কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৪ ১৬:৫৬ পিএম
আপডেট : ২৬ মে ২০২৪ ১৭:২৮ পিএম
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে পর্যটকরা। প্রবা ফটো
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে উত্তাল রয়েছে সাগর। এটি দুপুর ১২টায় কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। সে সময় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভিড় করতে দেখা যায় অনেক পর্যটককে। যদিও তখন জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল।
এ অবস্থায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট দিয়ে সাগরজলে নেমে পড়েন শরীয়তপুরের ইয়াছমিন আকতার। সঙ্গে ছিল সদ্য মাধ্যমিক উত্তীর্ণ মেয়ে লুবনা। তার অনুভূতি– উত্তাল সাগর দেখতে অন্যরকম লাগে।
ইয়াছমিন আকতার বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মেয়েকে নিয়ে কক্সবাজার এসেছি। সাগর উত্তাল, দেখতে অন্যরকম লাগছে। ছবি তুলছি, শামুক-ঝিনুক কুঁড়িয়েছি। আগে কক্সবাজার অনেক আসা হয়েছে। তবে এবার ঘূর্ণিঝড়ের সময় আসা হলো। ঘূর্ণিঝড়ের সময় কক্সবাজার সাগর কেমন হয় তা দেখতে পেলাম।’
শুধু শরীয়তপুরের ইয়াছমিন নন, একই সময় সৈকতের লাবনী পয়েন্টে ছিল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পর্যটকরা। তাদের মধ্যে নোয়াখালীর আব্দুত রহিম এসেছেন পরিবারের ১৪ জন সদস্য নিয়ে। সবাই নেমে পড়েন উত্তাল সাগরের নোনাজলে।
আব্দু রহিম বলেন, ‘ঢেউ দেখে ভয় লাগছে। কিন্তু খুবই মজা পাচ্ছি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এত বড় বড় ঢেউ হতে পারে, আগে জানতাম না।’

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমালের অগ্রভাগের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিসহ দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত রয়েছে। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে মোংলার কাছ দিয়ে দিয়ে খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করতে পারে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে নয় নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কক্সবাজারসহ উপকূলীয় জেলা এবং এগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরে নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮-১২ ফুট বেশি উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
এমতাবস্থায় পর্যটকদের কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পানিতে নামা ঠেকাতে সকাল ৮টা থেকে কাজ করছেন ‘লাইফগার্ড’ কর্মীরা। তবে তাদের বাধা উপেক্ষা করেই পর্যটকরা সাগরে নেমে পড়ছেন।
সি সেফ লাইফগার্ড সংস্থার কর্মী জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে কক্সবাজারে নয় নম্বর বিপদসংকেত দেওয়া হয়েছে। সাগর উত্তাল রয়েছে। সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে টাঙানো হয়েছে লাল পতাকা। লাল পতাকা মানেই সতর্ক করা, যাতে কেউ সমুদ্রস্নানে না নামে। আমরা কাউকে সৈকতে সমুদ্রস্নানে নামতে দিচ্ছি না।’