্যাপারেলসের নামে ৪৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, শিহাব গার্মেন্টসের নামে ২৭ কোটি ২০ লাখ, পটেটো ফ্ল্যাক্স বিডির নামে ৯৫ কোটি টাকা, সাথী অ্যাপারেলসের নামে ৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে ব্যাংকের। সেলিম চৌধুরীর পরিবারের কাছে অগ্রণী ব্যাংকের পাওনা ২১৫ কোটি টাকার বেশি। শরিয়াহভিত্তিক একটি ব্যাংক পাবে ১৩০ কোটি টাকারও বেশি। ট্রাস্ট ব্যাংকের পাওনা ৫৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া রিলায়েন্স লিজিং ও ঢাকা ব্যাংক পাবে আরও প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা। এর বাইরে রয়েছে তার মাধ্যমে প্রতারণার শিকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীর পাওনা টাকা। সব মিলিয়ে সেলিম চৌধুরী পরিবারের ঋণ ৬০০ কোটি টাকার ওপর। বিশাল অঙ্কের এই টাকা তিনি দুবাই, হাঙ্গেরিসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন বলে বিভিন্ন মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। দুবাইতে রয়েছে তার ৬টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটসহ বিপুল সম্পদ। হাঙ্গেরিতেও রয়েছে বড় ব্যবসা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জালিয়াতির টাকায় সেলিম চৌধুরী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল) দলও কিনেছিলেন। যার নাম ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। ২০১৩ সালে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার দায়ে ২০১৪ সালে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসকে বিপিএল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।

সেলিম চৌধুরীর প্রতারণার বিষয়টি তুলে ধরেন ইকবাল হায়দার চৌধুরী নামে তার এক ব্যবসায়িক বন্ধু। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসা করতে গিয়ে সেলিম চৌধুরীর সঙ্গে আমার পরিচয় ও বন্ধুত্ব। আমার আশুলিয়ায় প্রায় ১০ বিঘা জমি আছে। সেটি বিক্রির জন্য ক্রেতা খুঁজছিলাম। একদিন সেলিম চৌধুরী আমার বিজয় নগরের অফিসে এসে ২০ কোটি টাকায় জমিটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। টাকা তিনি কয়েক দিন পরে দেবেন বলে জানান। বহুদিনের বন্ধুত্বের সুবাদে ২০ কোটি টাকার চেক রেখে আমি তার এক প্রবাসী খালাতো ভাই মশিউর রহমানের নামে জমি রেজিস্ট্রি করে দিই। সেলিম চৌধুরী তার খালাতো ভাই জিহান চৌধুরীর নামে ওই জমির জাল দলিল তৈরি করেন। সেই জাল দলিল ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ নেন জিহান চৌধুরীর নামে। বিষয়টি জানার পর ব্যাংকটির চক মোগলটুলি শাখা জিহান চৌধুরীর কাছ থেকে ১৩০ কোটি টাকা পাওনা আদায়ের জন্য এনআই অ্যাক্টে তিনটি মামলা করেছে। তার একটি ৫৫ কোটি টাকা, অপর দুটি ৩৫ কোটি ও ৪০ কোটি টাকার। আদালতে এই পাওনা পরিশোধ করার আদেশ চেয়েছে ব্যাংক। মামলার নথিতে দেখা গেছে, জিহান চৌধুরীর ঠিকানা দেওয়া হয়েছে সেলিম চৌধুরীর বনানী অফিসের। 

ইকবাল হায়দার চৌধুরী জানান, তিনি সেলিম চৌধুরীর কাছ থেকে জমি বিক্রি বাবদ পাওনা আদায়ের জন্য এনআই অ্যাক্টে মামলা করেছেন। মামলায় তিনি ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা পাওনা দাবি করেছেন। এ ছাড়া ইকবাল হায়দার চৌধুরী ঢাকার এমএম আদালতের ৪১৬/২০২২ নম্বর মামলায় ৩৮ কোটি ৪৯ লাখ ৮২ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা দাবি করেছেন। এজাহারে সেলিম চৌধুরীর দুই সন্তান শিহাব হোসেন চৌধুরী ও তিশাম তামরিজ চৌধুরীকেও আসামি করেছেন। 

