× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঘূর্ণিঝড় রেমাল

‘বেড়িবাঁধ থাকলে মোগো ঘর-বাড়ি পানিতে তলাইয়া যাইত না’

বরগুনা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৪ ১৬:০৯ পিএম

আপডেট : ২৬ মে ২০২৪ ১৬:৩৩ পিএম

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে পানি বেড়ে ঘর-বাড়ি তলিয়ে গেছে। রবিবার বরগুনার পোটকাখালী এলাকা থেকে তোলা। প্রবা ফটো

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে পানি বেড়ে ঘর-বাড়ি তলিয়ে গেছে। রবিবার বরগুনার পোটকাখালী এলাকা থেকে তোলা। প্রবা ফটো

‘আজ বেড়িবাঁধ থাকলে মোগো ঘর-বাড়ি পানিতে তলাইয়া যাইত না। মোগো ঘর-বাড়ি সব পানির মধ্যে তলিয়ে গেছে। হুনছি রাইতে আরও পানি আইবে। মোরা ঘরবাড়ি থুইয়া কোথাও যাব না, এমনি গরিব মানুষ দিন আনি দিন খাই। বন্যায় লইয়া গেলে যাউক। আশপাশে কোনো সাইক্লোন সেন্টার নাই। হুনছি ওই স্কুলে ১০ লাখ টাকা দেছে সাইক্লোন সেন্টার করার জন্য, এহন পর্যন্ত হয় নাই। মোরা কই যামু।’ এভাবেই চোখের পানি মুছতে মুছতে কথাগুলো বলছিল পোটকাখালী আশ্রয়ণের লাল বানু।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে বরগুনার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, আজ রবিবার জোয়ারের উচ্চতা ছিল ২ দশমিক ৩২ মিটার, যা বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপরে। এদিকে জোয়ারের পানি বাড়ায় প্লাবিত হয়েছে জেলার নিম্নাঞ্চল। ঘর-বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে গেছে। তলিয়ে গেছে মাছের ঘের। রাস্তা-ঘাটে কোমর সমান পানি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মানুষ।

কুমড়াখালী, আমতলীর আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পশরবুনিয়া গ্রামে বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে পুরো গ্রাম। ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষণে ক্ষণে শক্তি বাড়িয়ে আগ্রাসী রূপ ধারণ করছে ঘূর্ণিঝড়টি। নদীর পানি বেড়ে উপকূল ছাপিয়ে ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে। ভেঙেছে বাঁধ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবো তথ্যানুযায়ী, বরগুনা জেলার ৮০৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে নলটোনা, পালের বালিয়াতলী, কালমেঘা, রামনা এবং কালিকাবাড়ী নামক ৫টি জায়গায় প্রায় এক কিলোমিটার বাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। পরিকল্পিত আর টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিবছরই ভাঙনের কবলে পড়তে হয় উপকূলবাসীর। বন্যার কথা শুনলেই আশ্রয় নিতে হয় সাইক্লোন সেন্টারে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আগেই ‘রেমাল’ আতঙ্কে উপকূলবাসী।

ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় বরগুনা সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম, প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র ও মেডিকেল টিম। নিরাপদ আশ্রয় যেতে প্রশাসন এবং সিপিপি’র পক্ষ থেকে চলছে মাইকিং। তবে এখন পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেনি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা। পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেওয়ার পর আতঙ্কে রয়েছে ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ এবং নিম্নাঞ্চলের মানুষ।

বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী মিলনায়তনে গতকাল শনিবার জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, জেলায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র, ৩টি মুজিব কেল্লা প্রস্তত রাখা হয়েছে। যেখানে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৫১০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। পাশাপাশি ৯ হাজার ৬১৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে। জেলার ৬টি উপজেলায় ৬টি কন্ট্রোল রুম এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটিসহ ৭টি কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হয়েছে। জেলার ৪২টি ইউনিয়নে ৪২টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৪২২ টন জি আর খাদ্যশস্য এবং ১৭ লাখ ৩ হাজার ৫০০ নগদ টাকা মজুদ আছে।

পোটকাখালী গ্রামের রব মিয়া বলেন, ‘ছেলে-মেয়ে বউ তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠাইছি মুই আশ্রয়কেন্দ্রে যামু না। মোর ঘর-বাড়ি দেখবে কেড্যা। যতক্ষণ থাকতে পারমু ততক্ষণ ঘরেই থাকমু। গরু, ছাগল সব আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠাইছি। গরিব মানুষ যতটুকু আছে তা শেষ হয়ে গেলে মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না। 

বরইতলা গ্রামের কুলসুম বেগম বলেন, ‘১০ নম্বর সংকেত দিছে শুনছি সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলছে। পরিস্থিতি খুব খারাপ হবে সবাইকে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যামু। মালামাল সব বস্তা ভরে রাখছে।’

কুমড়াখালী গ্রামের ছালাম বলেন, ‘আমাদের কুমড়াখালী গ্রামে  বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পুরো গ্রাম তলিয়ে গেছে। পুকুরের মাছ, ক্ষেতের ফসল সব শেষ। ঘর-বাড়ির মাটি নরম হয়ে গেছে যেকোনো সময় ঘর-বাড়ি পড়ে যেতে পারে।’

হারুন নামের আরেকজন বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রে যামু, বাড়ির সবাইকে বলছি মালামাল গুছাইছে। তিন পতাকা টানাইছে মানি বন্যা ঠিকঠাক মতো আসবে। জোয়ারের পানিতে ঘরে হাঁটু সমান পানি জমেছে। আসবাবপত্র ভাসিয়ে নেওয়ার উপক্রম হয়েছে। ঘরে খাবারদাবারের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই বিকালে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাব।’

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব জানান, জেলার ৮০৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে নলটোনা, পালের বালিয়াতলী, কালমেঘা, রামনা এবং কালিকাবাড়ী নামক ৫টি জায়গায় প্রায় এক কিলোমিটার বাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ আছে। এসব এলাকায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জিও ব্যাগ এবং সিনথেটিক ব্যাগ মজুদ আছে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মুহা. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে আছি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে মাইকিং করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ‘দুপুরের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে না গেলে বিকাল থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করা হবে। এ ছাড়া জেলার পায়রা-বিষখালী নদীতে ১৪টি খেয়া পারাপার বন্ধ করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা