প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৪ ০৯:৫৪ এএম
নিহত পুলিশ কনস্টেবল মনিরুল হক। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর বারিধারায় ডিপ্লোমেটিক জোনে ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনে দায়িত্ব পালনকালে একে অপরের সঙ্গে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে কনস্টেবল মনিরুল হককে খুব কাছ থেকে গুলি করেন কনস্টেবল কাওছার। এতে ঘটনাস্থলেই মনিরুল মারা যান বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তবে কী নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছিল, কেন কাওছার উত্তেজিত ছিলেন সেসব বিষয়ে এখনও জানাতে পারেনি পুলিশ। কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত কনস্টেবল কাওছার আলী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। গুলি করেই তিনি হতভম্ব। যে কারণে ঘটনার পরও অস্ত্র রেখে কাওছার সেখানে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। কারণ তিনি স্ট্রেসটা নিতে পারছিলেন না।
এ ঘটনায় গতকাল রবিবার নিহতের বড় ভাই কনস্টেবল মাহাবুবুল হক কাওছার আলীকে আসামি করে গুলশান থানায় একটি মামলা করেছেন। কনস্টেবল কাওছার আলীকে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, কাওছারকে মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত মনে হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সঠিক তথ্য দিচ্ছেন না। গম্ভীর হয়ে আছেন। তার গত ১৫ দিনের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি যাদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, যাদের সঙ্গে থেকেছেন চলাফেরা করেছেন, তাদের সঙ্গে তদন্তকারীরা কথা বলবেন।
শনিবার মধ্যরাতে ফিলিস্তিন দূতাবাসের পুলিশ বক্সে গুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পথচারী জাপান দূতাবাসের এক গাড়িচালক মো. সাজ্জাত হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি গুলশানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত পৌনে ১২টার দিকে হঠাৎ ফিলিস্তিনি দূতাবাসের সামনে গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক পুলিশ সদস্যকে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। তখন পুলিশের আরেক সদস্য বন্দুক তাক করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পথচারীরা সামনে এগোতে চাইলেই এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকেন তিনি। ফলে আতঙ্কে মুহূর্তের মধ্যে এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে।
ওই এলাকার এক রিকশাচালক জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ বক্সে তর্কাতর্কি করেন দুই পুলিশ সদস্য। চিল্লাচিল্লির শব্দও শোনা যায়। এরপর কিছুক্ষণ পরেই কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়।
ফিলিস্তিন দূতাবাসের এক নিরাপত্তা রক্ষী জানান, ঘটনার সময় তিনি দূতাবাসের ভেতরে ছিলেন। রাতে হঠাৎ ৭ থেকে ৮ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনে বাইরে বেরিয়ে আসেন। বাইরে আসার পর দেখেন, দূতাবাসের প্রধান ফটকের সামনে কাওছার দাঁড়িয়ে আছে। একটু দূরে পড়ে রয়েছে মনিরুলের মরদেহ।
তিনি বলেন, আমরা তখন কাওছারকে জিজ্ঞেস করি কী হয়েছে? তিনি বলেন, শালা (মনিরুল) নাটক করতেছে, এমনি মাটিতে পড়ে রয়েছে। এই কথা বলে কাওছার দূতাবাসের বিপরীত পাশের রাস্তায় চলে যান। এরই মধ্যে সবাই বুঝে ওঠেন যে কাওছার মনিরুলকে গুলি করেছেন। এর পরপরই ঘটনাস্থলে থাকা নিরাপত্তা রক্ষীরা কাওছারকে আটক করেন।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজের ১ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের একটি ক্লিপ প্রতিদিনের বাংলাদেশের হাতে এসেছে। এতে দেখা গেছে, শনিবার রাত ১১টা ৩৯ মিনিটের দিকে কনস্টেবল মনিরুল ডিউটি নোটবুক নিয়ে দূতাবাসের সামনে পায়চারী করছেন। কাওছারের দিকে নোটবুকটি নিয়ে এগিয়ে গেলে কাওছার গুলি করেন মনিরুলকে। গুলিবিদ্ধ মনিরুল ফুটপাথ থেকে সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় পড়ে যান। এরপর কাওছার তার কাছে এসে আরও গুলি চালান।
এদিকে খবর পেয়ে ওই রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), সোয়াট টিমসহ থানা পুলিশের একাধিক টিম মোতায়েন করা হয়। কাওছারকে নিরস্ত্র করে থানায় নেওয়া হয়। কনস্টেবল মনিরুলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি খালি ম্যাগাজিনসহ এসএমটি নাইন মডেলের সাবমেশিনগানের ৩৪টি গুলির খোসা উদ্ধার করে। এ ছাড়া কাওছারের কাঁধে ঝুলানো অবস্থায় ২২ রাউন্ড গুলিসহ একটি এসএমটি নাইন মডেলের সাবমেশিনগান জব্দ করা হয় এবং নিহতের ৭ দশমিক ৬২ চায়না রাইফেল ও রইফেলের ২০ রাউন্ডগুলিসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন সাংবাদিকদের বলেন, কাওছার আলী কী কারণে মনিরুলকে গুলি করে হত্যা করেছেন তা জানতে পুলিশ তদন্ত করছে। ঘটনার কারণ জানতে আমরা কনস্টেবল কাওছারকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। জিজ্ঞাসাবাদে আমরা এ ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করব। আক্রমণকারীকে আমরা ইতোমধ্যে আটক করে ফেলেছি, ঘটনার প্রকৃত রহস্য জানাটা খুব কঠিন হবে না।