এই মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গাজীপুরের ভাকরল মৌজার (আশুলিয়া) বিভিন্ন দাগে ৩১৮ শতাংশ জমি ১৭ কোটি টাকা দাম নির্ধারণ করে সেলিম চৌধুরীর কাছে বিক্রি করেন। সেলিম তার খালাতো ভাই মশিউর রহমানের নামে ২০১৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর টঙ্গী সাবরেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রেশন নেন। নিবন্ধনের সময় জমির মূল্য দেখানো হয় ৩ কোটি ১১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। জমি রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার সময় সেলিম ও তার স্ত্রী নাহিদ চৌধুরীর যৌথ ব্যাংক হিসাব থেকে ১৭ কোটি টাকার একটি চেক দেয়। সেলিম চৌধুরী এই জমি রিলায়েন্স লিজিং কোম্পানিতে বন্ধক রেখে ১৫ কোটি টাকা ঋণ নেন। রিলায়েন্স লিজিংয়ের টাকা পরিশোধ না করে জাল দলিলের মাধ্যমে এবং পূর্ববর্তী ঋণের তথ্য গোপন করে শরিয়াহভিত্তিক একটি ব্যাংকের চক মোগলটুলি শাখা থেকে ২০১৭ সালের ১৩ মার্চ ৩১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা নেন। 

ইকবাল চৌধুরী জানান, সেলিম চৌধুরী ১৭ কোটি টাকার চেক ফেরত নিয়ে তাকে ঢাকা ব্যাংকের তিনটি চেক দেন। তার একটি ‍দুই কোটি, একটি এক কোটি ও একটি তিন কোটি টাকার। পরে আবার এসব চেক ফেরত নিয়ে পদ্মা অ্যাগ্রো ট্রেডার্সের ব্যাংক হিসাব থেকে ২ কোটি টাকা করে ৬টি চেক দেন। এ ছাড়া ব্র্যাক ব্যাংকের চেকে এক কোটি টাকা দেন। সব চেক ডিজঅনার হয়। এ ছাড়া বাদী বসুন্ধরার একটি প্লট বন্ধক রেখে পে-অর্ডারের মাধ্যমে দুই কোটি টাকা নিয়ে পরে আবার ফেরত দেন। ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর সেলিম চৌধুরী ১২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চেক দেন ইকবাল চৌধুরীকে। সেগুলোও ডিজঅনার হয়। এভাবে সেলিম চৌধুরীর কাছ থেকে জমি বিক্রির পাওনা টাকা আদায়ের জন্য বহুভাবে দেনদরবার করে ব্যর্থ হয়ে আদালতে মামলা করেন ইকবাল চৌধুরী। মামলায় ব্যাংকঋণের সুদসহ মোট সাড়ে ৩৮ কোটি টাকা পাওনা দাবি করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেলিম চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ১১১ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে অগ্রণী ব্যাংকের তেজগাঁও শিল্প এলাকা শাখায়। ১৯৯৭ সালে ৩টি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে কোনো টাকা পরিশোধ করেননি তারা। অগ্রণী ব্যাংকের এই শাখা থেকেই নিজের জমি বন্ধক দিয়ে খালাতো ভাই মনজুর আলমের নামে ৯৪ কোটি টাকা ঋণ করিয়েছিলেন সেলিম। সেই টাকাও ফেরত দেননি। 

এর মধ্যে ঋণ আদায়ের জন্য অগ্রণী ব্যাংকের মামলায় ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রেপ্তার হন তিনি। দুই সপ্তাহের মধ্যে সুদ মওকুফ সুবিধার আওতায় এক কোটি টাকা পরিশোধ করে জামিন পান সেলিম চৌধুরী। তিন মাসের মধ্যে ঋণের পুরো টাকা পরিশোধ করার শর্ত ছিল। কিন্তু কোনো টাকাই আর পরিশোধ করেননি। জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় সেলিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। কিন্তু পুলিশ বলছে, তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একসময়ের আদম ব্যবসায়ী সেলিম চৌধুরী ব্যাংক জালিয়াতি করতে পারিবারিক সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠা করেন। এই চক্রে জড়িত তার স্ত্রী নাহিদ চৌধুরী, দুই সন্তান শিহাব হোসেন চৌধুরী ও তিশাম তামরিজ চৌধুরী। আরও আছেন সেলিমের খালাতো ভাই মনজুর আলম, মশিউর রহমান ও জিহান হোসাইন চৌধুরী।

