প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৪ ১৯:২৭ পিএম
আপডেট : ০৫ জুন ২০২৪ ১৯:৫৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জামালপুরে জানাজা নামাজ পড়তে গিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হকের আইফোন চুরি হয়। এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের হওয়ার পর তদন্তে নেমে চোরকে শনাক্ত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ (উত্তর)। তদন্তের একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে কয়েক হাত ঘুরে আইফোনটি চলে গেছে মালয়েশিয়ায়।
পরে আইফোন চুরি করা চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ডিবি জানতে পারে, সারা দেশে তাদের ছোট ছোট ৮০টি গ্রুপ রয়েছে। যারা রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, সরকারি/বেসরকারি অনুষ্ঠান, বিভিন্ন হাটবাজার, জানাজার নামাজসহ জনসমাবেশস্থলে টার্গেট করে চুরি করে।
প্রতিমন্ত্রীর আইফোন চুরি হওয়ার প্রায় দেড় মাস পর মালয়েশিয়া থেকে ফেরতও এনেছে ডিবি।
বুধবার (৫ জুন) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে গোয়েন্দা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ। ফোন চুরির ক্ষেত্রে জিডি না করে সরাসরি চুরির মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর ফোন উদ্ধার বিষয়ে ডিবিপ্রধান জানান, ৩০ এপ্রিল জামালপুরের ইসলামপুরের মোশাররফগঞ্জে এক জানাজা নামাজ পড়তে গিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হকের পকেট থেকে মোবাইল ফোনটি চুরি যায়। এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একটি জিডি করেন। এরপর থেকে প্রতিমন্ত্রীর মোবাইল ফোন উদ্ধারে কাজ শুরু করে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মালয়েশিয়া থেকে আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মোবাইল ফোন চোর চক্রের হোতাসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকায় কাজ করা চক্রটি কখনও পকেট মারে, কখনও ছোঁ মেরে মোবাইল নিয়ে যায়, আবার কখনও ছিনতাই করে। আর ঢাকার বাইরে চক্রের সদস্যরা বড় কোনো জনসমাবেশকে টার্গেট করে চুরি করে। চক্রের কোনো সদস্য চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লে অন্য সদস্যরা ভুক্তভোগীকে ঘিরে রেখে তাদের সদস্যদের পালাতে সাহায্য করে। ঢাকাসহ সারা দেশে এই চক্রের ৮০টি গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপের নেতৃত্ব দেয় জাকির হোসেন। তাকেসহ চক্রের ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- মাসুদ শরীফ, জিয়াউল মোল্লা জিয়া, রাজিব খান মুন্না, আল আমিন মিয়া, আনোয়ার হোসেন ওরফে সোহেল, রাসেল, খোকন আলী ও বিল্লাল হোসেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
হারুন-আর-রশীদ বলেন, ‘ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি বা ছিনতাই করে আনা ফোনগুলো জাকিরের কাছে জমা দিত চক্রের সদস্যরা। জাকির দামি মোবাইলগুলো বিদেশে থাকা চক্রের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। বিশেষ করে, মালয়েশিয়া, ভারত ও দুবাই। বিদেশে পাঠানোর জন্য প্রথমে চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন মার্কেটে থাকা চক্রের সদস্যদের কাছে পাঠাত। পরে সেখান থেকে কুরিয়ার করে বিভিন্ন দেশে পাচার করে দিত।’
যেভাবে চুরি হয় প্রতিমন্ত্রীর আইফোন
জামালপুরের জানাজা নামাজে যাওয়ার পরে তার পকেট থেকে মুন্না নামে চক্রের এক সদস্য মোবাইলটি চুরি করে। এরপর সেটি আসে রাসেলের কাছে। রাসেল ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে বোরহানের কাছে। এরপর সেই মোবাইল কামরুজ্জামান হিরু নামে একজনের কাছে দেয় বোরহান। হিরু মোবাইলটি মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেয়। তাদের গ্রেপ্তারের পর চক্রের সদস্যরা মালয়েশিয়া থেকে মোবাইলটি ঢাকায় পাঠায়।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) বলেন, ‘মোবাইল ফোন চোর চক্রের সদস্যরা আমলা বা সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের টার্গেট করত। চক্রটি অন্তত ১০ হাজার মোবাইল ফোন চুরি করেছে।’