দূতাবাস এলাকা খুবই সুরক্ষিত, এ ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতা প্রকাশ পায় কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে আমাদের লোক ছিল, ঘটনা যে ঘটিয়েছে, সেও আমাদের লোক। আসলে ঘটনাটা কী কারণে ঘটেছে, সেটা আমরা জানার চেষ্টা করছি।
ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, যে পুলিশ সদস্য গুলি করেছেন তাকে আটক করে গুলশান থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার ব্যাপারে এখনও তারা পরিষ্কার নন। তবে প্রাথমিকভাবে তিনি মনে করছেন, কোনো মানসিক চাপের কারণেই হয়তো ওই কনস্টেবল এ ধরনের আচরণ করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মনিরুল হকের শরীরে গুলি লেগেছে ৬ রাউন্ড। ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ বলছে, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে কনস্টেবল মনিরুল ও কাওছারের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নিজের সঙ্গে থাকা অস্ত্র দিয়ে মনিরুলকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছোড়েন কাওছার। উন্মাদের মতো ছোড়া ৩৪ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রবিবার দুপুরে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে তাকে দাফন করা হবে। গোলাগুলির ঘটনায় আহত জাপান দূতাবাসের গাড়িচালক সাজ্জাত হোসেনের শরীরে ৩ রাউন্ড গুলি বিদ্ধ হয়েছে।
আহত সাজ্জাদ পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় দেখেন এক পুলিশ সদস্য আহত হয়ে পড়ে আছেন। তিনি এর কারণ জানতে এগিয়ে গেলে সেখানে থাকা কনস্টেবল তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। সেই গুলিতে তিনি আহত হন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কূটনৈতিক জোনে দায়িত্ব পালনের জন্য কিছুদিন আগে পুলিশ সদস্যদের জন্য ব্রাজিল থেকে এসএমটি সাবমেশিনগান আনা হয়েছিল। এই অস্ত্র দিয়ে মিনিটে ৬০০ রাউন্ড গুলি করা যায়। সেই অস্ত্র দিয়ে ওই এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিল পুলিশ সদস্যরা। দায়িত্বরত কনস্টেবল কাওসার আলীর হাতে এসএমটি সাবমেশিনগান ছিল। সহকর্মীকে লক্ষ্য করে তিনি সেই অস্ত্র দিয়ে ৩৮ রাউন্ড গুলি ছুড়েছেন।
কাওছার হত্যায় বড় ভাইয়ের মামলা
গতকাল নিহতের বড় ভাই কনস্টেবল মাহাবুবুর হক বাদী হয়ে গুলশান থানায় ৩০২/৩০৭/৩২৬ ধারায় একটি মামলা করেছেন। এতে এসএমটি-নাইন অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে মৃত্যু ঘটানো ও হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করার অপরাধ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদী বলেছেন, রাত অনুমান ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে কনস্টেবল কাওছার আলীর সঙ্গে ডিউটি নিয়ে আমার ভাইয়ের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এরই একপর্যায়ে আসামি উত্তোজিত হয়ে আমার ছোট ভাইকে উদ্দেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। তার গুলির আঘাতে আমার ভাই ফিলিস্তিন দূতাবাসের পুলিশ বক্সের সামনে উপুড় হয়ে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে। কাওছারের এলোপাতাড়ি গুলিতে পথচারী জাপান অ্যাম্বাসিতে কর্মরত গাড়িচালক সাজ্জাত হোসেনও গুলিবিদ্ধ হন। তিনি গুলশান ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এজাহারে মাহাবুবুর আরও জানিয়েছেন, গুলির খবর পেয়ে পুলিশের কয়েকটি দল তাৎক্ষণিক সেখানে গিয়ে ঘটনাস্থলের চারদিক ঘিরে ফেলে এবং সু-কৌশলে আসামি কাওছারকে সশস্ত্র অবস্থায় আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আসামির কাঁধে ঝুলানো অবস্থায় ২২ রাউন্ড গুলি ভর্তি ১টি ম্যাগাজিনসহ এসএমটি-নাইন মডেলের অস্ত্র এবং রাস্তায় পড়ে থাকা একটি খালি ম্যাগাজিন ও ৩৪ রাউন্ড গুলির খোসা জব্দ করে। পাশাপাশি আমার ভাইয়ের নামে ইস্যু করা সরকারি চায়না রাইফেল ও ২০ রাউন্ড গুলিসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়। কাওছারের গুলিতে আমার ভাইয়ের মাথার বামপাশে একাধিক রক্তাক্ত জখম হয়। বাম চোখ গুলিবিদ্ধ হয়েছে; নাক-কান দিয়ে রক্ত বের হয়েছে এবং বুক, পেট ও পিঠের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি গুলির আঘাতে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