সেলিম চৌধুরীর বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। বাবা ইয়াহিয়া চৌধুরীর চাকরির সুবাদে তারা বসবাস করতেন খুলনায়। ১৯৯০ সালের দিকে ঢাকায় এসে আদম ব্যবসা শুরু করেন। ইউরোপা ট্রাভেলস নামে একটি কোম্পানি খুলে জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠে মানব পাচারের অভিযোগ। পরে নানা কোম্পানি খুলে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে টাকা আত্মসাৎ করতে শুরু করেন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সেলিম চৌধুরীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মাহি নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে অগ্রণী ব্যাংকের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল করপোরেট শাখা থেকে ৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়। বড় সন্তান শিহাব চৌধুরীর নামে শিহাব গার্মেন্টস লিমিটেড নামের কোম্পানি খুলে আরও ৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়। আর ছোট সন্তান তিশামের নামে তিশাম অ্যাপারেল নামের আরেকটি কোম্পানি খুলে নেওয়া হয় ৬ কোটি টাকা। 

কোনো টাকা পরিশোধ না করায় সুদসহ ব্যাংক এখন সেলিম ও তার দুই সন্তানের কাছে পাবে ১১১ কোটি টাকা। এই তিন কোম্পানির নামে ঋণ নেওয়ার পর সেলিম জমি মর্টগেজ রেখে খালাতো ভাই মনজুর আলমের মেসার্স পটেটো ফ্ল্যাক্স বিডি লিমিটেডের নামে ৯৪ কোটি টাকা ঋণ করিয়ে নেন। প্রায় তিন দশকেও ঋণের টাকা পরিশোধ করেননি। 

ট্রাস্ট ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে ট্রাস্ট ব্যাংকের দিলকুশা করপোরেট শাখা থেকে ৬৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল ইউরোপা বেভারেজ লিমিটেড। যার চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী। তিনি ঋণের কয়েকটি কিস্তি পরিশোধও করেন। পরে আর দেননি। ব্যাংক বর্তমানে তার কাছে ৬০ কোটি টাকার বেশি পাবে। 

এদিকে ঢাকা ব্যাংকের নিউমার্কেট শাখার সেলিমের কাছে পাওনা ১৭ কোটি টাকারও বেশি। ২০০৭ সাল থেকে কয়েক ধাপে তিনি এই ব্যাংক থেকে ১০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। এখন সুদসহ ব্যাংক তার কাছে পাবে ১৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ঋণ নেওয়ার সময় সেলিম চৌধুরী ১৮৭০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট বন্ধক রাখেন। প্রতারণামূলকভাবে ওই ফ্ল্যাট আবার ইকবাল চৌধুরীর স্ত্রী রুবিনা পারভীনের কাছে বিক্রি করেন। ব্যাংকে বন্ধক রাখা ফ্ল্যাট বিক্রির অভিযোগে রুবিনা চৌধুরী ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করেন। 

এদিকে পরোয়ানা থাকার পরও সেলিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে জানতে চাইলে গুলশান বিভাগের উপকমিশনার রিফাত রহমান শামীম বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খবর নিয়ে পরোয়ানা তামিলের বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।’ 

সেলিম চৌধুরীর বিষয়ে গুলশান থানা পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান, তাদের কাছে অনেক দিন থেকেই বেশ কিছু পরোয়ানা আছে। বাসায় ও অফিসে অভিযান চালিয়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

পরোয়ানা থাকা ও ঋণ জালিয়াতির বিষয়ে সেলিম চৌধুরীর কাছে জানতে তার তিনটি মোবাইল ফোন নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এসএমএস পাঠানো হলেও তিনি কোনো কোনো জবাব দেননি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা