ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৪ ১৬:৫৬ পিএম
সোনার আশায় এক সপ্তাহ ধরে ইটভাটায় স্তূপ করা মাটি খুঁড়ে যাচ্ছিলেন নানা বয়সী নারী, পুরুষ আর শিশুরা। প্রবা ফটো
ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলার আরবিবি ইটভাটায় সোনার খোঁজে কয়েক দিন ধরে মাটি খুঁড়ে চলছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। দিনে তাপমাত্রা বেশি থাকায় রাতে চলছিল সোনা খোঁজার প্রতিযোগীতা। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ যাচ্ছিলেন সোনা খুঁজতে।
তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি চিন্তা করে শনিবার (২৫ মে) রাত থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সেই ইটভাটায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুল হাসান এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে এ নির্দেশনা দেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাণীশংকৈল থানার ৫ নম্বর বাচোর ইউনিয়নের অন্তর্গত কাতিহার বাজারের উত্তরপার্শ্বে রাজোর গ্রামে রুহুল আমিনের মালিকানা আরবিবি ইটভাটায় মাটির স্তূপ খুড়ে সোনা পাওয়া যাচ্ছে এমন খবরে স্থানীয় মানুষজনসহ আশপাশের বিভিন্ন জায়গার অসংখ্য মানুষ বেশ কিছুদিন ধরে খুন্তি, কোদাল ইত্যাদি দিয়ে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে। প্রতিদিন সেই স্থানে তারা স্বর্ণের সন্ধান করছে। ফলে আগ্রাসী লোকজন সোনা পাওয়ার আশায় ঝগড়া-বিবাদ, কলহ ও দ্বন্দ্বে লিপ্ত হচ্ছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিদিন জনগণ মাটি খুড়ে সোনার সন্ধান করতে থাকলে যেকোনো সময় ঘটনাস্থলে মারামারি, খুন, জখমসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইটভাটা এলাকা ও এর আশপাশে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
মামুন নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আমরা রাতে ঘুমাতে পারি না। হাজার হাজার মানুষ লাইট, কোদাল, ক্ষন্তি, সাবল নিয়ে রাতে মাটি খুড়ে সোনা খুঁজতেছে। জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষজন আসছে। আজকে সকাল থেকে পরিস্থিতি শান্ত। কোন মানুষ চোখে পড়েনি।
এ বিষয়ে ইটভাটার মালিক রুহুল আমিন বলেন, এটা একটা খুজব। কোন সোনা নেই এখানে। আমি অনেক বার মানুষদের বাঁধা দিতে গেছি কিন্তু তারা কেউ আমার কথা শোনেনি। উল্টো আমার ওপরে তেরে আসছে। আমি ইউওনও মহাদয়কে বিষয়ে জানাইছি। গতকাল থেকে ১৪৪ ধারা জারি করছে এখন কোন মানুষ আসেনি সোনা খুঁজতে।
ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার কাতিহার আরবিবি ইটভাটায় গত কয়েকদিন ধরে চলছে মাটি খনন প্রতিযোগিতা। গ্রামের বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ বাড়ি থেকে কোদাল নিয়ে ওই ভাটায় আসছেন এবং ভাটার ইট তৈরির জন্য স্তুপ করে রাখা মাটি খুঁড়ে খুঁজছেন সোনা। এদের মধ্যে শ্রমিক শ্রেণির মানুষই বেশি।