× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিয়ানীবাজারে এত প্রার্থী আওয়ামী লীগের!

আব্দুল ওয়াদুদ, বিয়ানীবাজার (সিলেট)

প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৪ ০৯:৫৭ এএম

আপডেট : ২৬ মে ২০২৪ ১০:৩৫ এএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

‘ভাই, প্রার্থী হখলর সামনে পড়তে লজ্জা লাগে, কিতা কইতাম তারারে? কেউ কইরা জীবনের শেষ ভোট, আবার কেউ কইরা জীবনের প্রথম। আমরা কারে ভোট দিতাম? সভাপতি-সম্পাদকের উচিত আছিল আলোচনা করিয়া একজন প্রার্থী হয়া, এখন আমরা শ্যাম রাখি না কুল রাখি?’ 

ক্ষোভ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতা। তার কথা থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, স্থানীয় নেতাকর্মীরা নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছেন। সরকারি দলের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ায় এবং বিরোধী কোনো দলের কোনো শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় সেখানে এ অবস্থা দেখা দিয়েছে।

উপজলো পরিষদের ষষ্ঠ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে বিয়ানীবাজারে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৯ মে। এ উপলক্ষে চলছে প্রচারাভিযান, গণসংযোগ আর উঠান বৈঠক। এ নির্বাচন এবার দলীয়ভাবে হচ্ছে না। তাই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো একক প্রার্থী নেই। যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের মধ্যেও তেমন জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আবার নির্বাচনটি নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিলেও এতে বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ নেই।

প্রার্থী হয়েছেন যারা

বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৯জন প্রার্থী। এদের মধ্যে আটজনই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। এদের মধ্যে সাতজনই আবার দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদধারী প্রভাবশালী নেতা। 

এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেনÑ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান (টেলিফোন), সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল (মোটরসাইকেল), যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাশেম পল্লব (হেলিকপ্টার), সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারি কলেজের সাবেক সহসভাপতি জাকির হোসেন (কই মাছ), উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা শাখার সদস্য আব্দুল বারী (দোয়াত কলম), উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান জামাল হোসেন (আনারস), যুবলীগ নেতা ও লাউতা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন (শালিক পাখি), প্রভাষক জহির উদ্দিন (ঘোড়া) ও বিএনপি ঘরানার মো. জাকির হোসেন সুমন (কাপ পিরিচ)। 

কার অবস্থান কেমন

আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে সভাপতি আতাউর রহমান খান দলীয় মনোনয়নে ২০১৪ সালের উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ছাত্রলীগ নেতা আবুল কাশেম পল্লবের কাছে হেরে যান। 

চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রায় সবাই উঠে এসেছেন ছাত্ররাজনীতি থেকে। তাই উপজেলাজুড়ে তাদের যেমন পরিচিতি রয়েছে, তেমনি রয়েছে নিজস্ব কর্মী-সমর্থক ও অনুসারী। 

চেয়ারম্যান প্রার্থী স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল দলীয় পদের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের স্থানীয় এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। 

জাকির হোসেন এর আগে ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত হোন। আরেক প্রার্থী ছাত্রলীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতা আব্দুল বারী, যুবলীগ নেতা ও লাউতা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন এবার প্রথমবারের মতো প্রার্থী হয়েছেন। 

অপর দুই প্রার্থীও নির্বাচনে নতুন মুখ। জহির উদ্দিন বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের খণ্ডকালীন প্রভাষক ও সাংবাদিক। তিনিও আওয়ামী লীগ ঘরানার। 

আওয়ামী লীগ ঘরানার বাইরে একমাত্র প্রার্থী হচ্ছেন জাকির হোসেন সুমন। তিনি প্রবাসী। ২০১৬ সালে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে মাথিউরা ইউপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।

বিব্রত দলের নেতাকর্মীরা 

এদিকে দলের অন্য গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের পাশাপাশি উপজেলা কমিটির বিশেষত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উভয়েই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন সাধারণ সংগঠক ও কর্মী-সমর্থকরা। অনেক নেতা উপজেলা সদরে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। কারণ প্রার্থীদের মুখোমুখি হতে চান না তারা।

নাম প্রকাশ না করে উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দলের মধ্যে যে কারও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, গুরুত্বপূর্ণ সব নেতাই প্রার্থী হওয়ার মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত হলো। এটা দলের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। নির্বাচন মানে তো উৎসবও। কিন্তু এখানে নেতাকর্মীরা প্রচারাভিযানে যুক্ত হওয়ার উৎসাহই পাচ্ছেন না। তারা এ-ও মনে করছেন, বিরোধী দল নির্বাচনে না আসায় এবারের নির্বাচনে প্রার্থী যেমন আওয়ামী লীগের, ভোটারও তেমনই আওয়ামী লীগের। সুতরাং ভোট ভাগাভাগি যেমন, তেমনি হানাহানি মারামারি যদি হয়Ñ সেসবও হবে দলের মধ্যে। তারা বলছেন, বিয়ানীবাজার আওয়ামী লীগ এখন ছয় খণ্ডে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। নির্বাচনের পরও এই বিভাজনের জের রয়ে যেতে পারে। যা দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। 

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান খান বলেন, ‘এটা তো দলীয় নির্বাচন নয়। তাই দলের যে কেউই ভোটে দাঁড়াতে পারে। তা ছাড়া জনগণ আমাকে চাচ্ছে। তাদের সম্মান জানাতেই আমি নির্বাচন করছি। এটি আমার শেষ নির্বাচন। আশা করি মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।’

উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও দলের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল বলেন, ‘নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, এখানে একাধিক প্রার্থী থাকবেই। দীর্ঘ দিন থেকে মানুষ আমাকে উপজেলা নির্বাচন করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরাও আমাকে নির্বাচন করতে বলেছেন। তাদের জন্যই আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। 

আঞ্চলিকতা প্রভাব ফেলতে পারবে না

এদিকে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিভিন্ন নির্বাচনে আঞ্চলিকতার প্রভাব দেখা গেলেও এবার বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে তেমন কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। কারণ যেসব এলাকার প্রার্থীদের নিয়ে আঞ্চলিকতা দেখা দেয়, সেসব এলাকায় এবার কোনো একক প্রার্থীই নেই। গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীরা প্রায় সবাই পৌরসভা, পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল থেকেই প্রার্থী হয়েছেন। তবে নির্বাচনে সম্প্রদায়গত প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।

বিয়ানীবাজারে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ৬১৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮৩ হাজার ৮৪৪ জন আর নারী ৮৬ হাজার ৭৭১ জন। এখানে ভোট কেন্দ্র মোট ৮৯টি । 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা