× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সন্ত্রাসী মোশার ছেলে নিরবের গুলিতেই মৃত্যু দ্বীন ইসলামের

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৪ ১০:৫৮ এএম

কোমরে পিস্তল গুঁজছে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশার ছেলে নিরব। পাশেই টেঁটা হাতে দ্বীন ইসলাম। প্রবা ফটো

কোমরে পিস্তল গুঁজছে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশার ছেলে নিরব। পাশেই টেঁটা হাতে দ্বীন ইসলাম। প্রবা ফটো

রূপগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশারফ হোসেন মোশার বড় ছেলে নিরবের গুলিতেই রাজধানীর উপকণ্ঠ রূপগঞ্জের নাওড়া গ্রামে গত বৃহস্পতিবার (৬ জুন) দ্বীন ইসলাম নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। সেদিনের সেই সন্ত্রাসী তাণ্ডবের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন এ কথা। নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর সেদিন মোশা বাহিনীর সশস্ত্র হামলার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। রূপগঞ্জ থানা পুলিশও ভিডিওটি হাতে পেয়েছে। তাতে দেখা যায়- নিরব বিদেশি পিস্তলটি কোমরে রেখে তার চাচা আনোয়ার হোসেনের হাতে থাকা শটগানটি তুলে নিয়ে এলাকাবাসীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে। সেই গুলিতেই দ্বীন ইসলামের মৃত্যু হয়। মুখে মাস্ক পরিহিত নিরবের মাথায় তখন ছিল হেলমেট, গায়ে ডোরাকাটা গেঞ্জি ও পরনে অফহোয়াইট প্যান্ট। তার পাশেই টেঁটা ও বল্লম হাতে আরও কয়েকজনকে দেখা যায়। তারা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করছিল। কালো প্যান্ট ও প্রিন্টের গেঞ্জি গায়ে নিহত দ্বীন ইসলাম (২২) নিজেও টেঁটা হাতে, মাথায় হেলমেট পরে গ্রামবাসীর ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছিল। 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাওড়া মধ্যপাড়ার আবুল হোসেন ও চঞ্চল মিয়া বলেন, দ্বীন ইসলাম গ্রামবাসীর ওপর ইট নিক্ষেপের জন্য সামনে এগিয়ে যায়। এ সময় নিরব গুলি ছুড়ছিল। দ্বীন ইসলাম ঠিক ওই সময় ইট মেরে পেছন দিকে ফেরামাত্র নিরবের ছোড়া গুলি তার বুকে লাগে। ঘটনাস্থলেই সে লুটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে সে মারা যায়। 

নিহত দ্বীন ইসলাম

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ দলের কর্মী দ্বীন ইসলামকে গুলি করে হত্যায় জড়িত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশারফ হোসেন মোশার ছেলে নিরবকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এলাকাবাসী বলছেন, ভূমিদস্যু বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান দীর্ঘদিন ধরেই রূপগঞ্জের নাওড়া এলাকাসহ ৫টি ইউনিয়নে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও জুলুম, নির্যাতন চালিয়ে নামমাত্র মূল্যে অথবা জোরপূর্বক বালু ভরাট করে জমি, ভিটে-মাটি দখল করে আসছেন। এ কাজে তাকে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন বসুন্ধরা গ্রুপ ল্যান্ডের দুই পরিচালক নাজমুল ও তুহিন। বসুন্ধরার ভূমিদস্যুতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ রফিকুল ইসলাম। তখন থেকে তার নেতৃত্বে এলাকাবাসী সংগঠিত হয়ে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ভূমিদস্যুদের গডফাদার আহমেদ আকবর সোবহান ওরফে শাহ আলম। রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে নিঃস্ব করে দিতে তিনি একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। নদী থেকে উদ্ধার হওয়া নাওড়া গ্রামের শিশু স্বাধীনের লাশ দিয়ে রফিকুল ইসলামসহ তার পরিবারের সদস্যদের ফাঁসানোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন ভূমিদস্যু শাহ আলম। শিশু স্বাধীনের পরিবারকে টাকার বিনিময়ে কিনে নিয়ে আদালতে রফিকুল ইসলাম, তার ভাই মিজানসহ নিরপরাধ মানুষকে আসামি করে প্রথমে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনাটি মিথ্যা হওয়ায় মামলা নেয়নি থানা। পরে আদালতে গিয়ে সিআর মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয় কেবল রফিকুল ইসলামকে ঘায়েল করতেই স্বাধীনের অপমৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বানিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপ যখন সাজানো এই ঘটনা নিয়ে রফিকুল ইসলামকে ঘায়েল করতে ব্যর্থ হয় তখন নতুন করে আরেকটি পরিকল্পিত ঘটনা তৈরির ছক কষতে শুরু করে। আর একাজে নিয়োজিত করে রূপগঞ্জের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হত্যা, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, পুলিশের ওপর হামলাসহ ৫৩ মামলার আসামি মোশারফ হোসেন মোশা ও তার বাহিনীকে। টাকা ও অস্ত্র দিয়ে মোশাবাহিনীকে সহযোগিতা করতে থাকে বসুন্ধরা গ্রুপ।

শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশারফ হোসেন ( মোশা)

এই বাহিনীকে দিয়ে কিছুদিন পরপর অতর্কিত হামলা চালায় নাওড়াসহ রূপগঞ্জের ৫টি ইউনিয়নের নিরীহ মানুষের ওপর। এভাবেই গত বৃহস্পতিবার মোশা বাহিনী নাওড়া গ্রামে নিরীহ মানুষের ওপর হঠাৎ তাণ্ডব চালাতে শুরু করে। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলা ও গুলিতে আহত হয় অন্তত ১৫ জন। গুলিবর্ষণের সময় নিজ দলের কর্মী দ্বীন ইসলামকে হত্যা করে মোশা বাহিনী। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে একটি লাশের জন্য অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় বসুন্ধরা গ্রুপের। রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে ৩১ জনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপরেই মিথ্যা অভিযোগটি মামলা হিসেবে নেওয়ার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বিভিন্ন সংস্থায় চাপ দিতে শুরু করেন। তিনি টেলিফোনে বিভিন্ন কর্তাব্যক্তিকে এই বলে হুমকি দেন যে, মামলা না নিলে সাবেক আইজিপি বেনজীরের অবস্থা বানাবেন তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন সংস্থার লোকজন জানিয়েছেন, রফিকুল ইসলামকে ফাঁসাতে এখন মরিয়া হয়ে উঠেছেন শাহ আলম। তিনি নানাভাবে রফিকুল ইসলামের ক্ষতি করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে এখন আরেকটি মিথ্যা মামলার জালে ফাঁসাতে চাইছেন। নানা ভাড়াটে লোক দিয়ে অপরাধ সংঘটিত করে রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম জড়িয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে শাহ আলমের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায়। 

ঘটনার ইন্ধনদাতা মাহবুবুর রহমান তুহিন ও নাজমুল আলম ভূঁইয়া

অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নিরবের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, অস্ত্রহাতে গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও আমরা দেখেছি। ঘটনার পর থেকে মোশারফ, তার ছেলে নিরবসহ আসামিরা আত্মগোপনে আছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে চেষ্টা অব্যাহত আছে। (পর্ব ১)।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা