প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৪ ২০:১৮ পিএম
আপডেট : ৩০ জুন ২০২৪ ২০:৩৯ পিএম
ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ছবি : সংগৃহীত
রাষ্ট্রযন্ত্র আমাকে বাঁচিয়ে রাখতে চায় কি না, সেই প্রশ্ন এখন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (স্বতন্ত্র) ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
তিনি বলেছেন, ‘আমি থানায় জিডি করার আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত ছিল যারা হুমকি দিয়েছে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। রাষ্ট্রযন্ত্র আমাকে বাঁচিয়ে রাখতে চায় কি না, সেই প্রশ্ন এখন দেখা দিয়েছে।’
হত্যার জন্য ৪ থেকে ৫ জনের একটি ভাড়াটে টিম মাঠে নেমেছে জেনে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ২৯ জুন রাতে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় এ জিডি করেন তিনি। গতকাল রবিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ভাড়াটে ‘কিলারদের’ বিষয়ে কীভাবে জানতে পেরেছেন, এমন প্রশ্নে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘অনেকেই আমাকে অনেকবার থ্রেটের কথা বলেছেন, আমি কখনও আমলে নিইনি। এবার আমার থানার ওসি আমাকে জানিয়েছেন যে তাকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি জানিয়েছে একটা থ্রেট আছে। চার-পাঁচজনের একটা কন্ট্রাক্ট কিলার গ্রুপ কন্ট্রাক্ট করে আসছে। এদের ওপরে কিছু লোকজন আছে, যারা তাদের হায়ার করছে।’
অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তি সিলেটি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুক্রবার ওসি আমাকে বিষয়টি জানান এবং ওই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জানান, হত্যাকাণ্ডের লিস্টে আমার নাম শোনার পর তিনি ওই জায়গা থেকে চলে এসেছেন। এটা জানার পর তো আর বসে থাকা যায় না। সবকিছু জেনে পরদিনই আমি সংসদে চলে আসি এবং শেরেবাংলা নগর থানায় জিডি করি।’
সুমন বলেন, ‘দুঃখের বিষয় হচ্ছে, ওসি সাহেব খবরটা পেয়েছেন দুদিন আগে। ওনার তো তৎক্ষণিক এসপি সাহেবকে জানানোর কথা। এসপি সাহেবের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। আমার জিডি করা লাগল কেন? একমাত্র আইজিপি সাহেবের সঙ্গে কথা বলার পর দেখি উনি আমার মতোই চিন্তা করেছেন যে আমার তো জিডি করারই প্রয়োজন ছিল না। এটা পুলিশেরই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। আমার প্রশ্ন জাগছে, রাষ্ট্রযন্ত্রের কিছু কিছু মানুষ আসলেই চাচ্ছেন কি না, আমি বেঁচে থাকি।’
এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘গ্রেনেড হামলায় আমাদের এলাকায় শাহ এএমএস কিবরিয়া মারা গেছেন। বঙ্গবন্ধুকে আমরা বাঁচাতে পারিনি। আমার বিষয়টা এমন হয়ে গেছে যে একটা অপমৃত্যুর রেকর্ডের জন্য লোকজন বসে আছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ছিলাম। এখন মেম্বার অব পার্লামেন্ট। সবকিছু বিবেচনায় আমার সিকিউরিটির যে অবস্থা, যারা আমাকে সিকিউরিটি দেন, তারা কী চাচ্ছেন তা আমি বুঝে উঠতে পারছি না।’
জিডির পর আপনি বা আপনার পরিবার শঙ্কিত কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই পরিবার শঙ্কিত। আমার ১১ বছরের মেয়ে বলে, দেয়ার মাস্ট বি এ লাইন বিটুইন গুড ওয়ার্ক অ্যান্ড স্টুপিডিটি। আমি তাকে বলেছিলাম, আমি গুড ওয়ার্ক করি এ জন্য ব্যাড লোকেরা আমাকে থ্রেট দেয়। এ জন্য তার মাথায় হয়তো আছে এ দেশে দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে, ভালো কাজ করলে–এটা একটা স্টুপিডিটি। এ হুমকির পরও আমি ভেঙে যাইনি। মৃত্যু তো অবধারিত। একসময় না একসময় মরতেই হবে। কিন্তু আমি হঠাৎ করে মরে গেলে আমার আনফিনিশিড যে জবগুলো আছে বা পরবর্তী জেনারেশন কোনোভাবেই যেন উৎসাহ না হারায়, সে জন্য আমাকে মেরে ফেললেও আমি দেশ ছাড়ব না, কাজও বন্ধ করব না।’