× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এমপি আনার হত্যা

‘পরিকল্পনাকারী’ শাহীন গ্রেপ্তার না হওয়ায় জট খুলছে না অনেক প্রশ্নের

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৪ ২২:০২ পিএম

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৪ ২২:০৪ পিএম

আনোয়ারুল আজিম আনার। ছবি: সংগৃহীত

আনোয়ারুল আজিম আনার। ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার খুন হওয়ার এক মাস পার হয়ে গেলেও এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আক্ততারুজ্জামান শাহীন। ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখা থেকে ভারতের ইন্টারপোল শাখায় শাহীনকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো অগ্রগতি নেই। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, ভারত উদ্যোগ না নিলে বাংলাদেশকেই নিতে হবে এমপি আনার হত্যার পরিকল্পনাকারী শাহীনকে গ্রেপ্তারে। আর সেটি সম্ভব এলএমএ (মিউচুয়াল লিগ্যাল এগ্রিমেন্ট) পদ্ধতি ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে, চাপ দিতে হবে কূটনৈতিকভাবেও।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ চাইলে শাহীনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব। মিউচুয়াল লিগ্যাল এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে (এমএলএ) শাহীনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্রেপ্তার করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। পৃথিবীর অনেক দেশে বন্দিবিনিময় চুক্তি ছাড়াও আসামি গ্রেপ্তার করে ফিরিয়ে আনার নজির রয়েছে।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট ডিবির এক কর্মকর্তা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ডিবি মূলত এমপি আনার হত্যার কারণ এবং হত্যায় জড়িত কারা, সে বিষয়ে তদন্ত করছে। তদন্ত করতে গিয়ে যখন যাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগের দুজন নেতা এমপি আনার হত্যার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত কিছু জায়গায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর বাইরে বলা হচ্ছে, সোনা চোরাচালান সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। কিন্তু সেই প্রমাণ পুরোপুরি না পাওয়া পর্যন্ত সোনা চোরাচালান চক্রে যাদের নাম এসেছে তাদের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে না।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, আনারকে হত্যার অন্যতম কারণ হচ্ছে সীমান্ত এলাকার সোনা চোরাচালানের রুট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। এ সোনা চোরাচালানের সিন্ডিকেটে বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যারা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। এ সিন্ডিকেট আনারের সঙ্গে রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছেÑ এমন একটি প্ল্যাটফর্মকে একসঙ্গে করে।

ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক আক্তারুজ্জামান শাহীন, পূর্ববাংলা কমিউনিউস্ট পার্টির( সর্বহারা) নেতা শিমুল ভূঁইয়া ওরফে শেখ আমানুল্লাহ সাঈদ এবং ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবুর সঙ্গে আনারের বিরোধের বিষয়গুলো সবাই জানেন। সোনা চোরাচালান রুট নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেট এ প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে নিজেরা আড়ালে থেকেই কাজ করেছেন। ফলে আনার গ্রেপ্তার না হলে হত্যার জট খোলা দুরূহ।

মামলার তদন্তে চাপ নিয়ে যা বলেছেন ডিএমপি কমিশনার

ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমপি আনার হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে বলেন, আনার হত্যা মামলার তদন্তে পুলিশ কোনো চাপে নেই। মামলার তদন্তকারীরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে মামলার তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সংসদ সদস্য আনার খুনের মামলার তদন্ত সঠিকভাবে এগিয়ে চলছে। মামলা তদন্তে কারও হস্তক্ষেপ নেই। স্বাধীনভাবে আমরা তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এমপি আনার হত্যা মামলায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা গ্রেপ্তারে কোনো চাপ আছে কি নাÑ জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, মামলা তদন্তে কারও হস্তক্ষেপ নেই। স্বাধীনভাবে আমরা তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

কালিগঞ্জে বিক্ষোভ

এদিকে আনার হত্যায় গ্রেপ্তার হওয়া ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু এবং ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন সংসদ সদস্য আনারপন্থি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তারা দাবি করেছেন, মিন্টুর নির্দেশেই আনারকে হত্যা করা হয়েছে। 

কালিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল আলম আশরাফ শনিবার এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা মিন্টুকে গ্রেপ্তার করার পর অনেক তথ্য ফাঁস হচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডে মিন্টুর অনুসারী আরও একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাও জড়িত থাকতে পারে। তাদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।

গত ১২ মে কলকাতায় গিয়ে পরদিন নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে খুন হন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে সাইদুল করিম মিন্টুসহ পাঁচজনকে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কলকাতা ও নেপালে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও দুজন। ইতোমধ্যে তারা আদালতে অপরাধের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেনÑ চরমপন্থি নেতা শিমুল ভূঁইয়া ওরফে আমানুল্লাহ, তার ভাতিজা তানভীর ভূঁইয়া ও কথিত মডেল সেলেস্তি রহমান ও গ্যাস বাবু।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা