উপজেলা নির্বাচন
লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৪ ১১:৪২ এএম
আপডেট : ২৪ মে ২০২৪ ১১:৫৩ এএম
বৃহস্পতিবার (২৪ মে) রাতে জেলা শহরের টাউন হলে বাবার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন মেয়ে জেসমিন আক্তার। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মিথ্যা মামলায় মেয়েজামাইকে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৩ মে) রাতে জেলা শহরের টাউন হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাবার বিরুদ্ধে মেয়ে জেসমিন আক্তার এ অভিযাগ করেন।
ভুক্তভোগী জামাইয়ের নাম মো. মহিন। অভিযুক্ত শ্বশুরের নাম আনল হক। তারা কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের উত্তর চরমার্টিন গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
জেসমিন আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী মহিন, ভাশুর ও দেবররা নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক আহসান উল্যা হিরণের (আনারস) সমর্থক ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন। কিন্তু আমার বাবা আনল হক উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহর (মোটরসাইকেল) ভোট করেন। আমার বাবা চেষ্টা করেছেন মহিনকে তাদের সঙ্গে ভেড়াতে। এতে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। এর জেরেই সাজানো ঘটনায় মামলা দিয়ে মহিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মহিনের সঙ্গে আরও তিনজন কারাগারে আছেন।’
জেসমিন আরও বলেন, ‘৮ মে উপজেলা পরিষদের ভোট হয়। এদিন আমার বাবা এবং স্বামী-ভাশুর-দেবরদের মধ্যে হাতাহাতি ঘটে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ১৫ মে কমলনগর থানায় আমার স্বামী-ভাশুর-দেবরদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় উল্লেখ করেন যৌতুকের জন্য মহিন আমাকে নির্যাতন করেন এবং বাবার বাড়িতে যেতে দিচ্ছেন না। ঘটনাটি মিথ্যা। বাবা আমার সংসার ভাঙতে চাচ্ছেন। চার বছর আগে পারিবারিকভাবে আমাদের বিয়ে হয়েছে। কখনও মহিন আমাকে নির্যাতন করেননি। যৌতুকও দাবি করেননি। আমি স্বামীর সংসার করতে চাই।’
সংবাদ সম্মেলনে জেসমিনের শাশুড়ি নাছিমা আক্তার, ভাশুর নাছির উদ্দিন, স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু ছিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, জেসমিনের স্বামী মহিনসহ ভাশুর নাছির উদ্দিন, মো. মনির ও মো. খোকন, আত্মীয় সবুজ ও মো. কালুকে আসামি করে আনল হক মামলা করেন। বিবাদীরা ১৯ মে আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত নাছির ও কালুর জামিন দিয়ে বাকিদের কারাগারে পাঠান।
এ ব্যাপারে আনল হক বলেন, ‘নির্বাচন দ্বন্দ্বের ঘটনা মিথ্যা। আমাকে আসামিরা মেরেছে। আমি রক্তাক্ত জখম হয়েছি। এজন্য আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। জেসমিন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু ছিদ্দিক বলেন, আনল হক মামলায় যে ঘটনা উল্লেখ করেছেন তা সত্য নয়। নির্বাচন কেন্দ্র করেই কথা কাটাকাটি হয়। আনল হকের সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় তিনি এখন সাজানো ঘটনায় মামলা করেছেন। তিনি নিজের মেয়ের সংসারও ভাঙতে চান।