উপজেলা নির্বাচন
ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৪ ১৬:৪১ পিএম
আপডেট : ২৪ মে ২০২৪ ১৬:৪৩ পিএম
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র সংলগ্ন হাট এলাকার আতঙ্কিত লোকজন। প্রবা ফটো
ভোটের আমেজ উপভোগ করতে একই সঙ্গে ঘর মেরামতের কাজ করাতে চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে এসেছেন চাকরিজীবী মোহম্মদ আলম। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গ্রামের কেন্দ্রে তার সমর্থিত প্রার্থী ভোটের ফলাফলে এগিয়ে থাকায় উল্লাস করেছিলেন তিনি। অবশেষে তার প্রার্থী ভোটের সমষ্টিগত ফলাফলে হেরে যান। পরদিন সকালে বাড়ি থেকে নাশতা করে স্থানীয় গঞ্জে যায় ঘর নির্মাণ শ্রমিকের খোঁজে। এ সময় তাকে আটক করে বিজয়ী প্রার্থীর কয়েকজন কর্মী মারধর শুরু করে এবং সকালের ভরা বাজারে গায়ের জামা ছিঁড়ে নেয়।
বুধবার সকাল ১০টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকার বালিয়া হাটে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার দিন দুপুরে ওই গ্রামে গেলে সাংবাদিকদের নির্যাতিত আলম এভাবেই ঘটনার বর্ণনা করেন।
আলম বলেন, সকাল থেকে বিজয়ীদের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, পরাজিতের সমর্থকদের উপহাস করা হচ্ছে। আমি কিছু মনে করিনি। কারণ আমি গ্রামের ছেলে হলেও চাকরির সুবাদে বাইরে থাকায় এখানকার ভোটার নই। আমার ভোট বাইরে। কোনো রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত নই। নির্বাচনের দিন পছন্দের প্রার্থীর জন্য শুভকামনা থেকেই আনন্দ করা। এর জন্য আমাকে এভাবে লাঞ্ছিত হতে হবে ভাবতেও পারিনি।
আলমের স্ত্রী বকুল আক্তার বলেন, আমি ঘটনাটা শোনার পরে স্থানীয়দের নিয়ে বাজারে যাই। হামলাকারী বিজয়ী প্রার্থীর কর্মী মন্টুকে ভাই সম্বোধন করে জানতে চাই। তিনি অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন। এতে করে আমার সঙ্গে থাকা অন্য নারীরা প্রতিবাদ করলে সে একটা ছুরি বের করে আমার সঙ্গে থাকা এক নারীর পেটে ঠেকিয়ে দেয়। এমন অবস্থায় আমরা আতঙ্কিত হলে স্থানীয় বাজারের লোক তাকে আটকে রাখে। পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা এমন ঘটনাকে ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় এবং সমাজের বিশৃঙ্খলা রোধে নতুন প্রজন্মের মানসিক চিন্তার উন্নয়নে সঠিক বিচারের দাবি করেন।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মোবারক আলী বলেন, ভোটে জয়-পরাজয় থাকবে। ভোটের পরে এমন মারধরের ঘটনার দায় কে নিবে? তাই অতি উৎসাহী হয়ে নিজেদের গ্রামের শান্তি নষ্ট করার কোনো মানেই হয় না। আমরা চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। তিনি যেন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখেন।
স্থানীয় কলেজছাত্র রাব্বি বলেন, নির্বাচনে আমার পছন্দের প্রার্থী থাকতে পারে। তিনি হেরে যেতেও পারেন। তাই বলে নির্বাচন শেষেও এমন আচরণ কাম্য নয়। এমন চিত্র আতঙ্কের। দোষীকে আইনের আওতায় না আনা গেলে তারা আরও বেপরোয়া হবে।
আলফা বেগম নামে এক নারী বলেন, ঘটনার পর থেকে গ্রামে বন্দি হয়ে ছিল মানুষ। কেউ বাজারে যাওয়ার সাহস করেনি। আমরা আতঙ্কিত ছিলাম। পরে পুলিশ এলে আমাদের কিছুটা ভয় কেটেছে। সমাজের এসব স্পর্ধা থামানো না গেলে অপরাধ বাড়বে। বড় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হয়ে যেতে পারে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক এসআই পিযুষ। তিনি বলেন, এক ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর স্থানীয় চেয়ারম্যান ও তার অভিভাবকগণ থানায় এসে তাকে নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে বেগুনবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. বনী আমিন বলেন, ঘটনা ঘটার পর আমি ওখানে গেছি। পরে থানা থেকে ছেলেটাকে নিয়ে এসেছি।
২১ মে সদর উপজেলা নির্বাচনে ৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ উপজেলায় মোটরসাইকেল মার্কায় উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে মোশারুল ইসলাম সরকার ১ লাখ ৬ হাজার ৬৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস মার্কায় অরুণাংশ দত্ত টিটো ৯২ হাজার ৪২৪ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে জেলায় ৪৫.৫২% ভোট পড়েছে।