× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আনার হত্যা

হত্যায় সরাসরি অংশ নেওয়া সাতজন গ্রেপ্তার হলেও মোটিভ অজানা ডিবির

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৪ ১৪:৪২ পিএম

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৪ ১৬:৩১ পিএম

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। প্রবা ফটো

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। প্রবা ফটো

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সাতজনের সবাই গ্রেপ্তার হয়েছেন। আনার হত্যায় কারা আর্থিক, রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন, হত্যার সুনির্দিষ্ট মোটিভ কী— সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনও অজানা ডিবি পুলিশের। তবে বাহিনীটি বলছে, মোটিভ অবশ্যই আছে। সম্ভাব্য সব কারণ আমলে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কারা আর্থিক, রাজনৈতিকভাবে লাভবান, সেটা শিগগিরই বের হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘যখনই আমাদের কাছে আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যার ঘটনার খবর আসে, তখনই আমরা কিন্তু মাস্টারমাইন্ড শিমুল ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করি। এরপর তানভীর ও সেলেস্তিকে গ্রেপ্তার করি। তারা বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর আমরা নিজেরা কলকাতায় গিয়ে সঞ্জিভা গার্ডেন পরিদর্শন করি। এই হত্যাকাণ্ডে আরও দুজন জড়িত, দুজনের নাম জানতে পারি। তারা ফয়সাল ভূঁইয়া ও মোস্তাফিজুর রহমান। তারা আত্মগোপনের জন্য ফটিকছড়ি ও সীতাকুণ্ডের মাঝখানে পাতাল কালীমন্দিরে লাল ধূতি পরে অবস্থান করছিলেন। সেখানে তারা হিন্দু পরিচয়ে পাতাল কালীমন্দিরে বাঁচার জন্য লুকিয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই দুজনকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের একটি টিম ছিল ঝিনাইদহে। সুন্দরবনেও একটি গিয়েছিল। আর দুটি টিম খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, ফটিকছড়ি সীতাকুণ্ডে কাজ করছিল অনেক দিন ধরে। সবদিকে গোয়েন্দা জাল বিছিয়ে আমরা গতকাল সেই দুজনকে গ্রেপ্তার করি। শিমুল ভূঁইয়ার নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ডের জন্য যা যা করার দরকার তারা তাই করেছেন।’

জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আনার হত্যার বর্ণনা দিয়ে ডিবিপ্রধান বলেন, ‘১৩ মে সকালবেলা এমপি আনার তার বন্ধু গোপালের বাসা থেকে বের হন। বিধানসভার কলকাতা পাবলিক স্কুলের সামনে অপেক্ষায় ছিলেন ফয়সাল। তিনি আনারকে রিসিভ করে লাল গাড়ির কাছে যান। যেখানে অপেক্ষায় ছিলেন শিমুল ভূঁইয়া। আর অন্যদিকে কলকাতা সঞ্জিভা গার্ডেনের ভাড়া বাসায় অপেক্ষায় ছিলেন মোস্তাফিজ, জিহাদ হাওলাদার। ফয়সাল, শিমুল ভূঁইয়া আনারকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে  গেলে রিসিভ করেন সেলেস্তি রহমান ও মোস্তাফিজুর রহমান। তারা নিচে কর্নারের রুমে যান। আনার যখন বুঝতে পারেন তিন-চারজনের গতিবিধি, তখন তিনি অনেক কাকুতি-মিনতি করেন, বাঁচার চেষ্টা করেন। দৌড় দিয়ে বের হতে চেষ্টার সময় ফয়সাল তার নাকে মুখে ক্লোরোফম ধরে নিস্তেজ করেন। এরপর হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করা হয়।’

আনার কিলিং মিশনে সাতজন অংশ নিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা সাতজনই গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে শিমুল ভূঁইয়া, ফয়সাল, মোস্তাফিজুর, ইন্ডিয়ান পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার জিহাদ হাওলাদার, আমাদের তথ্যের ভিত্তিতে নেপালে আত্মগোপনে থাকা গ্রেপ্তার সিয়াম, তানভীর ও সেলেস্তি। এর বাইরে আরও দুজন আমাদের কাছে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ নেতা মিন্টু ও গ্যাস বাবু। ঢাকার ডিবির হাতে গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে চারজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সবশেষ গতকাল গ্রেপ্তার ফয়সাল ও মোস্তাফিজকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে।’