সাত দিনের রিমান্ডে
কনস্টেবল মনিরুল হককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তার সহকর্মী কাওছার আলীর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে কাওছার আলীকে তোলা হয়।এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল মান্নাফ আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহাম্মদ শুনানি শেষে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে এ সময় কাওছারের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
যা বলছে ডিএমপি
গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তরে নিজ কার্যালয়ে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপ্স) ড. খ. মহিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, মনিরুলের সঙ্গে কাওছারের তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটে। তর্কাতর্কির পর উত্তেজিত হয়ে কাওছার সহকর্মী মনিরুলকে উদ্দেশ করে গুলি ছোড়েন। তবে কী নিয়ে তর্ক ও কী কারণে কাওছার উত্তেজিত ছিলেন সে বিষয়ে এখনও জানা যায়নি। এর কারণ অনুসন্ধান করে বের করা হবে।
দুই পুলিশ সদস্যের মধ্যে বিরোধ ছিল এমন তথ্য পুলিশের কাছে নেই উল্লেখ করে পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কাওছারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। কিন্তু বিরোধের কোনো তথ্য তার কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি অভিযুক্ত কাওছারের গত এক-দুই মাসের ডিউটি রেকর্ড দেখেছি। রেকর্ডে কাওছার যথাযথভাবেই ডিউটি করেছে।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে, অভিযুক্ত কনস্টেবল কাওছার আলী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। গুলি করেই তিনি হতভম্ব। এই কারণে বার বার বলছিলেন, এটা কীভাবে হয়ে গেল। আমি জানি না। অর্থাৎ নিজের সহকর্মীকে এ ধরনের ঘটনা ঘটার পর মানসিকভাবে নার্ভাস হয়ে পড়েন কাওছার। যে কারণে ঘটনা ঘটানোর পরও অস্ত্র রেখে কনস্টেবল কাওছার সেখানে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। কারণ তিনি স্ট্রেসটা নিতে পারছিলেন না। ঘটনার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন হয়তো কত বড় অন্যায় ও অমানবিক কাজ করে ফেলেছেন। হয়তো এক-দুদিন গেলে বোঝা যাবে গুলি করার কারণ কী ছিল।’
সামগ্রিকভাবে পুলিশ সদস্যদের কাউন্সেলিংয়ের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না— জানতে চাইলে ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমাদের কাউন্সেলিংয়ের সিস্টেম নেই। তবে আমাদের নিয়মিত ব্রিফিংগুলোতে কী করা যাবে, কী করা যাবে না; সে সম্পর্কে বলা হয়। এটাও এক ধরনের কাউন্সেলিং।
কাওসারের স্ত্রী যা বলছেন
কনস্টেবল কাওসার আহমেদ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দাড়েরপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়াত আলীর ছেলে। কাওসারের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, শনিবার রাত তিনটার দিকে পুলিশের একজন কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে বিষয়টি তাকে জানান।
নিলুফার বলেন, ২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসে কাওসার পুলিশে যোগ দেন। ২০০৬ সালের মাঝামাঝি তাদের বিয়ে হয়। সংসারে কোনো ঝামেলা বা কলহ নেই বলে জানান নিলুফা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, শনিবার রাত আটটার দিকে সর্বশেষ কাওসার তার মা-বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। তার আগে বিকালে স্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়। কাওসার বলেছিলেন, ঈদের ছুটি নেওয়ার জন্য ৪ তারিখ আবেদন করেছেন। এবার ঈদে বাড়িতে আসবেন।
নিলুফা বললেন, ‘কাওসারের মানসিক সমস্যা ছিল। রাঙামাটির বরকলে চাকরি করার সময় তিনি মানসিক সমস্যায় ভোগেন। এরপর বিভিন্ন সময় সরকারিভাবেই তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে অন্তত তিনবার চিকিৎসা করানো হয়। নিয়মিত ওষুধও সেবন করতেন কাওসার।’ নিলুফা বলেন, ‘আমার এখনও বিশ্বস হচ্ছে না যে গুলি করার মতো কোনো ঘটনা তিনি ঘটাতে পারেন। কীভাবে কী হয়েছে সেটা বুঝতেছি না।’
নিলুফা বলেন, কিছুদিন ধরে কাওসার খুবই কম কথা বলতেন। ঈদের কেনাকাটার জন্য বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছিলেন। সংসারে কোনো অভাব-অনটন ছিল না। তবে চাকরি নিয়ে খুবই টেনশন করেন তিনি। ছয় ঘণ্টার ডিউটি আট ঘণ্টা হতো। এ ছাড়া নানা বিষয় নিয়ে তিনি টেনশন করতেন। এ ছাড়া তেমন কিছু জানা নেই।
প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিবেদক