শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৪ ১৭:১২ পিএম
আপডেট : ২৬ মে ২০২৪ ১৭:১৩ পিএম
প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে শরণখোলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। প্রবা ফটো
সাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে বাগেরহাটের উপকূলীয় উপজেলা শরণখোলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
এসব এলাকায় রবিবার (২৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয়।
বলেশ্বর নদে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে প্রায় ৬ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে উপজেলার নিচু এলাকার কয়েক হাজার ঘরবাড়ি।
১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের মধ্যে সাউথখালী ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের বাইরে এবং বলেশ্বর নদসংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী দেড় সহস্রাধি মানুষ নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিয়েছে।
বলেশ্বর নদের তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে সাউথখালী ইউনিয়নের বগী, গাবতলা, বাবলাতলা, দক্ষিণ সাউথখালী এলাকার বেড়িবাঁধের প্রায় এক কিলোমিটারের সিসি ব্লক ধসে গেছে। ওই এলাকার বাঁধের বাইরের বেশ কিছু বসতঘর ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে।
সকাল থেকেই উপজেলা চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুদীপ্ত কুমার সিংহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমল হোসেন মুক্তা, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সেচ্ছাসেবকরা বলেশ্বর তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করছেন। তারা মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়াসহ আবহাওয়া বার্তা প্রচার করছেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।
ঘুর্ণিঝড়র রেমালের এই প্রবল বাতাস আর জলোচ্ছাসে শরণখোলার মানুষের মধ্যে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সংঘটিত সেই সুপার সাইক্লোন সিডরের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ সাউথখালী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাকির হাওলাদার জানান, বেড়িবাঁধের বাইরের সব মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে চলে গেছে। রেমালের ঝড়ে বাঁধের বাইরের বেশ কিছু বসত ও দোকান ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নোঙর করা কয়েকটি ফিশিং ট্রলার ভেঙে গেছে। বলেশ্বর নদের ঢেউয়ের আঘাতে প্রায় এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধের সিসি ব্লক ধসে গেছে। এর ফলে মূল বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুদীপ্ত কুমার সিংহ বলেন, সকাল থেকেই বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্তান করছি। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকেল ৪টা) সাউথখালী ইউনিয়নের ৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে এক হাজার ৬০০ নারী, পুরুষ ও শিশু আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলার ৯৭টি আশ্রয় কেন্দ্রই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে পর্যাপ্ত খাবার পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত শুকনা খাবার, মোমবাতি, খাবার স্যালাইন মজুদ রয়েছে। ঝড়ের গতি বাড়লে জনসাধারণকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দল প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া একাধিক চিকিৎসক দলও গঠন করা হয়েছে।