আখতারুজ্জামান শাহীনের বিষয়ে হারুন বলেন, ‘শাহীন মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। তিনি তদন্ত থেকে শেষ হয়ে যায়নি। কিলিং মিশনে সরাসরি সাতজন জড়িত। সবাই গ্রেপ্তার। এর বাইরে মাস্টারমাইন্ড, পরিকল্পনাকারী, মোটিভ, অর্থদাতা এগুলো তো অন্য বিষয়। এখনও আমাদের কাছে শাহীন মাস্টারমাইন্ড। কারণ ওনিই তো তার পাসপোর্ট দিয়ে কলকাতার সঞ্জিভা গার্ডেনে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন। হত্যাকারী, পরিকল্পনা, বাসা ভাড়া, এসবই তো শাহীন করেছেন। শাহীন ১০ মে দেশে ফিরেছেন। জিহাদ বাদে হত্যার পর একে একে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সবাই দেশে, কেউ নেপালে চলে যান। শিমুল ভূঁইয়া গ্রেপ্তারের পর শাহীন কিন্তু প্রথমে দিল্লি, এরপর নেপাল তারপর দুবাই হয়ে আমেরিকা চলে যান। তিনি তো ইউএস সিটিজেন।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হারুন বলেন, ‘কলকাতার একটি মার্কেট থেকে ১৭ হাজার টাকা দিয়ে একটি চেয়ার কিনে আনেন, সঙ্গে ক্লোরোফর্ম। সেই চেয়ারে বেঁধে আনারকে বিবস্ত্র করা হয়। এই কাজগুলো করেছেন ফয়সাল। আর হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র সিয়াম এনে দিয়েছিলেন ফয়সালকে।’

‘মোস্তাফিজ ও ফয়সাল হত্যার কাজ শেষে দেশে ফিরে শাহীনকে ফোন করে বলেন আমরা কোথায় থাকব। তখন শাহীনের একটা বাসা আছে বসুন্ধরায়। সেখানে তারা যান। সেখানে গিয়ে শিমুল ভূঁইয়ার সঙ্গে কথা বলতে বলতে ফোন বন্ধ হয়ে যায়। ফয়সাল ও মোস্তাফিজ ছিল ট্রাক ড্রাইভার। তাদের ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। মোবাইল বন্ধ করে তারা চলে যান খাগড়াছড়ির গহিন অঞ্চলে। সেখানে সীতাকুণ্ড পাহাড়ের নিচে পাতাল কালীমন্দির আছেন। সেখানে তারা নিজেদের নাম বদলে ফেলেন। ফয়সাল পলাশ রায় আর মোস্তাফিজুর শিমুল রায় নাম ধারণ করে হিন্দু সেজে মন্দিরে অবস্থান করেন। বলেন, মাকে তারা খুব ভালোবাসেন। কালীমন্দির ছাড়া থাকতে পারি না। তারা চুলের ধরন পরিবর্তন করেন, ধূতি পরেন,’ যোগ করেন তিনি।

এই অবস্থায় হত্যার মূল মোটিভটা কী? জানতে চাইলে হারুন বলেন, ‘এই সংসদ সদস্য কিলিং মিশনে জড়িত সাতজনের সবাই গ্রেপ্তার হয়েছেন। যেকোনো হত্যার পেছনে একটা মোটিভ থাকে। ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার জনপ্রিয় সংসদ সদস্য। তাকে টাকা-পয়সা লেনদেনের কথা বলে যান শাহীন। তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছিল? কারা লাভবান? কারা আর্থিক, রাজনৈতিকভাবে লাভবান সেটা আশা করি বের হবে। সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যায় মোটিভ তো অবশ্যই আছে। তবে এখন পর্যন্ত আমরা সুনির্দিষ্ট মোটিভ বলতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবগুলো রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকসহ সম্ভাব্য কারণ আমলে নিয়ে তদন্ত করছি। আমরা সর্বশেষ গ্রেপ্তারদের রিমান্ডে নেব, জিজ্ঞাসাবাদ করব। হত্যার সম্ভাব্য সব মোটিভ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আমরা অনর্থক কাউকে ডাকাডাকি করছি না। নির্দোষ কাউকে হয়রানি করছি না।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা